সেবা প্রকাশনীর ৫৫ বছর

সেবা প্রকাশনীর ৫৫ বছর

মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দার মতো জনপ্রিয় সিরিজের প্রকাশক সেবা প্রকাশনী৷ কম দামে রোমাঞ্চে ভরপুর কাহিনি পড়িয়ে কিশোর-কিশোরীদের পাঠক হিসেবে গড়ে তুলেছেন সেবার প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেন৷

১৯৬৪ সালে ঢাকার তৎকালীন সেগুনবাগানে (বর্তমানে সেগুনবাগিচা) সেবা প্রকাশনীর যাত্রা শুরু৷ বাবা শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা নিয়ে প্রকাশনা ব্যবসায় নেমেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন৷

‘সেগুন’-এর ‘সে’ আর ‘বাগান’এর ‘বা’ থেকে সেবা নামটি এসেছে৷ এই ৫৫ বছরে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ২,৪৪৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে৷

১৯৬৪ সালের জুনে ‘কুয়াশা-১’ বইটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সেবা প্রকাশনী ও থ্রিলার লেখক হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেনের যাত্রা শুরু হয়৷ এই বইটিসহ কুয়াশা সিরিজের সত্তরটির বেশি বই বের হয়েছে৷

১৯৬৬ সালে ‘ধ্বংস পাহাড়’ নামে মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই বের হয়৷ কাপ্তাই বাঁধ রক্ষা নিয়ে বইটির কাহিনি গড়ে উঠেছিল৷ ওই বাঁধ রক্ষার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এজেন্ট মাসুদ রানা৷ ছবিতে সেবা প্রকাশনীর অফিস দেখতে পাচ্ছেন৷

মাসুদ রানা সিরিজের সবশেষ প্রকাশিত বই ‘অন্তর্যামী’৷ এটি এই সিরিজের ৪৫৯তম বই৷ কাজী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সহযোগী লেখক হিসেবে ছিলেন ইসমাইল আরমান৷ অর্থাৎ, আজও বাংলা সাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী থ্রিলার নায়ক হয়ে আছেন মাসুদ রানা৷

ছোটবেলায় কিশোর পাশার মতো হতে চাননি এমন ক’জন আছেন? ১৯৮৫ সালে তিন গোয়েন্দা সিরিজের প্রথম বই বের হয়৷ এরপর কিশোর পাঠকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সিরিজের তিন কিশোর গোয়েন্দা– কিশোর পাশা, মুসা আমান ও রবিন মিলফোর্ড৷ শুরুতে বিখ্যাত ইংরেজি গোয়েন্দা সিরিজ ‘দ্যা থ্রি ইনভেস্টিগেটর্স’ অবলম্বনে বইগুলো লেখা হতো৷ লেখক ছিলেন রকিব হাসান৷ ছবিতে সেবা প্রকাশনীর প্রিন্টিং প্রেস দেখা যাচ্ছে৷

কুয়াশা, মাসুদ রানা এবং তিন গোয়েন্দা ছাড়াও সেবা প্রকাশনী থেকে বিভিন্ন সময়ে বের হওয়া অন্যান্য সিরিজের মধ্যে আছে অয়ন-জিমি সিরিজ, কিশোর হরর সিরিজ, গোয়েন্দা রাজু সিরিজ, রোমহর্ষক সিরিজ, অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ, অনুবাদ সিরিজ, কিশোর ক্লাসিক সিরিজ, রোমান্টিক সিরিজ, ওয়েস্টার্ন সিরিজ ও আত্মউন্নয়ন সিরিজ৷

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরিতে যোগ দেয়া তানিয়া ইদ্রিস ১৯৯৮ সালে প্রথম তিন গোয়েন্দা পড়েছিলেন৷ রকিব হাসান যতদিন তিন গোয়েন্দা লিখেছেন ততদিন তিনি তার পাঠক ছিলেন৷ এখন ওয়েস্টার্ন আর অনুবাদের পাঁড় ভক্ত তিনি৷ তানিয়া মনে করেন, সেবার অনুবাদ এখনো সেরা৷ অবশ্য তার ছোট ভাই এখন আর সেবা পড়ে না বলে জানান তিনি৷ তাই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে সেবাকে নতুন সময়ের চাহিদাকে মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তানিয়া৷

ওয়েস্টার্ন সিরিজের লেখক রওশন জামিল সেবার জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, লেখকরা সবসময় পাঠকের কথা বিবেচনা করেছে৷ ‘পুরো বিষয়টাই ছিল পাঠকমুখী৷ আমরা নিজেরাও যেহেতু পাঠক ছিলাম, ওই বয়সটা পার হয়ে এসেছি, আমরা কী পছন্দ করতাম, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে লিখতাম,’ বলেন তিনি৷ এছাড়া পাঠকদের পরামর্শও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো বলে জানান রওশন জামিল৷

২৪ বছর ধরে সেবায় কাজ করছেন মমিনুল ইসলাম৷ তিনি বর্তমানে সেবা প্রকাশনীর ম্যানেজার৷ তিনি বলছেন, পাঠকের কাছে সেবার বইয়ের চাহিদা কমেনি৷ ‘এখনো প্রতিমাসে ২৫ হাজার কপির মতো রহস্যপত্রিকা বের হয়৷ মাসুদ রানার জনপ্রিয়তাও সমান রয়েছে,’ বলে জানান তিনি৷ অবশ্য মানসম্মত বই প্রকাশ করতে গিয়ে বইয়ের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলেও জানান মমিনুল ইসলাম৷

বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের পাঠক হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে সেবা প্রকাশনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে৷ আর সেবা প্রকাশনী মানেই কাজী আনোয়ার হোসেন৷ মাসুদ রানা চরিত্র সৃষ্টি ছাড়াও তিন গোয়েন্দা, অনুবাদ, কিশোর ক্লাসিক ও আত্মউন্নয়ন সিরিজের বইয়ের লেখক তিনি৷ এছাড়া তার সম্পাদনায় এখনো নিয়মিত রহস্যপত্রিকা প্রকাশিত হয়ে আসছে৷ কাজী আনোয়ার হোসেন ছাড়াও বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম ব্যবহার করে থাকেন তিনি৷

মাসুদ রানা সিরিজের অনেক গল্প বিদেশি লেখকদের বই থেকে নেয়া৷ তাই বইয়ের উপর সাধারণত ‘বিদেশি গল্পের ছায়া অবলম্বনে’ কথাগুলো লেখা থাকে৷ তবে অনেকের অভিযোগ, এভাবে লিখিত হলেও সব বইয়ে এ কথাগুলো লেখা থাকে না৷

কিশোর হরর এর মোট ৩৮টি বই বের হয়েছে, যার ২৭টি বই ৯টি ভলিউম আকারে বের হলেও বাকিগুলো নিয়ে কোন ভলিউম বের হয় নি।

কিশোর হরর সিরিজের বইসমূহ
অতৃপ্ত প্রেতাত্মা – তিয়ানাদের স্কুলে বার্ষিক নাটক মঞ্চস্থ হতে চলেছে। নাটকের নাম ‘প্রেতাত্মা’। কিন্তু রিহার্সাল আরম্ভ হতেই ঘটতে লাগল একের পর এক রহস্যময় ঘটনা।

বৃক্ষমানব – ঢাকা ভার্সিটির উদ্ভিদবিজ্ঞানের প্রফেসর ড. রাইয়ান মাহমুদ। গোগ্রাসে কি গিলছেন তিনি? গাছের খাবার?

অভিশপ্ত ক্যামেরা – রহস্যময় ‘সাদা বাড়ির’ তলকুঠুরিতে পাওয়া আজব ক্যামেরায় উল্টোপাল্টা ছবি উঠছে কেন? যার ছবি তোলা হচ্ছে তারই অমঙ্গল হচ্ছে যে!

জীবন্ত মমি – মামার কাছে জ্যোতি শুনল প্রাচীন এক মন্ত্র পরপর পাঁচবার আওড়ালে মমি জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাই করল ও। তারপর?

তান্ত্রিকের কবলে – গভীর জঙ্গলের মধ্যে একটা জীর্ণ কাঠের ঘর। সেই ঘরটার চারদিকে ঘুর-ঘুর করছে ভয়ঙ্কর-দর্শন দুটো কুকুর। গভীর জঙ্গলে কুকুর? অবিশ্বাস্য! কুকুর দুটো ছায়ার মত অনুসরণ করে ফিরছে কেন বন-কর্মকর্তার ছেলে-মেয়ে দীপ্ত আর নিশুকে? কেন ওদেরকে নিয়ে আসতে চাইছে জীর্ণ ঘরটার কাছে?

পাশের বাড়ির ভুত – আঁচলদের পাশের বাসা ভাড়া নিয়েছে সৌরভরা। নতুন বাসায় কখন এসে উঠল ওরা, আঁচল জানে না। জানেন না ওর বাবা-মাও। এ কি করে হয়? সৌরভ কি সত্যি রক্ত-মাংসের মানুষ?

অদৃশ্য বন্ধু – শূন্যে ভাসছে পাউরুটি! অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে! কেউ খাচ্ছে ওটা, কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছে না কেন? কণ্ঠটা ভেসে আসছে কোত্থেকে? তাহলে কি ইমরান কোন অশরীরীর পাল্লায় পড়েছে?
জাদুর ঘড়ি – দিনগুলো যদি পিছিয়ে যায়, যদি তুমি ছোট হয়ে যাও ধীরে ধীরে, কেমন হবে তাহলে? রাজার বয়স কমছে, ছোট হয়ে যাচ্ছে ও। অদ্ভুত, তাই না?

অলৌকিক শক্তি – হরর গল্প লিখতে পছন্দ করে সৌধ। ওর ইচ্ছে বড় হয়ে নামকরা হরর লেখক হবে। একটা গল্প মনে মনে সাজাচ্ছে সে, নাম: ভয়াল দানবের খপ্পরে। এর মাঝে একটা পুরানো টাইপরাইটার কিনে আনল সৌধ। সাথে বোনাস হিসেবে পেল একটা পুরানো কলম। টাইপ মেশিন আর কলমটার মালিক ছিল এক জাদুকর। ‘ভয়াল দানবের খপ্পরে’ গল্পটা এই কলম দিয়েই লিখল সৌধ। তারপর বসে পড়ল টাইপরাইটার নিয়ে। টাইপ করবে। কিন্তু জানে না সৌধ, কি ভয়ঙ্কর বিপদে পড়তে চলেছে সে।

নেকড়ে মানব

পিরামিডের আতঙ্ক

আয়নার ওপাশে

জল্লাদের হাসি – বাবা-মার সাথে সোনারগাঁ বেড়াতে এসেছে যমজ ভাইবোন দিপু ও নিতু। উদ্দেশ্য ইসা খাঁর ঐতিহাসিক সোনারগাঁ দর্শন। কুখ্যাত এক জমিদার বাড়ি দেখতে এসে ভয়ঙ্কর বিপদে পড়ে গেল ওরা। একশো বছর আগে গরীব, নিরীহ প্রজা মারার কারখানা ছিল এই জমিদার বাড়ি। বিশাল, রহস্যময় জমিদার বাড়ির মধ্যে দলছুট হয়ে পড়ল দিপু ও নিতু। ওদের সামনে এসে দাঁড়াল ভয়ঙ্কর-দর্শন এক লোক। বজ্রপাতের মত গর্জে উঠল তার কণ্ঠ, ‘আমার সঙ্গে যেতে হবে তোমাদের!’

সাগর বিভীষিকা
সেই অভিশপ্ত ক্যামেরা – সাদির সেই অভিশপ্ত ক্যামেরাটার মালিক এখন জ্যোতি। উপম দুষ্টুমি করে তুলল জ্যোতির ছবি। ব্যস, শুরু হলো দুঃস্বপ্নের পালা। মোটা হতে হতে চারটে জ্যোতির সমান হয়ে গেছে জ্যোতি।

ভুতুড়ে সৈকত
ভয়ানক দুঃস্বপ্ন – সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সামুদ্রিক মাছ ও উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণারত মেরিন বায়োলজিস্ট চাচা ওখানে বেড়াতে যাওয়ার আহবান জানালেন ভাইপো উপমকে। আর পায় কে! উপমের সাথে জুটে গেল জ্যোতি আর রাজা। ছুটল। তারপর- শুরু হলো একের পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। দুঃস্বপ্ন আর দুঃস্বপ্ন। হাঙরের মুখে পড়ল জ্যোতি। জানে মৃত্যু সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু- হঠাৎ, ওটা কি!

রাত্রি যখন গভীর

অগ্নিপরীক্ষা

বিপদের মুখোমুখি

আতঙ্কের রাত – ফিস্‌ফিস্‌ শব্দ শোনা যায়-কে কথা বলে? করুণ কান্না শোনা যায়-কে কাঁদে? পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়- কে হাঁটে? বাড়িটাকে ঘিরে থম্‌থম্‌ করছে রহস্য। হরর ক্লাব-সদস্যরা কি পারবে রহস্যের সমাধান করতে?
ঘুমালে বিপদ – একদিন ঘুম থেকে জাগার পর দেখা গেল উপম আর উপম নেই, হয়ে গেছে আর কেউ। একের পর এক অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে, যার জন্যে দায়ী ঘুম।

আরেক পৃথিবী

ড্রাকুলার নিঃশ্বাস

বেড়ালের কান্না

মমির অভিশাপ – ‘বাঁ-বাঁ-চা-ও!’ গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম আমি। অমনি মুঠো আলগা করল মমি। গজ মোড়া হাত সরিয়ে নিল। এক পা পিছিয়ে গেল। হেসে উঠল কর্কশ স্বরে। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার তীব্র আতঙ্কে।

বিপজ্জনক বর্ম

ডাইনীর চোখ – বিবি তাবাসসুমকে অপমান করা উচিৎ হয়নি তিয়ানার। আনন্দ করবে বলে হরর ক্লাব-প্রধানের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিল ও। কিন্তু বিবির এক অভিশাপে সব আনন্দ গেল মাটি হয়ে: ‘- আমি তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি- সারা জীবন ভয়ে তটস্থ থাকতে হবে তোমাকে!’ বিবির কথা হেসে উড়িয়ে দিল ও। তখন কি আর জানত তিয়ানা, যাকে অবহেলা করছে সে মারা গেছে আজ থেকে বিশ বছর আগে! এবং সে ছিল এক শয়তান বেদে-রানী!!

অদৃশ্য আততায়ী – জ্যোতির বন্ধু এলেন মারা গেছে। ওর ভিডিও ক্যাসেটটা এখন জ্যোতির হাতে। ওটা পাওয়ার পর থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটতে শুরু করল। ঘটনা নয়, দুর্ঘটনা!

জিন্দালাশ

রত্নগড়ের রহস্য

আকাশপ্রেত

অজানা আতঙ্ক

নকল জ্যোতি – দোকান থেকে কলম চুরি করেছে জ্যোতি। দোকানি দেখেছে। স্কুলের ক্লাস তছনছ করেছে জ্যোতি। মৌরি দেখেছে। অকারণে অনিমেষ মাঝিকে গাল দিয়েছে জ্যোতি। অনেকেই দেখেছে। কিন্তু জ্যোতি এসব কিছুই করেনি। তাহলে কি ‘আরেকটা জ্যোতি’ ঘটাচ্ছে এসব অপকর্ম?

কবরের আতঙ্ক

ভিনগ্রহের ভয়ঙ্কর

ভয়াল জন্তু

গোলক রহস্য – ছুটিতে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছে হরর ক্লাবের সাত সদস্য। টিরা নামের রহস্যময় এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হলো ওদের। বাবা কী কাজ করেন, জানে না সে। বাসা কোথায় বলতে চায় না। রহস্যের গন্ধ পেয়ে গেল জ্যোতিরা। একদিন টিরা একটা লেকের কাছে নিয়ে গেল হরর ক্লাব সদস্যদেরকে। সেখানে আজব এক দৃশ্য দেখল ওরা। ওদের গজ পঞ্চাশেক সামনে, মাটি থেকে দশ গজ উপরে ফুটবলের মত কিছু আলোর বল ভেসে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন রঙের বল। সাদা, হলুদ, লাল, কমলা! কী ওগুলো?

প্রধান চরিত্রসমূহ
জ্যোতি
তিয়ানা
ঊর্মি
রাজা
উপম
ইমরান
সৌরভ

তিন গোয়েন্দায় রূপান্তর
তিন গোয়েন্দায় ভাল মানের কাহিনির অভাবে এবং রকিব হাসান তিন গোয়েন্দা লেখা ছেড়ে দেওয়ায় সেবা প্রকাশনীর অন্যান্য অনেক সিরিজের মত কিশোর হররের অনেক বই তিন গোয়েন্দায় রূপান্তর করা হয় এবং তিন গোয়েন্দা ভলিউমে যোগ করা হয়।

গোয়েন্দা রাজু সিরিজ
শিশুদের জন্য রচিত গোয়েন্দা সিরিজ। লেখক আবু সাঈদ। প্রথম বই “মামার মন খারাপ”। বর্তমানে বন্ধ। তবে এই সিরিজ বেশ জনপ্রিয় হয়। উল্লেখ্য যে, লেখক আবু সাঈদ, রকিব হাসানেরই ছদ্মনাম।

রোমহর্ষক সিরিজ
এটি একটি কিশোর সিরিজ। জাফর চৌধুরী রচিত। বর্তমানে বন্ধ। উল্লেখ্য যে, লেখক জাফর চৌধুরীও, রকিব হাসানেরই ছদ্মনাম।

অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ
এটি একটি কিশোর সিরিজ। জাফর চৌধুরী রচিত। বর্তমানে বন্ধ। উল্লেখ্য যে, লেখক জাফর চৌধুরীও, রকিব হাসানেরই ছদ্মনাম।

অনুবাদ সিরিজ
বিদেশী ভাষায় রচিত বইগুলোর অনুবাদ প্রকাশিত হয় এ সিরিজে। অনুবাদকদের মধ্যে কাজী আনোয়ার হোসেন, রকিব হাসান, শামসুদ্দীন নওয়াব, শেখ আব্দুল হাকিম, খসরু চৌধুরী, নিয়াজ মোর্শেদ উল্লেখযোগ্য।

কিশোর ক্লাসিক সিরিজ
কিশোরদের উপযোগী বিদেশী বইয়ের অনুবাদ প্রকাশিত হয় এ সিরিজে। বিদেশী ভাষায় রচিত বইগুলোর অনুবাদ প্রকাশিত হয় এ সিরিজে। অনুবাদকদের মধ্যে রকিব হাসান, কাজী আনোয়ার হোসেন, শেখ আব্দুল হাকিম, খসরু চৌধুরী, নিয়াজ মোর্শেদ উল্ল্যেখযৌগ্য।

সেবা রোমান্টিক সিরিজ
১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রেম ও রোমান্স নির্ভর কাহিনী নিয়ে এ সিরিজের বইগুলো। লেখক রোকসানা নাজনীন, খন্দকার মজহারুল করিম, শেখ আব্দুল হাকিম, শাহেদ ইকবাল।

সেবা ওয়েস্টার্ন সিরিজ
সিরিজের যাত্রা শুরু ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে। লেখক কাজী মাহবুব হোসেন, রওশন জামিল, শওকত হোসেন। কাহিনী বিষয়বস্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সময়ের বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের বা আউটল’দের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই। কাউবয়দের ওপর নির্মিত এই উপন্যাসগুলি বিদেশী কাহিনী নির্ভর।

আত্মউন্নয়ন সিরিজ
১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশ। আত্নউন্নয়নের সহায়ক বই। লেখক বিদ্যুৎ মিত্র, বিশু চৌধুরী, মহাজাতক, ডাঃ রেজা আহমেদ

প্রকাশিত পত্রিকা
সেবা প্রকাশনী থেকে বর্তমানে প্রকাশিত পত্রিকা মাসিক রহস্যপত্রিকা। রহস্যপত্রিকা এখনও সমান তালে প্রকাশিত হচ্ছে প্রতি ইংরেজি মাসের এক তারিখে। ৪০/= মূল্যমানের এই পত্রিকাটি এখনও জিইয়ে রাখার প্রধান কাজটা পাঠকরাই করেন। সেবার জন্মলগ্ন থেকেই এই পত্রিকার প্রকাশনা চললেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকার পর পুনরায় ১৯৭৪ সাল হতে শুরু হয় এর প্রকাশনা। তাই ১৯৭৪ সালকেই ধরা হয় এর জন্মলগ্ন। এতে বর্তমানের অনেক খ্যাতনামা লেখকই লিখেছেন। এছাড়াও কিশোর পত্রিকা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হত যা বর্তমানে বন্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *