আজ রাতে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবে গোটা বিশ্ব।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

১৫২ বছর পর ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন এক্লিপস’

আজ রাতে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবে গোটা বিশ্ব। একই সঙ্গে আজ দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, সুপার মুন ও ব্লু-মুন বা বিশাল নীল রক্তাভ চাঁদ। শেষবার এমনটা ঘটেছিল ১৫২ বছর আগে। জ্যোতির্বিদরা এ বিরল ঘটনার নাম দিয়েছেন ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন এক্লিপস’ (Super blue blood moon)।

উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া অঞ্চল থেকে দেখা যাবে এ অত্যাশ্চর্য দৃশ্য। চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে, চলবে রাত ১০টা ৮ মিনিট পর্যন্ত। তবে বাংলাদেশ থেকে এ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে হলে আকাশে চাঁদ ওঠা পর্যন্ত, অর্থাৎ সন্ধ্যারাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

একই মাসে দ্বিতীয় বার পূর্ণিমা হওয়ায় আজ চাদের একটি নাম ব্লু-মুন।

আবার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসায় আজ চাঁদ সুপার মুন হবে, যার উজ্জ্বলতা বেশ খানিকটা বেশি হবে। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে আজ চাঁদ প্রায় ৭ ভাগ পর্যন্ত বেশি বড় আর ১৫ ভাগ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল দেখা যাবে।

আর সেই সঙ্গে সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ একই সরল রেখায় চলে আসায় হবে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।

সর্বশেষ এরকম একই সঙ্গে ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ হয়েছিল ১৮৬৬ সালের ৩১শে মার্চ। ফলে প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় পর আবার পৃথিবীবাসী এরকম ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে।

যদিও জোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, একই সঙ্গে চন্দ্রগ্রহণ হওয়ায় চাদের রং হতে পারে খানিকটা রক্তিম ধরণের।

সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছুঁয়ে খানিকটা ছাদে যায়, সেই আলো আবার পৃথিবীতে আসার পথে অন্যসব রঙ হারিয়ে লাল রঙটি এসে আমাদের চোখে পৌঁছায়। এ কারণে আজকের চাঁদ অনেকটা রক্তিম দেখা যাবে, যে কারণে এটিকে ডাকা হচ্ছে ব্লাড ব্লু মুন বলে।’ বলছেন জোতির্বিজ্ঞানী ড. শ্যানন স্কমল।

বিজ্ঞানীরা একে বর্ণনা করছেন ‘সুপার ব্লাড ব্লু মুন’ বলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় যাবে বলা হয় অস্ট্রোনোমিকাল ট্রাইফ্যাক্টা।

বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র জানিয়েছে, ঢাকার স্থানীয় সময় ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁদ দিগন্তের ওপরে ওঠার পর থেকে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে ৬টা ৫১ মিনিটে আর গ্রহণ শেষ হবে ১০টা ৮ মিনিটে।

অনুসন্ধিৎসু চক্র’র জোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি শাহজাহান মৃধা বলছে, ”আদি কাল থেকে পূর্ণিমা ও চন্দ্রগ্রহণের প্রতি মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। একটা সময়ে এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভীতি ও সংস্কার কাজ করতো। এখনো অনেকের মধ্যে এসব সংস্কার আছে। তবে আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে সংস্কার বা ভীতি দূর হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের এখন আর এসব নেই বললেই চলে।”

তিনি বলছেন, ”চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে সংস্কার, খাওয়া না খাওয়া বা অন্য কোনো কিছুর কোনো সম্পর্ক নেই। এটা নিতান্তই একটি নিয়মিত ব্যাপার। পুরো ব্যাপারটা সবার উপভোগের, দেখার একটি বিষয়।”

ঢাকার অনেক স্থানে বিশেষ চাঁদ দেখার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সবাই অংশ নিতে পারবেন

বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে খালি চোখেই আজকের সুপার ব্লু ব্লাড মুন দেখা যাবে। তবে দূরবীন থাকলে হয়তো আরো ভালো ভাবে দেখা যেতে পারে।

এই বিশেষ চাঁদ দেখার জন্য সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অনেক আয়োজন করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকার গ্রিন মডেল টাউন মান্ডায় পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করেছে অনুসন্ধিৎসু চক্র। যেখানে পর্যবেক্ষণ ও ছবি তোলার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্বলিত টেলিস্কোপ, ফটোমিটার থাকবে।

আরেকটি সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি পূর্বাচলের স্বর্ণালি আবাসিক এলাকায় টেলিস্কোপে ও দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে চন্দ্রগ্রহণ দেখার ব্যবস্থা করেছে। সেখানেও সবাই অংশ নিতে পারবেন।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের জাদুঘরে ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে যে কেউ গিয়ে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পারবেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *