Money-deposited-by-Bangladeshis-with-Swiss-banks-increase

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) এক বছরে বাংলাদেশিদের আমানত ১৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশিদের সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ ফ্র্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৫ হাজার ৬শ কোটি টাকা (প্রতি সুইস ফ্র্যাংক ৮৫ টাকা হিসাবে)।

বৃহস্পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সুইস ব্যাংকে টাকা রাখার তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান এবং ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। আমানতের রাখার ক্ষেত্রে এ বছরও প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য।

২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক বছরে বেড়েছে ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ভারতের আমানত অর্ধেক কমেছে। গত বছর দেশটির আমানত ছিল ১২০ কোটি ৬৭ লাখ সুইস ফ্র্যাংক। ভারতের আমানতকারীদের ২০১৬ সাল শেষে সুইস ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ফ্র্যাংক। আর পাকিস্তানের দাঁড়িয়েছে ১৩৮ কোটি ৬০ লাখ ফ্র্যাংক।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ না হওয়ায় পুঁজি পাচার হচ্ছে। আলোচ্য সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের আমানত কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে ২০১৬ সালে মোট আমানতের পরিমাণ কমেছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ৫৫৮ কোটি হিসাবে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে যা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে। এর বাইরে গত দুই অর্থবছরে সুইস ব্যাংকগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।

সুদীর্ঘ সময় ধরে ধনীদের অর্থ গোপনে জমা রাখার জন্য বিখ্যাত সুইজারল্যান্ড। ৮০ লাখ মানুষের এ দেশটিতে ব্যাংক আছে ২৮৩টি। বিশ্বের বড় বড় ধনীরা অর্থ পাচার করে দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে জমা রাখে। ব্যাংকগুলোও কঠোর গোপনীয়তায় তা রক্ষা করে। আগে সুইস ব্যাংকে জমা টাকার কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতো না। এমনকি আমানতকারীর নাম-ঠিকানাও গোপন রাখা হতো। একটি কোড নম্বরের ভিত্তিতে টাকা জমা রাখা হতো। কিন্তু বিশ্বব্যাপী টাকা পাচার রোধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ব্যাপকভাবে কার্যকর করায় আন্তর্জাতিক চাপে সুইস ব্যাংক জমা টাকার তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তারা ওই সময় থেকে বিভিন্ন দেশের জমা টাকার তথ্য প্রকাশ করছে। ওই প্রতিবেদনে কোন দেশের কত টাকা জমা আছে, সে তথ্য তারা প্রকাশ করছে। তবে আমানতকারীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করছে না। ফলে পাচারকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে না। পাচারকারীরা পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *