Sierra-Leone-mudslide-kills-321

সিয়েরা লিওনে ভূমিধস, নিহত ৩২১

পশ্চিম এশিয়ার ছোট দেশ সিয়েরা লিওনে বিশাল ভূমিধসে চাপা পড়ে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৩২১ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৬০ জন শিশু।

ভারী বৃষ্টিতে সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ রাজধানী ফ্রিটাউন সংলগ্ন এসএস ক্যাম্প রিজেন্টে পাহাড়ের একাংশ ধসে চাপা পড়ে গিয়েছে মোরতেমা অঞ্চল।

বেশিরভাগ মানুষই তখন ছিলেন গভীর ঘুমে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন সিয়েরা লিওনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টর বোকাহে ফোহ। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে কমপক্ষে দু’হাজার মানুষ গৃহহীন।

ফ্রিটাউন দিয়ে নদীর মতো বইছে মাটি, পাথরের স্রোত। অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী দেশ হলেও সিয়েরা লিওনেতে নিকাশি ব্যবস্থার দুর্দশার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। তার ফলেই এই সমস্যা বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সঙ্গেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে রেড ক্রসও। কিন্তু ভারী বৃষ্টি এবং ধসে উদ্ধারে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

উদ্ধারকারীরা জানান মাউন্ট সুগারলোফে পাদদেশের অবস্থিত ঘরগুলি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন। এর মধ্যেই নিজেদের অবশিষ্ট গৃহস্থালির সরঞ্জাম, পরিজনদের সন্ধানে মাটি, পাথরের স্তুপ সরিয়ে খোঁজ চালাচ্ছেন গৃহহীন মানুষরাও।

রাজধানী ফ্রিটাউনের দুটি হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে স্বজনেরা ভিড় করছেন।

ফ্রিটাউনের কনাউট হাসপাতালের মর্গের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মেদ সিন্নাহ এএফপিকে বলেন, এখন পর্যন্ত তারা ১৮০ জনের মরদেহ গ্রহণ করেছেন। এদের অধিকাংশই শিশু। তবে যে হারে মরদেহ আসছে, তাতে হাসপাতালের মর্গে আর মরদেহ রাখা সম্ভব নয়।

সিন্নাহ আরও বলেন, অনেক মরদেহ বেসরকারি একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের পর সোমবার ফ্রিটাউনের রিজেন্ট এলাকার পাহাড়ধসের ঘটনায় এ হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ধসের কারণে অনেক ঘর সম্পূর্ণরূপে কাদায় ঢেকে গেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই হতাহতের সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। মৃতদেহ উদ্ধারে কাজ চলছে।

বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, সোমবার বৃষ্টির পর ভুমিধসের সময় অনেক লোক ঘুমিয়ে ছিলেন।

দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টর বোকারি ফো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সম্ভবত শত শত মৃতদেহ মাটির নিচে পড়ে আছে। এ দুর্যোগ এতটাই গুরুতর যে আমি নিজেই ভেঙে পড়েছি। আমরা ওই এলাকা ঘিরে রেখে দুর্গত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছি।’

টুইটারে পোস্ট করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ফ্রিটাউনের ওই এলাকা রাস্তা কর্দমাক্ত। অনেক জায়গায় কোমর পর্যন্ত কাদা-জলে মানুষকে আটকে থাকতে দেখা গেছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *