সিরাজগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১৭, আহত ৫০

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলিবাড়ি এলাকায় দুটি বাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলিবাড়ি এলাকায় দুটি বাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন।সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলিবাড়ি এলাকায় দুটি বাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাস দুটির চালকও রয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন।

রোববার ভোর পাঁচটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত ৫০ জনকে সিরাজগঞ্জ সদর আবাসিক হাসপাতালে ভর্তি করার পর ১৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ায় পাঠানোর পথে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী তাহেরা বেগম মারা যান।

তাহেরা ছাড়াও নিহতদের মধ্যে আরও চারজনের নাম জানা গেছে।

তারা হলেন- আজাদ পরিবহনের চালক গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মেনহাজ প্রধান, একই উপজেলার মোহাদিপুর গ্রামের লিটন, গাইবান্ধা সদরের সবুজ, বগুড়ার দুপচাচিয়া উপজেলার চামুর গ্রামের জিল্লুর রহমান।

এছাড়া জেলা শহরের কমিউনিটি ক্লিনিক, আভিসিনা ক্লিনিক, মেডিনোভা ক্লিনিক, মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকেও দুর্ঘটনায় বাকি আহতরা ভর্তি আছেন।

বগুড়ায় যাদের পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কেতাবগাঁও গ্রামের কাওসার, একই জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শাহপাড়ার নেপাল চন্দ্র, দিনাজপুরের ফুলবাড়ির পাড়ইপাড়ার আসলামুজ্জামান, সদরের সামাদ, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বেলাল ও রাজ্জাক, বগুড়ার ধুনটের ইব্রাহিম, একই এলাকার ইনসাফ আলী, শিবগঞ্জ উপজেলার ভানুপুরের মন্টু ও ভাটরা গ্রামের আবদুস সালাম, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পরাটারি গ্রামের কবির ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচির কৃষ্ণ, শহিদুল, আমিনুল ইসলাম, মেহেরাব, অজ্ঞাত একজন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম থেকে রংপুরগামী ‘সাবির হোসেন পরিবহন’ এবং গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী ‘আজাদ পরিবহন’ এর বাস দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

হতাহতদের উদ্ধারে সকাল ৮টা পর্যন্ত কাজ করে সেতু বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা ও বঙ্গবন্ধু সেতু থানার পুলিশ।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ ও সেতু বিভাগের ট্রাফিক ম্যানেজার মুজাহিদ উদ্দিন ঘটনাস্থল ও সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁজ হাজার টাকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

কমিটির সদস্যরা হলেন-সহকারী জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়া উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেনজন চাম্বুগং, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *