ডাচ বাংলা, ট্রাস্ট ও সিটি ব্যাংকের তথ্য চুরি

ডাচ বাংলা, ট্রাস্ট ও সিটি ব্যাংকের তথ্য চুরি

ডাচ বাংলা, ট্রাস্ট ও সিটি ব্যাংকের তথ্য চুরিবাংলাদেশের তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের ডেটা চুরি করেছে তুরস্কের একটি হ্যাকার দল। তথ্য চুরি যাওয়া তিনটি ব্যাংক হল: ডাচ বাংলা ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংক। মার্কিন সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ডেটা ব্রিচ টুডে’ এ খবর জানিয়েছে।

‘বোজকার্টলার’ নামের একটি হ্যাকরদের একটি দল তথ্য চুরির ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। নেপালের দুটি ব্যাংকের তথ্যও চুরি করেছে তারা। ব্যাংক দুটি হল: বিজনেস ইউনিভার্সাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সানিমা ব্যাংক।

চুরি করা এসব তথ্যের মধ্যে বাংলাদেশের সিটি ব্যাংকের ১১.২ মেগাবাইট, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৩১২ কিলোবাইট ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ৯৫ কিলোবাইট আকারের ফাইল রয়েছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক সাইবার গবেষক বলেন, হ্যাকারদের ফাঁস করা তথ্যে ডাচ বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যাংকিং লেনদেনের ৩১২ কেবি আর্কাইভের রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে কিছু তথ্য থেকে অ্যাডমিনের ইউজার নেম/ পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত কিছু তথ্য তিনি পেয়েছেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে পাবলিক ইন্টারনেট থেকে ব্যাংকের এটিএম ট্রানজেকশন অ্যানালাইজারে ঢুকতে পেরেছিলেন ওই গবেষক।

তিনি বলেন, ‘ওইসব ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড খুবই সহজ (ডিফল্ট)। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ওয়েবসাইটের ঝুঁকি রয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। ফলে ব্যাংটির ইন্টারনেট সার্ভার বা ফাইলে অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’

সিটি ব্যাংকের ১১.২ এমবি তথ্য চুরি হয়েছে। এতে একটি স্প্রেডশিট রয়েছে, যাতে ১০ লাখ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে ডেটা ব্রিচ টুডে। এসব ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে ব্যাংকের গ্রাহকের পরিচয় ও ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সিটি ব্যাংকের সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্যটি ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের।

হ্যাকারদের ফাঁস করা তথ্যে সবচেয়ে কম তথ্য পাওয়া গেছে ট্রাস্ট ব্যাংকের। ব্যাংটির তথ্যের পরিমাণ মাত্র ৯৬ কেবি। এর মধ্যে দুটি স্প্রেডশিট রয়েছে। এতে ইউজার আইডি, ই-মেইল অ্যাড্রেস, ইউজার নেম ও এনক্রিপটেড পাসওয়ার্ড রয়েছে। তথ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্যটি ২০১৫ সালের জুন মাসের।

এসব ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডেটা রয়েছে এমন ফাইল আর্কাইভের লিংক একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে নিয়ে যায় হ্যাকাররা। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে দুই কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ফিলিপাইনে চলে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের কোনো হদিস মিলছে না। এই ঘটনায় পদত্যাগ করতে হয়েছে ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *