‘সিটি নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত না হওয়া লজ্জাজনক’

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন।

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন।তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন। তিনি বলেছেন, ওইদিন সকালে আমি ভোটে কোন বিচ্যুতি দেখিনি। যে কারণে নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুপুরের আগেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে থাকে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব আয়োজিত ডিকাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডিক্যাব সভাপতি মাসুদ করিম ও সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

২৮ এপ্রিলের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগগুলোর পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গিবসন জানান, নির্বাচনের দিন সকালে পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন। যেহেতু তখনও পর্যন্ত সহিংসতার কোনো ইঙ্গিত ছিল না তাই তিনি স্বাগত জানিয়েছিলেন।

২৮ এপ্রিল ভোটের দিন সকাল ৯টা ৫ মিনিটে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম দিনের শেষ সময় পর্যন্ত এভাবেই নির্বাচন চলবে। তবে সকালের পর পরিস্থিতি ক্রমেই পাল্টে যায়। আমরা সবাই জানি যে সকালের পর নির্বাচনে ব্যাঘাত ও হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং এক পর্যায়ে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এসব ব্যাঘাত ও হস্তক্ষেপের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত হবে।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও ব্যাঘাতের প্রমাণ গণমাধ্যমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের পূর্ণ তদন্ত না হওয়া লজ্জার।’

এরআগে গেল মে মাসে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপে সিটি নির্বাচনে অনিয়মের স্বচ্ছ তদন্তের তাগিদ দিয়েছেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেন। আর তারও আগে এপ্রিলেই ওইসব অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে বিএনপি সব আলোচনায় যুক্ত থাকবে বলেও বৃহস্পতিবারের এই আলোচনা সভায় আশা প্রকাশ করেন রবার্ট গিবসন। গত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেছিলেন, ‘যে কোনো ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছে বিএনপি।’

রিপন সেদিন আরো বলেছিলেন, ‘বহির্বিশ্ব চায় বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসুক। আলোচনার মাধ্যমেই এই দুটি বড় রাজনৈতিক দল দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএনপি বার বার সরকারকে আলোচনার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা বিএনপির সেই আহ্বানে ছাড়া দেয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। বাংলাদেশে আমরা বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে চাই। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে। যুক্তরাজ্য এই বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগী হতে চায়।’

অবরোধ ও হরতাল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে উল্লেখ করে তিনি সব পক্ষকে যেকোন সহিংস পথ পরিহারের আহ্বান জানান।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়াকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি আশা করি যে তারা সব আলোচনায় নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র সুসংহত করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *