সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের রায় বুধবার

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায়ের জন্য বুধবার সুপ্রিমকোর্টের কার্যতালিকার ১ নম্বরে রাখা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায়ের জন্য বুধবার সুপ্রিমকোর্টের কার্যতালিকার ১ নম্বরে রাখা হয়েছে।মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায়ের জন্য বুধবার সুপ্রিমকোর্টের কার্যতালিকার ১ নম্বরে রাখা হয়েছে।

সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ৭ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য ২৯ জুলাই ধার্য করে আদেশ দেয়।

আদালতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

৫ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত তিন কার্যদিবসে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান।

এর আগে প্রথমে আসামিপক্ষে গত ১৬ জুন শুনানি শুরু করে ৮ কার্যদিবস ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-জেরা এবং রায় সংক্রান্ত অন্যান্য নথিপত্র (পেপারবুক) উপস্থাপন করেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। এরপর গত ৩০ জুন এবং ১ ও ৭ জুলাই তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগে পঞ্চম আপিল মামলা। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর এ আপিল দায়ের করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ আপিল করেনি।

আলোচিত এই নেতা আপিলে খালাস পাবেন বলে আশা করছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল আশা করছেন, সাসালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সর্বোচ্চ শাস্তিই বহাল রাখবে আপিল বিভাগ।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে তার বিরুদ্ধে আনীত ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বাকি ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। প্রমাণিত অভিযোগগুলো হলো- ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬ এবং ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। আর ২, ৪, ৭ অভিযোগে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ১৭ এবং ১৮ নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। মোট এক হাজার ৩২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ ২৭টি গ্রাউন্ডে আপিল দায়ের করা হয়।

আপিলের শুনানিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে যুক্তি দেখান, ২৯ মার্চ ’৭১ তিনি পিআইয়ের বিমানে করে পাকিস্তান চলে যান। তিনি সেখানে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। সে সার্টিফিকেট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। ’৭১ সালে পাকিস্তানে যারা তার সাথে ছিলেন তারা এফিডেভিডের মাধ্যমে জানিয়েছেন। আর রাষ্ট্রপক্ষের বেশিরভাগ সাক্ষী শোনা সাক্ষী। দিনের পর দিন তাদেরকে সেফ হোমে নিয়ে শিখিয়ে পড়িয়ে ট্রাইব্যুনালে কি বলতে হবে সে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এসব সাক্ষী বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমরা লিখিতভাবে প্রতিটি সাক্ষীর কি কি দুর্বলতা রয়েছে তা দেখিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা ’৭১ সালের ২৯ মার্চ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী দেশে ছিলেন না- এটা বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে খালাস দেবেন।

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার জন্য আদালতে প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, ’৭১ সালের ২৯ মার্চ থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দেশে ছিলেন না তার আইনজীবীর এমন দাবি সত্য নয়, উনি দেশে ছিলেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন উনি দেশে ছিলেন না এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এটা মিথ্যা। সর্বশেষে তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন দণ্ড কমাতে। আমরা এটাতেও আপত্তি জানিয়েছি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের বিষয়ে তিনি বলেন, সার্টিফিকেট দিতে পারেই। এর মানে এই নয় যে তিনি অপরাধ করেননি। আমি আশা করবো যে চার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল ফাঁসি দিয়েছিলো সেটা বহাল থাকবে।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে হরতালে গাড়ী পোড়ানো ও ভাংচুরের এক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *