সালমান শাহকে হারানোর যে শূন্যতা অপূরণীয়

শাবনূরের মত বলতেই হয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের আকাশে এক ধূমকেতুর মতো এসেছিল নায়ক সালমান। নায়ক সালমান শাহ যুগে যুগে চির অমর হয়ে থাকবে তাঁর ভক্তদের হৃদয়ে।

তাহসিন আহমেদ

২২ বছর আগের কোন এক শুক্রবারে জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ইন্তেকাল করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, রোববার, বাংলাদেশ বেতারে মাজহারুল ইসলামের উপস্থাপনায় নায়িকা শাবনূর আবেগী কণ্ঠে স্মরণ করেন সালমানকে।

শাবনূরের মত বলতেই হয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের আকাশে এক ধূমকেতুর মতো এসেছিল নায়ক সালমান। নায়ক সালমান শাহ যুগে যুগে চির অমর হয়ে থাকবে তাঁর ভক্তদের হৃদয়ে।

আজ ১৯ বছর পরেও প্রাণহীন সালমান নতুন প্রজন্মের কাছে এখনও জনপ্রিয়। সালমান শাহ’র ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শাবনূর আবেগী কণ্ঠের সেই বক্তব্য যেন প্রতিটি সালমান ভক্তের শূন্যতাকে ধারণ করে। বাংলা চলচ্চিত্র কতটা এগিয়েছে বা কতটা পিছিয়েছে সেই বিতর্কে যাব না কিন্তু সালমান থাকলে বাংলাদেশের সিনেমা জগত অন্তত পাশের দেশের চলচ্চিত্রের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারত।

গত ১৯ বছরে কম করে হলেও ১০০০ ছবি মুক্তি পেয়েছে, এসেছে অনেক নায়ক কিন্তু সালমানের মত কেউ কী এসেছে? এই শুন্যতা বোধকরি প্রতিটি প্রজন্ম অনুভব করবে। তাই শাবনূরের মত বলতেই হয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের আকাশে এক ধূমকেতুর মতো এসেছিল নায়ক সালমান। নায়ক সালমান শাহ যুগে যুগে চির অমর হয়ে থাকবে তাঁর ভক্তদের হৃদয়ে।

মরহুম সালমান শাহ’র মৃত্যুবার্ষিকীকে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেই সাথে সালমান হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে ১৯৯৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বেতারে শাবনূরের আবেগী কণ্ঠে উচ্চারিত বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলঃ

অডিও শুনতে ক্লিক করুন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি নিদারুণ বেদনার দিন ৬ সেপ্টেম্বর। এ বেদনাবিধুর দিনে আজকের প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেছে। মাটির তারকা সালমান শাহ আজ আকাশের তারকা হয়ে আকাশেই চলে গেল।

অকালে চলেই যদি যাবে, তাহলে কেন এই সালমান-শাবনূর জুটি? ভক্তদের আমি একা কেমন করে বোঝাব, আর কোনো দিন নতুন কোনো ছবিতে সালমান-শাবনূরকে দেখা যাবে না। কে বলে সালমান নেই? কে বলে আমাদের প্রিয় নায়ক সালমান নেই? ওই তো, কত ছবির রুপালি পর্দায় আমি আছি, নায়ক সালমান শাহ আছে। কোটি ভক্তের মধ্যে নায়ক সালমানের স্মৃতি আমাকেও ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। ওর অসমাপ্ত ছবির কাজগুলো আমার কাছে মনে হয় একটি করে বেদনার পাহাড়। কত ছবিতে অভিনয়। ওর সঙ্গে হেসেছি, কেঁদেছি। কিন্তু বাস্তবে যে ওর জন্য আমাদের কাঁদতে হবে, ভাবিনি। বাস্তবে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছে প্রিয় নায়ক সালমান।

যদি কেউ কোনো দিন জাফলংয়ে সিলেটের চা বাগানে কিংবা জৈন্তা পাহাড়ে শুটিংয়ে যায়, নিশ্চয়ই তোমার কথা মনে পড়বে নায়ক সালমান। সুরমা নদীর পাড়ে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে সিলেটের পুণ্য মাটির সঙ্গে মিশে আছে আমাদের প্রিয় নায়ক সালমান।

তোমার আত্মার শান্তি হোক পবিত্র ভূমির স্পর্শে। নায়ক সালমান নেই—বিশ্বাস হয় না। এই পৃথিবীর বুকে নতুন কোনো ছবিতে অভিনয় করতে আর আসবে না আমাদের প্রিয় নায়ক সালমান। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের আকাশে এক ধূমকেতুর মতো এসেছিল নায়ক সালমান। আমি শাবনূর, আমার বিশ্বাস, নায়ক সালমান শাহ যুগে যুগে চির অমর হয়ে থাকবে তাঁর ভক্তদের হৃদয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *