অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার আনা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খাবার রাস্তার ওপর রেখে ফিরে যান।
জাতীয়

সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের খাবারও ফেরত

অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার আনা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খাবার রাস্তার ওপর রেখে ফিরে যান।অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার আনা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খাবার রাস্তার ওপর রেখে ফিরে যান।

শনিবার দুপুরে সামরিক কর্মকর্তাদের আনা খাবারের মধ্যে ছিল ভাত-মাছ-মাংস, পানির বোতল, কলা ও প্যাকেট জুস। বেলা সোয়া ১২টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াডন লিডার রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গুলশানের ৮৬ নং সড়কে উত্তর দিকের মোড়ে এসে পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। নিজেদের পরিচয় দিয়ে তারা আসার কারণ জানালেও তাদের খালেদার গুলশান কার্যালয় অভিমুখে যেতে দেয়নি পুলিশ।

এ সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তারা পুলিশকে অনুরোধ জানায় রান্না করা দুপুরের খাবারগুলো গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সাদা পোষাকে পুলিশের গুলশান থানার এক কর্মকর্তা জানান, ‘কোনো খাবার যাবে না। উপরের নিষেধ আছে।’

এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াডন লিডার রেজাউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আমাদের সাবেক সেনা প্রধানের (জিয়াউর রহমান) স্ত্রীর জন্য মানবিক কারণে কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম, তা সেখানে নিতেও দিচ্ছে না পুলিশ। এমনকি পৌঁছিয়েও দিতে চাচ্ছে না তারা।’

তিনি বলেন, আমরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, আমরা রাজনীতি করি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ থেকে বুঝা যায়, দেশের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। আমরা গণমাধ্যমে জেনেছিলাম, বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার নেওয়া যাচ্ছে না। তা আজ প্রত্যক্ষ করলাম।’

তিনিসহ তার সহকর্মীরা পরে খাবারগুলো পৌঁছিয়ে দিতে সাংবাদিকদেরও অনুরোধ জানান। এরপর খাবার রাস্তার পাশে রেখে তারা চলে যান।

সাবেক স্কোয়াডন লিডার এম ওয়াহিদ উন নবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধানের স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী না খেয়ে আছেন শুনে আমরা ব্যথিত হয়ে খাবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি।  পরে আমরা খাবার খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করলেও তা রক্ষা করেনি পুলিশ। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর খাবার বন্ধ রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। আমরা এর নিন্দা জানাই।’

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেরা রান্না করে নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের কার্যালয়ের কাছেই যেতে দিলো না, ২০০ গজ দূরে আমাদেরকে আটকিয়ে দিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন, স্কোয়াডন লিডার এম ওয়াহিদ উন নবী, স্কোয়াডন লিডার টুক জামিল, স্কোয়াডন লিডার মুহাম্মদ তারেক, মেজর জামালী হায়দার, ক্যাপ্টেন ফিরোজ ইফতেখার, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল আলম, ফ্লাইট লে.(অব.) মোহাম্মদ রেজোয়ান প্রমূখ।

খাবার সরবরাহে বাধা দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, খালেদার খাবার সরবরাহে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে ওখানে কর্তব্যরত পুলিশ কী করেছে তা জানি না।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *