ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার রাজধানীর বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামী সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা।

ঢাকা থেকে আসা পুলিশ সদর দপ্তরের একটি গোয়েন্দা দল ও সিলেট মহানগর পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদেরকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর দি রেইনট্রি হোটেলে পূর্ব পরিচিত শাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাতভর ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় গত শনিবার আপন জুয়েলার্সের অন্যতম কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামি হলেন ই-মেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিচালক নাঈম আশরাফ, শাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল এবং তার দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত
রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর পরনের কাপড়সহ আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আলামত পরীক্ষার জন্য বনানী থানার পরিদর্শক আব্দুল মতিনের করা আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।

আদালতে পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. মান্নান বলেন, মামলা দায়েরের সময় ধর্ষণের আলামত হিসেবে এক ভিকটিমের সালোয়ার-কামিজ জব্দ করা হয়েছে। তাতে কোনো ধরনের পুরুষের বীর্য আছে কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

গত ৬ মে দায়ের করা এই মামলায় বলা হয়েছে, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে।

মামলার পর বনানী থানার পরিদর্শক মতিন এর তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে আদালতে আবেদন করলেও পরে তদন্তকারী বদলানো হয়। এখন তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

পরিদর্শক মতিন বলেন, হোটেল রেইনট্রি হোটেল পরিদর্শন করে কয়েকজনের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে।

ঘটনার ৩৭ দিন পর মামলা হওয়ায় অনেক সাক্ষ্য প্রমাণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে মামলার পাঁচ আসামির কাউকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ঘটনাটি ঘটেছে এক মাস আগে। এতোদিন এর তথ্য-প্রমাণ পাওয়া একটু কঠিন। তারপরও ঘটনার সময় ভিকটিমদের পরিহিত জামা-কাপড় যদি না ধুয়ে থাকে তাহলে সেটা পরীক্ষা করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। কিন্তু ধুয়ে ফেললে সেটা একটু কঠিন হবে। তারপরও তাদের মাইক্রোবায়োলজি, রেডিওলজি ও ডিএনএ নমুনা টেস্ট করতে দেয়া হয়েছে। সেটার রেজাল্ট পেলে বলা যাবে। সেটা পেতে আরো সময় লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *