সর্বোচ্চ বেতন ৭৫,০০০; সর্বনিম্ন ৮,২৫০ টাকা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ বেতন ৭৫ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা করার সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ বেতন ৭৫ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা করার সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ বেতন ৭৫ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা করার সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।

জাতীয় বেতন স্কেলভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ক্যাডার ও বিভাগের বেতন বৈষম্যের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য গঠিত পে-কমিশনের রিপোর্টে এ সুপারিশ করা হয়।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বুধবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ-সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা তার কাছে পে-কমিশন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এতে সর্বোচ্চ বেতন ৭৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

অর্মন্ত্রী বলেন, কমিশনের এই প্রস্তাব যাচাই করে চূড়ান্ত করা হবে। নতুন বেতন স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্কর হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যমান ২০টি গ্রেডকে ১৬টি গ্রেডে রূপান্তর করে সর্বনিম্ন গ্রেডে শতভাগ বাড়িয়ে বেতন ৮২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডেও শতভাগ বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সচিব কমিটি সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮২০০ টাকা থেকে কিছুটা বাড়ানোর সুপারিশ করছে বলে জানা গেছে। তবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংখ্যা প্রায় চার লাখ হওয়ায় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন সামান্য বাড়ালেও তা মোট ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ ফেলবে বলে আশঙ্কা তাদের। তাই এ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করছে সচিব কমিটি। এ ছাড়া ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর গ্রেডের মূল বেতনও কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে সচিব কমিটির সুপারিশে। তবে ওপরের দিকে সামান্য কমানো হতে পারে।

ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদনে টাইমিং স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রত্যাহারের সুপারিশ ছিল। এটি রাখা হবে কি না সে বিষয়ে সচিব কমিটির সদস্যদের মধ্যেও নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আছে। তবে শেষ পর্যন্ত টাইমিং স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করেই অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির এক সদস্য। সরকারি চাকুরেদের জন্য সমৃদ্ধ সোপান ব্যাংক নামে একটি বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাব ছিল কমিশনের। তবে অর্থনীতির আকারের তুলনায় দেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ওই প্রস্তাব আমলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সচিব কমিটি।

নতুন কাঠামোতে বেতন যে হারে বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে, তার চেয়েও বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন। বিদ্যমান বেতন স্কেলে মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পাওয়ার বিধান রয়েছে। এবারের প্রস্তাবে তা সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে। তবে সর্বনিম্ন বাড়িভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ায় কোনো কোনো গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর চেয়েও বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

এ ছাড়া শিক্ষা ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে (সর্বোচ্চ দুই সন্তান) ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার এবং চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুণ করে এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে ১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তারা মাস শেষে বেতন-ভাতা বাবদ এক লাখ ২৭ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১৬ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীরা ২০ হাজার ৮০০ টাকা পাবেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামাতে আর অবসরে যাওয়া চাকরিজীবীদের উৎসব ভাতা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৯ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। ওই বেতন কাঠামো অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা বহাল রয়েছে।

সুপারিশ
আগের বেতন কাঠামোগুলোতে একজন কর্মী নির্দিষ্ট সংখ্যক ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার পর তার বেতন আর বাড়ত না। একে বলা হতো ইফিসিয়েন্সি বার (ইবি), যা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ফরাসউদ্দিনের কমিশন।

পাশাপাশি সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের বিলুপ্তি ঘটিয়ে মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে ওঠার সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ধরা হয়েছে ১ : ৯.০৭৬, যা গত কয়েকটি কমিশনও একইভাবে রেখেছে।

ফরাস উদ্দিন বলেন, “কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ৬৩.৭০ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে খরচ সামান্যই বাড়বে। বাজেট যেহেতু ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে তাতে এই ব্যয় হবে মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ। আগের বাজেটের ১৫ শতাংশের চেয়ে এটা কম।”
ভাতা

কমিশন বলছে, এ সুপারিশ কার্যকর হলে যেহেতু বেতন বাড়বে, সেহেতু নতুন কোনো ভাতা চালু ঠিক হবে না।

পাশাপাশি বিদ্যমান ভাতার জন্য নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
যেসব ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে আগের তিন ধরনের মাপকাঠি ভেঙে চারটি স্তর রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকা; চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহর; নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার ও সাভার এলাকা এবং জেলাশহরসহ অন্যান্য স্থানের জন্য আলাদা হারে বাসা ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কমিশন।
ফরাসউদ্দিন জানান, গ্রাম পুলিশদের বেতনের অর্ধেক বর্তমানে সরকার দেয়। বাকি টাকা ইউনিয়ন পরিষদ অনেক সময় দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে সরকারের সংগৃহীত চাল ‘অতি সুলভ’ মূল্যে গ্রাম পুলিশদের বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

এমপিও
কমিশন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ৬ মাস পরে অষ্টম বেতন কাঠামোর সুপারিশ কার্যকরের প্রস্তাব করেছে।

কমিশন মনে করে এতে তাদের বিষয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করার সুযোগ তৈরি হবে।

তাছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোতে ছাত্র বেতন হিসাবে যে রাজস্ব আদায় হয়, তার একটি অংশ সরকারকে দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করছে কমিশন।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান
সরকারি লোকসানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা বেতন কাঠামো সমর্থন করেনি কমিশন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য সরকার পৃথক বেতন কাঠামো করার সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রতি কমিশনের সমর্থন রয়েছে।

প্রেষণ বাতিল
প্রেষণে চাকরি নিরুৎসাহিত করতে প্রেষণ অব্যাহত না রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।
ফরাসউদ্দিন বলেন, “ডেপুটেশন তথা প্রেষণের সব রকম ভাতা বাতিল করা যেতে পারে এবং ডেপুটেশন অব্যাহত না রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।”

আবাসন
ফরাসউদ্দিন বলেন, “সরকারি চাকরিতে বাসস্থান একটি বড় সমস্যা। সবারই চাকরির শুরু থেকে চিন্তা থাকে অবসরে মাথা গোঁজার ঠাই নিয়ে। এ বিষয়ে কমিশন বিভিন্ন বিকল্প সুপারিশ করেছে।”
এর মধ্যে একটি সুপারিশ হলো- রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে সরকারের পুরানো বাড়িগুলো ভেঙে অথবা খাস জমি দিয়ে ৬০:৪০ অনুপাত ভিত্তিতে ফ্ল্যাট বানিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মালিকানা দেওয়া।

১০ বা ২০ জন নিয়ে একেকটি গ্রুপ করে ৫ বা ১০ কাঠা জমি এবং ৫০ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ গৃহ নির্মান ঋণ দেওয়াও একটি বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে।
অথবা জমি কেনার প্রমাণ সাপেক্ষে ৫০ মাসের মূল বেতনের সমান অর্থ ঋণ হিসাবে দিতে পারে সরকার।

ফরাসউদ্দিন বলেন, “কমিশন মনে করে এ কার্যক্রম হাতে নিলে নির্মাণ খাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হতে পারে।”

গাড়ি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের ঋণের প্রস্তাব রেখেছে কমিশন।
এতে বলা হয়েছে, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তৃতীয় গ্রেড ও তার উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের পরীক্ষামূলকভাবে ২৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া যেতে পারে।

বিষয়টি সুফল দিলে চতুর্থ গ্রেডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রথমবারের মত স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা চালুর প্রস্তার করেছে কমিশন।
প্রত্যেক চাকরিজীবীর চিকিৎসার জন্য ৪০০ টাকার প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্য বীমা এবং ১০০ টাকা প্রিমিয়ামে জীবন বীমা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই বীমার মেয়াদ হবে ৫ বছর। মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, হাসপাতালের খরচসহ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধিত করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কোনো নগদ প্রদানের ব্যবস্থা না রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।

ফরাসউদ্দিন বলেন, “এই ব্যবস্থা বীমা খাতেও প্রাণের জোয়ার আনবে বলে মনে করে কমিশন। এছাড়া বীমা খাতের প্রিমিয়ামের উদ্বৃত্ত থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক কার্ডিয়াক হাসপাতাল করা যেতে পারে।”

পেনশন
অষ্টম বেতন কমিশন পেনশনের হার বর্তমানের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে বলে কমিশন চেয়ারম্যান জানান।

এরশাদ সরকারের আমলে মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ের কথা উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন বলেন, “আপনার হাতেই পেনশনের বিরাট পরিবর্তন ও উন্নতি হয়।”

তবে ২৬ বছর পর ২০১৩ সালের নভেম্বরে আনুতোষিক বাড়িয়ে যে পরিবর্তন আনা হয়, তা একই রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।

ফরাসউদ্দিন বলেন, “ছুটি পাওয়া সাপেক্ষে পেনশনে যাওয়া বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যায় কি না- তা বিবেচনা করা যেতে পারে।”
পিআরএল ব্যবস্থা কিছু কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে আগের মতো এলপিআর ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিশন।

যে হারে বেতন বাড়ছে সে হারেই পেনশন বাড়ানো যায় কি না- তা সরকারকে ‘সরাসরি’ বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কল্যাণ তহবিল
কল্যাণ তহবিলের বর্তমান কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে কমিশন। ফরাসউদ্দিন বলেন, “বর্তমান কল্যাণ তহবিলকে পুনর্গঠিত করে বীমা তহবিল, পেনশন তহবিল ও কল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনা- এই তিন ভাগে ব্যাপকভাবে ক্ষমতায়িত করা উচিৎ বলে কমিশন মনে করে।”

রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে কল্যাণ তহবিলের যে জমি রয়েছে সেখান থেকে ২০ বা ২৫ কাঠা বিক্রি করে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন জোগাড় করে ‘সমৃদ্ধি সোপান’ নামে একটি ব্যাংক স্থাপনেরও প্রস্তাব করেছে কমিশন।

এই ব্যাংক পরিচালিত হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মালিকানায়। প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে এতে চার হাজার টাকার শেয়ার থাকবে। এই ব্যাংক একটি উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

“ব্যাংকটিতে নজর দিলে শুরু থেকেই এক অংক (সিঙ্গেল ডিজিট) সুদে সব রকম ঋণ দেওয়া সম্ভব হবে।”

কমিশন মনে করে, পদ খালি হলে পদোন্নতিতে বিলম্ব এড়ানো উচিত। কেউ যাতে এক পদে সারা জীবন চাকরি করতে বাধ্য না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ‘অর্গানোগ্রাম’ সৃষ্টি করা সমীচীন।
“সরকারি চাকরিতে আকর্ষণ করা না হলে আগামীতে বিশাল ও ক্রমসম্প্রসারণশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক রূপান্তরের জন্য সঠিক সুশাসন, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। প্রতিটি স্তরে প্রশিক্ষণ ও বস্তুনিষ্ট মূল্যায়নের মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।”

বছরে খরচ বাড়বে ৩০ হাজার কোটি টাকা

অষ্টম পে-কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা-পেনশন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে এর সাথে যোগ করতে হবে আরো ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে বেতনভাতাদি খাতেই সরকারকে খরচ করতে হবে ৬৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এটা চলতি অর্থবছরের মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় ৯০ শতাংশ। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এডিপি খাতে মোট ব্যয় বরাদ্দ ধরা রয়েছে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।

এতে ১৬ ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপ এক-এ বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। আর শেষ ধাপ ১৬-তে বেতন থাকবে আট হাজার ২০০ টাকা। তবে সিনিয়র সচিবদের জন্য ৮৮ হাজার এবং মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেতন-ভাতা-পেনশন খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৩৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে অফিসার ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন খাতে রয়েছে তিন হাজার ১৭ কোটি ও ১০ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। অন্য দিকে ভাতাদি খাতে রয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে অবসর ভাতা ও আনুতোষিক খাতেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে আট হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের জন্য এর সাথে অতিরিক্ত আরো ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো লাগবে বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রাথমিক তথ্য প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে এই হিসাবটি করা হয়েছে। শিক্ষকদের এমপিওর বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পে-কমিশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে বাজেটে ব্যয় ২২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। কিন্তু আমরা প্রাথমিক হিসাব করে দেখেছি অন্যান্য ব্যয় ধরে এর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, কোনো পে-কমিশনের প্রস্তাবই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। এ ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না। অতীত অভিজ্ঞতা বলে প্রস্তাবের বড় জোর ৭০ ভাগ বাস্তবিক অর্থে বাস্তবায়ন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *