যেসব পেশার মানুষ সর্বাধিক আত্মহত্যা করে

যেসব পেশার মানুষ সর্বাধিক আত্মহত্যা করে

9
0
SHARE

যেসব পেশার মানুষ সর্বাধিক আত্মহত্যা করেনানা কারণেই মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়। মূলত জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মিলেই মানুষ আত্মহত্যা করে সব যন্ত্রণার পরিসমাপ্তি ঘটায়। মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, কিছু কিছু পেশার মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা খুব বেশি। পেশাগত জীবনে কাজের চাপ, পেশায় ব্যর্থতা কিংবা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে না পেরে পেশাজীবীরা আত্মহত্যা করে থাকেন।

জেনে নেয়া যাক যেসব পেশার মানুষ সর্বাধিক আত্মহত্যা করে।

বিজ্ঞানী
নতুন কিছু উদ্ভাবন কিংবা আবিষ্কারের জন্য দিনের পর গবেষণা করে চলেন বিজ্ঞানীরা। এ কাজে যে তারা সব সময় সফল হন এমন নয়। দীর্ঘ গবেষণা শেষে দেখা গেলো পুরো পদ্ধতিটিই ভুল ছিল। তখন সব আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। একাজে তাদের মানসিক চাপ বাড়ে। শরীরের প্রতি অত্যাচার এবং প্রত্যাহিক জীবনের ছন্দপতনে অনেক সময় বিজ্ঞানীরা হতাশ হয়ে পড়েন। পরিণামে বেছে নেন আত্মহননের পথ।

পুলিশ
অনেকেই পুলিশের পেশাটাকে রোমাঞ্চকর মনে করেন। এ পেশায় রোমাঞ্চ আছে ঠিকই তবে সঙ্গে রয়েছে নানান হ্যাপা। বিশেষ করে চোর-গুণ্ডাদের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ব্যক্তিগত জীবনের স্বাদ-আহ্লাদটা মাটি হয়ে যায়। অন্যদিকে এ পেশায় পদে পদে ওঁৎ পেতে থাকে ঝুঁকি। সেই সঙ্গে মানসিক চাপ তো রয়েছেই। অপরাধীদের স্বরূপ উদঘাটনে কিংবা তদন্তে নেমে দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজ করতে হয়। এতে করে বাড়ে চাপ। মানসিক চাপ হতাশা এবং নৈরাশ্য সৃষ্টি করে। ফলে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে। এতে করে অনেক পুলিশ সদস্যই আত্মহত্যা করে জীবনের ভার মুক্ত হতে চান।

স্টক ব্রোকার
শেয়ার ব্যবসা অনেকটা জুয়ার মতো। আজ আমির তো কাল ফকির। শেয়ার বাজার ধসে বিনিয়োগকারীদের মনে হতাশা এবং ক্ষোভ তৈরি হয়। শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়ার কারণে স্টক ব্রোকাররা অনেক সময় সর্বস্বান্ত হন। বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।

রিয়েল এস্টেট এজেন্ট
রিয়েল এস্টেস ব্যবসায় যেমন তরতর করে মুনাফার সিঁড়ি পেরোনো যায় তেমনি ক্ষতির সিঁড়িতে নামতে খুব বেশি সময় লাগে না। প্লট কিংবা ফ্ল্যাট বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতরা সবসময় চাপের মুখে থাকেন। কেননা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় দাম পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। অন্যদিকে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে নিতে হয় বাড়তি চাপ। মানসিক চাপের কারণে মনে হয় আত্মহত্যাই ‍বুঝি একমাত্র সমাধান।

চিকিৎসক
যদিও চিকিৎসকদের কাজ মানুষকে সুস্থ রাখা। কিন্তু চিকিৎসকদের জীবনেও হতাশা আসে। অনেক সময় দেখা যায় দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে চাপ বাড়ে। তাছাড়া পর পর অনেক রোগীর মৃত্যুও তাকে হতাশ করে তোলে। তাছাড়া মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগীদের সান্নিধ্যে অনেক সময় জীবনের প্রতি ভালোবাসা কমতে শুরু করে। এছাড়া পেশাগত জীবনে ব্যর্থতার ভয়ও তাকে হতাশ ও কর্মবিমুখ করে তোলে। ফলে চিকিৎসকরা আত্মহত্যার করে জীবনের ইতি টানেন।

কৃষক
যদিও কৃষি কাজ খুবই লাভজনক একটি পেশা। কিন্তু তারপর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিরূপ আবহাওয়া এবং রোগের প্রার্দুভাবের কারণে কৃষক সবসময় আশানুরূপ ফলন পান না। এতে করে হতাশ হয়ে পড়েন তারা। তাছাড়া, কৃষিকাজ খুব পরিশ্রমের কাজ। দীর্ঘদিন এক নাগাড়ে পরিশ্রম করলে মানসিক চাপ বাড়ে। চাপ এড়াতে অনেক কৃষক তাই আত্মহত্যা করেন।

আইনজীবী
আইনজীবীদের সারাক্ষণই চাপের মধ্যে থাকতে হয়। বিশেষ করে কর্পোরেট আইনজীবীদের চাপ খানিকটা বেশি। দীর্ঘক্ষণ তাদের কেইস ফাইল তৈরির জন্য কাজ করতে হয়। আর যারা অপরাধ নিয়ে কাজ করেন তাদের বেলায় চাপের মাত্রাটা আরও বেশি। তাছাড়া, মামলা-মোকদ্দমায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য নানান যুক্তি তর্ক এবং সাক্ষী-সাবুদ জোগাড় করতে হয়। এতে করে কাজের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন আইনজীবী। তখন আত্মহননের পথ বেছে নেন।

ঠিকাদার
যদিও ঠিকাদারী কাজ অনেকটাই লাভজনক। কিন্তু তারপরও এতে রয়েছে প্রচুর কাজের চাপ। কেননা, কোনো একটি ভবন পরিকল্পনা মাফিক করার জন্য তাকে রাতদিন পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় প্রত্যাশিত বাজেটের তুলনায় খরচ বেড়ে যায়। অন্যদিকে বাড়তি বাজেটের বোঝা তার আর্থিক জীবনেও প্রভাব ফেলে। এতে করে মানসিক চাপে ভুগে আত্মহত্যা করেন ঠিকাদাররা।

সার্জন
একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রকে শিক্ষাজীবন থেকেই প্রচুর খাটতে হয়। অন্যদিকে পড়াশোনা শেষে সার্জন হিসেব প্র্যাকটিস শুরু করার পর খ্যাতি বজায় রাখতে তাকে রাতদিন অপারেশন টেবিলে পড়ে থাকতে হয়। অপারেশনে রোগীর মৃত্যু হলে সব দায় তার ওপরই বর্তায়। এতে করে জীবনের প্রতি হতাশা চলে আছে। তখন সার্জন আত্মহত্যা করেন।

ফিজিওথেরাপিস্ট
এটা খুব সংবেদনশীল একটি কাজ। সাধারণত স্নায়ুবিক সমস্যা সারাতে এ ধরনের চিকিৎসকরা মেরুদণ্ড ও হাড়ের গুরুত্বপূর্ণ জোড়াগুলোতে বিশেষ কায়দায় চাপ দেন। আর একটু ভুল হয়ে গেলে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক বিপত্তি, এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে। এই চিকিৎসকদের জন্য কোথাও জীবনবিমার সুযোগ না থাকার কারণে তারা সব সময় খুব মানসিক চাপে থাকেন। কারণ, চূড়ান্ত সতর্কতার পরও দু’একটা অঘটন ঘটেই। আর তখনই রোগীদের হামলা-মামলার শিকার হন তারা। একারণেই এ ধরনের চিকিৎসকদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।

Comments

comments