sarita-brittanto-by-moumita-dasgupta

সরিতার বাবা ছেলেমেয়েদেরকে দেশের বাড়ি রেখে সরিতার মাকে বিয়ে করে এখানে চলে আসে একদিন এবং তারপর দেশের সাথেও যোগাযোর্গ রাখেন। কারণ, কিছু জমিজমা আছে সেখানে। বড় দুই দাদার থেকে সরিতা অনেকটাই ছোটো কিন্তু সরিতার জন্মের পর থেকেই ওর মা ঘন ঘন অসুস্থ হয়, ছয় সাত বছর যখন বয়স মা তখন শয্যাশায়ী হয়। এই সময় সংসারের দেখভালের জন্য দেশের থেকে এক বিধবাকে নিয়ে আসে, যাকে সরিতা মাসী বলে ডাকতো, মাসীও সরিতাকে মায়ের মতো আদর-যত্ন মায়ের দেখভালসহ সংসার সমলানো কোনো কমতি ছিল না কিন্তু একটু বড়ো হয়ে সরিতা বুঝতে পারে সবকিছু সেবার সাথে সাথে বাবার চাহিদাও খুব ভালোভাবে মেটাচ্ছে মাসী, এতে সরিতার কোনো অভিযোগ ছিলো না, মা তো তখন আজ যায় কি কাল যায় অবস্থা।

লোকটা এখনো কেনো এলো না। আজ তো ছেলেমেয়েদেরকে মেলায় নিয়ে যাবার কথা। যতই পার মাতাল হোক, কথার তো নড়চড় হয় না। মাতালটা আবার গর্ব করে বলে, ‘আমার কথা কিন্তু কথা, এর নড়চড় হয় না বুঝলি সরিতা? তো সেই এক কথার মানুষটা গেলো কোথায়। এদিকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের দিকে যাচ্ছে মেলার মাঠ থেকে গান ভেসে আসছে, ছেলে মেয়েরাও বিরক্ত করছে, বাবাকে ছাড়াই মেলায় যাবার জন্য কিন্তু সরিতা সাহস পায় না।

সরিতার বাবা ছেলেমেয়েদেরকে দেশের বাড়ি রেখে সরিতার মাকে বিয়ে করে এখানে চলে আসে একদিন এবং তারপর দেশের সাথেও যোগাযোর্গ রাখেন। কারণ, কিছু জমিজমা আছে সেখানে। বড় দুই দাদার থেকে সরিতা অনেকটাই ছোটো কিন্তু সরিতার জন্মের পর থেকেই ওর মা ঘন ঘন অসুস্থ হয়, ছয় সাত বছর যখন বয়স মা তখন শয্যাশায়ী হয়। এই সময় সংসারের দেখভালের জন্য দেশের থেকে এক বিধবাকে নিয়ে আসে, যাকে সরিতা মাসী বলে ডাকতো, মাসীও সরিতাকে মায়ের মতো আদর-যত্ন মায়ের দেখভালসহ সংসার সমলানো কোনো কমতি ছিল না কিন্তু একটু বড়ো হয়ে সরিতা বুঝতে পারে সবকিছু সেবার সাথে সাথে বাবার চাহিদাও খুব ভালোভাবে মেটাচ্ছে মাসী, এতে সরিতার কোনো অভিযোগ ছিলো না, মা তো তখন আজ যায় কি কাল যায় অবস্থা।

এই ছুতায় মাতাল স্বামী আর এক চোট ধোলাই দিক ও তা কিছুতেই চায় না। এমনিতেই তো প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কারণে অকারণে একবার সরিতার গায়ে ঝাল না তুললে মাতালের নেশা ঠিক জমে না। সকালে ঝগড়া মারপিট আর সন্ধ্যায় প্রেম, রাত বাড়ে যত মনে তার প্রেমের জোয়ারও বাড়ে। এতসব ভাবতে ভাবতে বাইরে পায়ের আওয়াজ পেয়ে বাইরে এসে দেখে দেবর হরি উপস্থিত। আবার ভেতরে এসে ভাবে অনেক রাত হল, আজ আর মেলায় যাওয়া হবে না, ছেলেমেয়েদের খাইয়ে ঘুম পাড়ায়। অনেক রাত কিন্তু এখনো এলো না, এমন তো অনেকই করে, মাতাল হয়ে পথ হারায় আবার নেশা কমলে গভীর রাতে বাড়ি ফেরে, আজ তো কথা দিয়েছিলো, আজ মেলায় নিয়ে যাবে, কী যে হলো লোকটার এই যম জ্বালানো লোকটাকে সরিতা না ছাড়তে পারে, না পারে ধরে রাখতে, মন চায় কিছুটা নিরুপায় হয়েই এই লোকটার হাত ধরেছিল আজ থেকে এগারো বছর আগে ।

এগারো বছর আগে সরিতা ছিলো সরিতা কাহার। কাহার মুলত উত্তরপ্রদেশীয় পালকিবাহক সম্প্রদায়। পালকির যুগ অনেক আগেই শেষ তাই কাহার সম্প্রদায় যে যেদিকে পেরেছে কাজ জুটিয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে গেছে। সরিতার বাবাও রেলের চতুর্থ শ্রেণির কাজ পেয়ে একদিন এখানে আসে, তার আবার তিন তিনটে বিয়ে। প্রথম স্ত্রী বিষ খেয়ে মারা যায় দুই ছেলেমেয়ে রেখে। সরিতার বাবা ছেলেমেয়েদেরকে দেশের বাড়ি রেখে সরিতার মাকে বিয়ে করে এখানে চলে আসে একদিন এবং তারপর দেশের সাথেও যোগাযোর্গ রাখেন। কারণ, কিছু জমিজমা আছে সেখানে। বড় দুই দাদার থেকে সরিতা অনেকটাই ছোটো কিন্তু সরিতার জন্মের পর থেকেই ওর মা ঘন ঘন অসুস্থ হয়, ছয় সাত বছর যখন বয়স মা তখন শয্যাশায়ী হয়। এই সময় সংসারের দেখভালের জন্য দেশের থেকে এক বিধবাকে নিয়ে আসে, যাকে সরিতা মাসী বলে ডাকতো, মাসীও সরিতাকে মায়ের মতো আদর-যত্ন মায়ের দেখভালসহ সংসার সমলানো কোনো কমতি ছিল না কিন্তু একটু বড়ো হয়ে সরিতা বুঝতে পারে সবকিছু সেবার সাথে সাথে বাবার চাহিদাও খুব ভালোভাবে মেটাচ্ছে মাসী, এতে সরিতার কোনো অভিযোগ ছিলো না, মা তো তখন আজ যায় কি কাল যায় অবস্থা। মাকেও কখোনো অভিযোগ করতে শোনেনি, নিজে অপারগ বলেই হয়তো মেনে নিয়েছিল।

কিছুদিন পর মায়ের মৃত্যুর পর মাসীকেই বিয়ে করে বাবা, সরিতার দাদারাও কোনো আপত্তি করেনি।

এদিকে দেশের দাদা ও দিদিকে বিয়ে দেয় বাবা, এখানকার বড়ো দাদাও দেশে চলে যায় ছোটো দাদাও কাজ নিয়ে বাইরে চলে যায়, নুতন বাড়ি করে সেখানেই চলে আসে সরিতারা। চোদ্দ পনেরোর সরিতা ছিপছিপে দুইবেণী করে বান্ধবীদের সাথে স্কুলে যায়, কারণে ও অকারণে হেসে গড়ায়, অভাব বলে কিছু তো বোঝেনি তখন। অভাব বুঝেছে বিয়ের পর। কুদৃষ্টি সেই সুখের দিনগুলোকে তচনছ করে দিয়ে গেল, এই কুদৃষ্টি বাইরের ছিলো না, ছিলো নিজের ঘরে নিজেরই জন্মদাতার আর এই কুনজরের জেরেই আজ নিজের জাত-কুল-সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন সরিতা এই কুনজর থেকে বাঁচাতে সরিতার মাসী সরিতাকে একদিন বলে নিজের ভালো চাস তো নিজেই একটা বিয়ে করে এখান থেকে চলে যা, আর তা না হলে একদিন তোকে সাজগোজ করে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে। তখন কে তোকে আর বিয়ে করবে, আমিও তো অসুস্থ। ষোলো বছরের সরিতা তখন প্রায় দিশেহারা, কী করবে সে বুঝে পায় না। বান্ধবী ভাবনাকে মন খুলে সব বলে খুব কেঁদেছিল। সরিতার কেঁদে সেদিন মন হালকা হোলো ঠিকই, কিন্তু কথাটা তার এক কান দুকান করে ছড়িয়ে গেলো, ঘরের কথা মনের ব্যাথায় বিপদ বাড়লো আরো। কালীপুজোর রাতে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে বেরিয়ে দেখা হয়ে গেলো ধীরেনের সাথে। টেক্সিড্রাইভার।

আগে একদিন আলাপ হয়েছিল, এ কথা সে কথার পর ধীরেন জানায় সরিতাকে ওর খুব ভালো লাগে। সরিতা চটপট জবাব দেয় ভালোলাগালাগির দরকার নেই, বিয়ে করবে আমাকে তবো চলো এখনই বিয়ে করি। এমন প্রস্তাব শুনে ধীরেন হতবাক। বলে, কালীপুজোর অমাবস্যা আজ, এইদিনে বিয়ে করবো? সরিতা জবাব দেয় যদি সৎসাহস থাকে তাহলে করো, আর তা না হলে এসব ভালোলাগার গপ্পো করতে এসো না । জেদী একরোখা প্রকৃতির ধীরেনেরও জেদ চেপে গেলো, চলো তবে এখুনি বিয়ে করবো, দুজনের বন্ধু-বান্ধবীদের সামনে মন্দিরে পাঁচ মিনিটে বিয়ে শেষ সরিতার অচেনা এক দুনিয়ায় প্রবেশ। হিন্দিভাষী সরিতার বাংলা শেখা শুরু। এসব ভাবনায় ছেদ পড়লো দরজা ধাক্কানোর আওয়াজে, ভাবলো হয়তো ধীরেন এসেছে সকালের আলোতে বাড়ি কথা মনে পড়লো কিন্তু না দরজা খুলে দেখে ধীরেনেরই এক বন্ধু। উত্তেজিত ভাবে ও যা বললো তাতে সরিতা বুঝলো সন্ধ্যের পর নদীর ধারে জোড়তোড় নাশার পার্টি চলছিলো। রাত বাড়তে ধীরেন একা গিয়েছিল নদীর ধারে, তারপর আর ফিরে আসেনি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাটির সবাইকে ঘুম থেকে তুললো আর ভাবলো এমন তো কতোবারই খুঁজে আনতে হয়েছে। নদীর ধারে গিয়ে সরিতা অবাক হয়ে ভাবে নেশাখোরগুলোর মাথা এবার খারাপই হয়েছে, তা না হলে ভাবে কেমন করে এই হাঁটু জলে ধীরেন ডুবে মরবে, তখন সাঁতার জানা একটা লোক জলে সে আবিষ্কার করলো ব্রিজের দিকে নদীতে একটা গভীর গর্ত আছে, এই গর্তের কথা তো কেও আগে শোনেনি গর্তের কথা কানে আসতেই সরিতার বুক কেঁপে উঠলো, কিছুক্ষণ পর লোকটা ধীরেনের মৃত শরীরটা টেনে চরে তুললো। বাড়ির লোকেদের কান্নার রোল। সুনসান নদীর পাড় যেন শ্মশান, শুধু সরিতার চোখ জলহীন পাথর।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *