বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয়

‘সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা’

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সার্ক সম্মেলন ও মালয়েশিয়া সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন লঙ্ঘন করে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেছেন তাদের চাকরি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা কী উদ্দেশ্যে সেখানে গেছেন সে ব্যাপারে সবার আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠককে ‘গভীর রাতের চুপকে চুপকে বৈঠক’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘গভীর রাতের চুপকে চুপকে দেখার বিচার হবে।’

সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে শুক্রবার বিকেলে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গভীর রাতের অভিসার বাদ দেন। যা করার দিনে করেন। রাতের আনাগোনা বাদ দেন।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কয়েকজন সাবেক সচিব ও বর্তমান সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার এক বিবৃতিতে দাবী করেন যে খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গভীর রাতে অভিসার বাদ দেন। রাতে অনাগোনা বন্ধ হওয়াই ভাল। গভীর রাতে চুপকে চুপকে দেখা করা কেন- বলেও প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারী কর্মকর্তাদের খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া নেওয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন তার আপন গতিতে চলবে। সরকারী কর্মকর্তারা যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা রোজই তো ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছেন। কখনও আন্দোলনে আমার চুল উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কখনো ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী টিআইবির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বলেন, ‘যারা দুর্নীতি করে করে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করেন টিআইবি তাদের চোখে দেখে না। তারা কেন ডিসেম্বর মাসে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করলো। এটা রহস্যজনক। ’

এছাড়া নিশা দেশাইকে নিয়ে বিএনপি নেতাদের মন্তব্যের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকাকে ছাড়া কি আমরা চলতে পারবো না। ১৯৭১ সালেও তো তারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন না। আমরা কি জয়ী হয়নি? ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর জন্য আমেরিকা কতো কিছুই না করেছে কিন্তু ঠেকাতে পারেনি। নির্বাচন ঠিকই হয়েছে।

টক শো তে সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা কথা বলার উপর তো আর ট্যাক্স বসাই না। আমাদের সময় কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সার্ক সম্মেলনে যোগদান এবং মালয়েশিয়া সফর নিয়ে শুক্রবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

তিনি আরো দাবি করেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু তারা পারেনি। সেখানেও ভিন্নমতের লোক আছে। আমরা তাদের সমর্থন পেয়েছি।’

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি কোনো কমেন্ট করে থাকেন এটা তার বিষয়। তাকে জিজ্ঞেস করবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যা থাকতে পারে। তবে এজন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ হয়ে যাবে এটা ভাবা ঠিক নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দেশ না থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাবো, এটা ভাবা ঠিক নয়। একাত্তরে তো যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পক্ষে ছিল না, তখন কি আমরা পারিনি; বিজয়ী হইনি? মুক্তিযুদ্ধে পারলে, এখনো পারবো।’

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালেই আমরা এর জবাব দিয়ে দিয়েছি। তাদের পরাজিত করেছি, তারা পরাজিত।’

‘তবে আমি মনে করি, কারো সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করা সমীচীন নয়। সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, একই সঙ্গে সম্পর্কও চালিয়ে যেতে হবে’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ সালের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সার্ক সম্মেলনে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে। তারা আমাদের কাছে চাইবে। আর ১৯৭১ সালে যেসব পাকিস্তানি বাংলাদেশে ছিল তাদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। তাই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া এখন আর খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *