ব্যাংকের মালিক-গ্রাহক সবাই ভিক্ষুক

ভারতের বিহার রাজ্যের একদল ভিক্ষারি মিলে নিজেদের জন্য একটি ব্যাংক বানিয়েছেন। এই ব্যাংকের ম্যানেজার থেকে শুরু করে গ্রাহকদের সবাই ভিখারি।

ভারতের বিহার রাজ্যের একদল ভিখারি মিলে নিজেদের জন্য একটি ব্যাংক বানিয়েছেন। এই ব্যাংকের ম্যানেজার থেকে শুরু করে গ্রাহকদের সবাই ভিখারি। তারা গয়ার এক মন্দিরের সামনে ভিক্ষা করে থাকেন। নিজেদের দুর্দিনে কিছুটা সাহায্যের আশায় তারা গত বছর এটি গড়ে তুলেছেন। তাদের ব্যাংকের নাম মঙ্গলা ব্যাংক

গয়া শহরের ‘মা মঙ্গলাগৌড়ি’ মন্দিরের ফটকের সামনে বসে ভিক্ষা করেন একদল ভিক্ষুক। তাদেরই ৪০ জন মিলে ব্যাংক করার পরিকল্পনা করেন এবং  এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এ ব্যাংকের ম্যানেজার, কর্মচারী, ট্রেজারার অর্থাৎ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সবাই ভিক্ষে করে বেড়ান।

এই ব্যাংকের ম্যানেজার হলেন রাজকুমার মাঞ্জি।  তিনি কিন্তু ক অক্ষর গোমাংস নয়।হিসাব কিতাব ভালোই জানেন তিনি। তিনি ভিক্ষুকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০ টাকা করে রাখেন। সপ্তাহ শেষে তাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ১৪০ টাকা।

তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা ৪০ জন ভিখারি মিলে এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করেছি। ব্যাংকে একজন ম্যানেজার, ট্রেজারার এবং একজন সেক্রেটারি রয়েছেন। এছাড়া আমাদের একজন এজেন্টও রয়েছেন। এদের সবাই ভিক্ষুক।’ তার স্ত্রী নাগিনা দেবী কাজ করছেন  ট্রেজেরার হিসেবে।

ব্যাংকের সেক্রেটারি মালতি দেবী জানান,‘গত বছর বহু আশা নিয়ে আমরা ভিখারিরা এটি তৈরি করেছি। আমরা গরীবদের থেকেও গরীব। তাই সমাজে আমাদের দাম নেই।’

মালিতি আরো জানান, ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কেননা প্রতিদিনেই নতুন নতুন ভিক্ষুক এখানে একাউন্ট খুলছেন।

ব্যাংক থেকে ঋণও দেয়া শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে  ৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন মাঞ্জি নিজেই।  এজন্য তাকে কোনোরকম কাগজপত্র দেখাতে হয়নি এবং প্রথম মাসে কোনো ইন্টারেস্টও দিতে হয়নি। তবে আগামী মাস থেকে তাকে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট হারে ইন্টারেস্ট দিতে হবে। এ ব্যাংকে ঋণের  জন্য ২ থেকে ৫ টাকা হারে ইন্টারেস্ট দেয়ার  নিয়ম রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *