সন্ধ্যা নদীতে ট্রলারডুবি: ১৮ লাশ উদ্ধার
সারাদেশ

সন্ধ্যা নদীতে ট্রলারডুবি: ১৮ লাশ উদ্ধার

সন্ধ্যা নদীতে ট্রলারডুবি: ১৮ লাশ উদ্ধারবরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার দাসেরহাটে সন্ধ্যা নদীতে যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া এমএল ঐশী নামক ট্রলারটি উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ এটি পানির নিচ থেকে তুলে আনে।

উদ্ধারকারী দল আরো ৪ শিশুর বয়সী লাশ উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এরা মো. সাফুয়ান (৩), মো রিয়াদ (৬ ‍), মো. রাব্বি (৫) ও ১৪ মাস বয়সের মাইশা। এখনো এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ৭ জন।

বিআউডব্লিউটি’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান উদ্ধার হওয়া ১৪ লাশের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা হলেন—বানারীপাড়ার মজিবর রহমানের স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৪০), মজিদ মাস্টারের স্ত্রী সালেহা বেগম (৬০), উজিরপুরের কেশবকাঠি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক (৭৫), বানারীপাড়ার সাঈদ আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫), প্রয়াত চান্দু মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৪৫), প্রয়াত ইসমাইল মোল্লার ছেলে মুজাম্মেল মোল্লা (৬২), রহিম হাওলাদারের স্ত্রী রেহানা বেগম (৩৫), উজিরপুরের মনীন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সুখদেব মল্লিক (৩৫), বানারীপাড়ার আবুল ঘরামীর ছেলে মিলন ঘরামী (৩২), মো. সাগর মীর (১৫), উজিরপুরের সিরাজুল ইসলামের ছেলে জয়নাল হাওলাদার (৫৫), বানারীপাড়ার আবদুল মজিদের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৫), উজিরপুরের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়েশিশু শান্তা (৭) ও স্বরূপকাঠির কামাল হোসেনের স্ত্রী হিরা বেগম।

গতকাল নিখোঁজ থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া যায়। তারা হলো—মৃত উদ্ধার হওয়া মিলন ঘরামীর স্ত্রী খুকু মনি (২৫) ও তাঁদের সন্তান সাফওয়ান (৩), উজিরপুরের খলিল হাওলাদারের স্ত্রী হামিদা বেগম (৪০) ও তাঁর ছেলে নাফফি (৯), লাশ উদ্ধার হওয়া রেহানা বেগমের ছেলে রিয়াদ হাওলাদার (৫), বানারীপাড়ার আবদুল মজিদ হাওলাদার (৪৫), হামেদ হাওলাদারের ছেলে জাকির হাওলাদার (৪০), উজিরপুরের মনিশংকরের স্ত্রী আল্পনা রানী (২৫), বানারীপাড়ার মালেক সরদারের ছেলে রুহুল আমিন (৩০), উজিরপুরের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে রাফি (৭) ও বানারীপাড়ার আলমগীর হোসেনের মেয়েশিশু মারিয়া বেগম (৩) ও সাতবাড়িয়ার খলিলুর রহমানের ছেলে জিদান (৮)।

বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. গাজী সাইফুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি নদী থেকে উপরে তুলে আনা হয়েছে। এ সময় ৪ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, এই ট্রলারটি ৩৬ ফুট লম্বা এবং ৮ ফুট প্রশস্ত। এটি কোন মতেই লঞ্চ হতে পারে না। এর কোন রুট পারমিট বা ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই বলে জানান তিনি।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রী উঠাতে গিয়ে ভাঙন কবলিত দাসেরহাট এলাকায় ট্রলারটি ডুবে যায়।

বানারীপাড়া থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, কোষ্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। এ দিন রাতে খুলনা থেকে নৌবাহিনীর ১৪ জন সদস্য উদ্ধার কাজে যোগ দেন।

ঢাকা থেকে আসা বিআইডব্লিউটি এর ডেপুটি ডিরেক্টর (উদ্ধার) ফজলুর রহমান বলেন, মিডিয়ায় লঞ্চ বলে প্রচারণা ও অনেক যাত্রী নিখোঁজের খবর প্রচার করায় চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। এখন এসে দেখছি এটি লঞ্চ নয়,ট্রলার।

উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দেয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন বলেন, ট্রলার উদ্ধার হওয়াতে তাদের অভিযান ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো ৭ যাত্রী নিখোঁজ থাকায় তাদের তল্লাশি কাজ অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন শিকদার বলেন, এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারের বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলেন, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমএল ঐশী নামের ট্রলারটি বানারীপাড়া থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে উজিরপুর উপজেলার হাড়তার দিকে যাচ্ছিল। পথে সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের দাসেরহাট ঘাটে যাত্রী নামাতে যাওয়ার পথে তীরের কাছাকাছি গিয়ে এটি ডুবে যায়।

সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মৃধা বলেন, যাত্রী নামাতে দাসেরহাট ঘাটে ভিড়ছিল ট্রলারটি। এ সময় হঠাৎ করে নদীর পাড়ের অনেকটা মাটি ভেঙে পানিতে পড়ে। এতে লঞ্চটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং স্রোতের তোড়ে ডুবে যায়।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *