দুবাইয়ে বাংলাদেশি ট্যাক্সিক্যাবচালকের সততার দৃষ্টান্ত

দুবাইয়ে বাংলাদেশি ট্যাক্সিক্যাবচালকের সততার দৃষ্টান্ত

দুবাইয়ে বাংলাদেশি ট্যাক্সিক্যাবচালকের সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। ট্যাক্সিক্যাবচালকের নাম লিটন চন্দ্র নাথ পাল নেপাল (Liton Chandra Nath Pal Nepal)। সম্প্রতি ২৫ কেজি সোনা যাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে পেয়েছেন এর প্রকৃত সম্মান ও স্বীকৃতিও।

দুবাই ট্যাক্সি কর্পোরেশনে কর্মরত লিটন জানান, সম্প্রতি একদিন মধ্যরাতের পর চার যাত্রী নিয়ে দুবাই বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল থেকে দিরার মুরাক্কাবাত যাওয়ার পথে ওই ঘটনা ঘটে।

লিটন বলেন, যাত্রীদের চারটি লাগেজ ট্যাক্সিক্যাবের পেছনে ছিল। রাত পৌনে ৩টার দিকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পর অন্যযাত্রীকে যেভাবে সহযোগিতা করি তেমনিভাবে আমি তাদের লাগেজগুলো গাড়ি থেকে নামাতে চেয়েছিলাম। তবে তারা আমার সহযোগিতা নেননি। যাত্রীরা ভাড়া পরিশোধ করার পর আমি সেখান থেকে চলে আসি।

পরে সড়ক বিভাগের যাত্রীসেবা বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফোনে জানানো হয়, তার ট্যাক্সিতে সোনা রয়েছে। আর এ খবর তিনি পান ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর।

লিটনের ভাষায়, আমি তাদের বলি, ট্যাক্সি তল্লাশি করার পর আমি বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবো।

এরপর তিনি তার ট্যাক্সিতে একটি ধূসর রঙের ল্যাপটপের ব্যাগ দেখতে পান, তার মধ্যে সোনা ছিল। লিটন তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং সেগুলো হস্তান্তর করেন।

ব্যাগের মধ্যে ৪টি মোটা ও ৪টি চিকন সোনার বার ছিল। কর্তৃপক্ষ সোনাগুলো মেপে দেখেন প্রায় ২৫ কেজি। এর মূল্য ৩৫ লাখ দিরহাম। যা বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

যাত্রীদের মধ্যে যাকে মুরাক্কাবাত নামানো হয় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার পর তার কাছে সোনাগুলো তুলে দেয়া হয়। ওই যাত্রী লিবিয়া থেকে এসেছিলেন।

লিটন আরো জানান, সড়ক বিভাগ তার কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা দিয়েছে।

তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইউসুফ আল আলী সততার পুরস্কার হিসেবে তাকে নগদ এক হাজার দিরহাম ও এক বছর বিনামূল্যে আবাসনের সুযোগ দেন।

এছাড়া রেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মহসিন এবরাহিম ইউনুস পুরস্কার হিসেবে নগদ ৫ হাজার দিরহাম দেন। পুরস্কার হিসেবে তাকে একটি সনদও দেয়া হয়।

লিটন বলেন, সততার দৃষ্টান্ত রাখায় আমার মা আমার জন্য আশীর্বাদ করেছেন, বলেছেন, আমি তার জন্য একটি গর্বের কাজ করেছি।

২০১০ সাল থেকে দুবাই ট্যাক্সি কর্পোরেশনে কর্মরত লিটন।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আমার তিন বোনও অনেক খুশী হয়েছে।

লিটন চন্দ্র নাথ যে সোনা পেয়েছিলেন তা দিয়ে তিনি কী করতে পারতেন সে বিষয়ে একটি হিসেব তুলে ধরেছে বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকা গালফ নিউজ।

সেখানে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাই-ঢাকা ৬৬৮টি এমিরেটস বিজনেস ক্লাসের টিকিট, এক হাজার, ১২৯টি আইফোন ৭ প্লাস, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হোটেল প্রেসিডেন্ট উইলসনে ১৫ রাতযাপন, দুবাই ম্যারিনায় অথবা পাম জুমেরায় তিন কক্ষের ওয়াটার ফ্রন্ট অ্যাপার্টমেন্ট এবং নিউইয়র্কে এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট পেতে পারতেন বাংলাদেশি লিটন চন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *