সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ শতাংশ পূরণ ৩ মাসেই
অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ শতাংশ পূরণ ৩ মাসেই

সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ শতাংশ পূরণ ৩ মাসেইঅর্থবছরের প্রথম ৩ মাসেই সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ পূরণ হয়ে গেছে। প্রথম ৬ মাসের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ খাত থেকে ৬ হাজার ৮২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়; যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।

এছাড়া অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৬৭ শতাংশ আর নীট বিনিয়োগ বেড়েছে ২২৫ শতাংশের বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বিনিয়োগে ভাটা, অন্যদিকে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে জমেছে প্রচুর নগদ অর্থ (তারল্য)। লোকসান এড়াতে ও গ্রাহকদের সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলো আমানতে সুদের হার কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি হওয়ায় মানুষ অধিক মুনাফার আশায় ব্যাংকের পরিবর্তে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে। তাছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ও ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করমুক্ত রাখায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন তারা।

সঞ্চয় পরিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ৮৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার। অর্থাৎ বিক্রি বেড়েছে ৩ হাজার ৯৬১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার।

এরমধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৫ হাজার ১৯২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এ হিসাবে প্রথম তিন মাসে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ হচ্ছে ৬ হাজার ৮২০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২২৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ সুদ-আসল পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে ঋণ হিসেবে নেয় সরকার। এ টাকা সরকার তার প্রয়োজনে বিভিন্ন খাতে খরচ করে থাকে।

উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়াতে গত বছরের মার্চ মাস থেকে সুদের হার কিছুটা বাড়িয়েছে সরকার। পরিবার, পেনশনার, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর ও পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করমুক্ত রেখেছে সরকার।

বর্তমানে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সুদহার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বিদ্যমান রয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *