Gaibandha-MP-Liton-shot-dead-at-home

সংসদ সদস্য লিটন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যকে গুলি করার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান বিমল চন্দ্র রায় রাত সাড়ে ৭টার কিছু পরে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে সংসদ সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিকিৎসক বিমল চন্দ্র রায় ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সংসদ সদস্য লিটনকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি লেগেছে বুকে আর তিনটি লেগেছে হাতে। একটি গুলি বুক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষপর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করা যায়নি।’

হাসপাতালে আনার আগেই কি সংসদ সদস্য মারা যান- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। এখানে আনার পর পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে আমরা যখন পাই, তখনই তাঁর নাড়ি, রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না। এর জন্য ভেন্টিলেশন, স্যালাইন, সিপিআরসহ অন্যান্য যা যা করার দরকার আমরা সবাই মিলে তাই করেছি। কিন্তু আধা ঘণ্টারও বেশির সময় ধরে চেষ্টা করেও আমরা তাঁকে ফেরাতে পারিনি। রাত সাড়ে ৭টায় আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে তিনি আর বেঁচে নেই।’
সংসদ সদস্য লিটনের শরীরে গুলির চিহ্ন ছাড়া আর কোনো ক্ষতচিহ্ন নেই বলেও জানান চিকিৎসক। সংসদ সদস্যের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, সেখানেই তাঁর ময়নাতদন্ত হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী খোরশেদ জাহান স্মৃতি বলেন, ‘সংসদ সদস্যকে তাঁর নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় গুলি করা হয়েছে। দুই দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার পরই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

তবে কারা গুলি করেছে এ ব্যাপারে পুলিশ বা সংসদ সদস্যের পরিবার কেউ কিছু বলতে পারছে না।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন,শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে অজ্ঞাতনামা তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে সাংসদের সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার বাড়িতে যান। একজন মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন। বাকি দুজন সাংসদের বাড়ির বৈঠকখানায় যান। সাংসদ বৈঠকখানায় ছিলেন। এ সময় তিনটি গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এর পরপরই দুজন দ্রুত বৈঠকখানা থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

২০১৫ সালের ২ অক্টোবর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্ধ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় এক শিশুকে গুলি করে সারা দেশে সমালোচনার মুখে পড়েন এমপি লিটন। তিনি তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভকে গুলি করেন।

এ ঘটনায় সৌরভের বাবা বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর এমপি লিটনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ ছাড়া এমপি লিটনের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ৬ অক্টোবর আরেকটি মামলা করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার রহমান।

ওই ঘটনায় মামলার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এমপি লিটন। পরে ওই বছরই আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। পরে জামিনে মুক্তি পান।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *