চলমান সঙ্কট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জাতীয়

সংলাপের জন্য ১৩ সদস্যের নাগরিক কমিটি গঠন

চলমান সঙ্কট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।চলমান সঙ্কট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদাকে।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, শিক্ষাবিদ ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা সিএম শফী সামী, সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি এবং সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান এম হাফিজউদ্দিন খান, বেসরকারি সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুর, কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এসএম শাহজাহান, বিজিএমইএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও আইনজীবী শাহদীন মালিক।

শুরুতে নাগরিক সমাজের সঙ্গে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা থাকলেও অরাজনৈতিক প্রতিনিধি পরিষদ গড়ার লক্ষ্যে আলোচনা করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এটিএম শামসুল হুদা বলেন, সংলাপ হতেই হবে, দেশের সকল সক্রিয় রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য প্রথমেই সরকারকে অনুরোধ করছি। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি।

শামসুল হুদা বলেন, আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, তারপর সংলাপ। তবে সহিংসতা বন্ধ করলে বিরোধীদের প্রাপ্য কি সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, এক পক্ষ সহিংসতা করছে । এখন যদি সহিংসতা বন্ধ না করা হয় তবে সরকার কিছু করবে কিভাবে? অপর পক্ষে সরকার যদি তাদের আশ্বস্ত না করে তবে তারাই বা কিভাবে সব কিছু বন্ধ করবে।

সাবেক এই আমলা বলেন, আমরা দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান চাই। খুব দ্রুত ও ২/১ দিনের মধ্যে সমাধান চাই না। আমরা দেশের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করব। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যে চিঠি দিয়েছি সেটাকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেই তো সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে কথা বলছেন। এছাড়া আমাদের গুরুত্ব আছে বলেই সব মিডিয়া থেকে আপনারা এসেছেন।

তিনি বলেন, দেশে এখন আগুন লেগেছে। এই আগুন নিভাতে একটু সময় লাগবে। রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। এখানে আপনাদের আশাহত হওয়ারও কিছু নেই। আমরা আশাবাদি খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা হবে। কারণ রাজনীতিবিদরা অনেক সময় প্রকাশ্যে যা বলেন তা শুধু বলার জন্য বলেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশিরা যে আসছেন এবং তৎপরতা দেখাচ্ছেন এটার ফলাফল ভাল হয় না। আমাদের দেশের সমস্যা আমাদের সমাধান করা উচিৎ। আমরা সরকার ও বিরোধী জোটকে সংলাপের পদ্ধতির কথা বলেছি। সেটা কারো পছন্দ না হলে বিকল্প পথের কথা বলতে হবে। না হলে তো সমাধান হবে না।

সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ সহিংসতা করলে প্রথমে অস্ত্রবিরতি করতে হয়। কিন্তু এই সব গোলাগুলি চললে কিভাবে তারা কথা বলবে?

শামসুল হুদা বলেন, আমরা যে চিঠি দিয়েছিলাম তাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে বলেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, সরকারও বলেছে বর্তমান সহিংসতা কারীদের প্রচলিত আইনে বিচার হবে।

জামায়াতের সঙ্গে সংলাপ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে  তিনি বলেন, সরকার তাদের সঙ্গে সংলাপ করবে কি না সেটা তাদের ব্যাপার। এটা আমাদের মাথাব্যথার কারণ না।

আলোচনার পন্থা কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রথমেই বলতে চাই না। আমরা এখনই কোন বিধান বলে দিলে সেটা গ্রহণযোগ হবে না। আমরা মনে করি এটা রাজনৈতিক সমস্যা তাই আগে আলোচনা শুরু হোক। পরে সুযোগ সৃষ্টি হলে আমরা সহযোগিতা করতে পারি।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি এখানে আমাদের একটা ভূমিকা রাখার প্রয়োজন আছে। তাই এগিয়ে এসেছি। যদি সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেয় তখন বুঝতে পারবো আমরা কি ভূমিকা রাখব।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *