শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে পৃথক বিস্ফোরণে নিহত ২০৭

শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে পৃথক বিস্ফোরণে নিহত

সর্বশেষ
শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন এলাকার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে কয়েক দফা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৭। এদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে পৃথক বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে ১৬০ জন। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।

রোববার সকালে রাজধানী কলম্বোর তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও তিনটি গির্জা ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। আহত দুই শতাধিক। কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। গির্জায় ইস্টারের প্রার্থনার সময় এই হামলা চলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোচচিকাড়ে, নেগোমবো ও বাতিকেলোয়ায় তিনটি গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে বোমা বিস্ফোরণ হয়। এই তিনটি গির্জার একটি রাজধানী কলম্বোতে। বাকি দু’টির একটি কলম্বোর পার্শ্ববর্তী শহর এবং আরেকটি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

হোটেলগুলো হচ্ছে – সাংরি লা, চিন্নামন গ্র্যান্ড এবং কিংসবেরি হোটেল।

আহত অন্তত ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রীলংকার পুলিশকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে,আহতদের মধ্যে বিদেশী পর্যটক রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া ছয়টি স্থাপনায় প্রায় একযোগে বোমা হামলার এই ঘটনায় এখনও দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী।

হামলার পর এক বিবৃতিতে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা মানুষকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে হামলার পর করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক ডাকেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

এছাড়া টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী রনিল তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে হামলার ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ক্রান্তিকালে আমি শ্রীলংকার জনগণকে একত্রিত ও মানসিকভাবে শক্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *