BSEC-to-offload-21-govt-companies-share

শেয়ারবাজারে আসছে সরকারি ২১ কোম্পানি

শেয়ারবাজারে আসছে সরকারি ২১ কোম্পানি। সম্প্রতি অর্থ সচিবের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি মিটিংয়ে শেয়ার অফলোডের ব্যাপারে কোম্পানিগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই বাজারে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোম্পানিগুলো।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সূত্র জানায়, ভালো দামের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এতদিন শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি ঝুলে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজার চাঙ্গা হয়েছে। ফলে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। এতে বিনিয়োগকারী ও সরকার উভয়ের লাভ। সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এসব বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও গত ৬ বছরে বাজারে আসেনি সরকারি ২১ কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে মাত্র ৩টি কোম্পানি প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে। বাকি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের এতদিন কোনো অগ্রগতি ছিল না। মূলধন সংকটে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কিন্তু শেয়ার অফলোডের ক্ষেত্রে গড়িমসি করেছে এসব কোম্পানিতে থাকা সরকারি আমলা।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকারি ৩৪ কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে ওই সময় সে উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে বাজারে ভালো শেয়ারের ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। এরপর সংকট কাটাতে সরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বৈঠকে সরকারি কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে রেখে বাকি শেয়ার পাবলিকের মধ্যে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সময় কোম্পানিগুলোকে ২০১০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ছাড়ার তাগিদ দেয়া হয়।

কয়েকটি কোম্পানির সময়সীমা ২০১১ সালের ১৪ ও ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে এ সময়ে মোট কোম্পানির সংখ্যা ৩৪ থেকে কমে দাঁড়ায় ২৬টিতে। সর্বশেষ শেয়ার ছাড়ার জন্য গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়। এর মধ্যে গত ৬ বছরে ৫টি কোম্পানি শেয়ার ছাড়তে পেরেছে। এগুলো হল- যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও রূপালী ব্যাংক। কিন্তু বাকি ২১টি কোম্পানিই শেয়ার ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছরের ৫ মে তার সভাপতিত্বে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন কোম্পানি তাদের শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এগুলো হল- এসেনসিয়াল ড্রাগস, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস ও লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস। ওই বৈঠকে বাকি কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে অগ্রগতি নিজ নিজ মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার ছাড়তে যেসব কোম্পানি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সেগুলো হল- বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি, ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিড, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতায়- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডটি সিস্টেম, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল টিউবস, বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি, কর্ণফুলী পেপার মিলস ও ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন- বঙ্গবন্ধু সেতু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল সোনারগাঁও, বাংলাদেশ সার্ভিসেসের হোটেল শেরাটন (বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের টেলিটক বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *