ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, শিগগিরই আওয়ামী লীগের পতন হবে।
জাতীয়

‘শিগগিরই আওয়ামী লীগের পতন’

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, শিগগিরই আওয়ামী লীগের পতন হবে।ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, শিগগিরই আওয়ামী লীগের পতন হবে।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ২০-দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘এবার আন্দোলনে আমরা আগে থাকবো, দেখি পুলিশ কী করে গুলি করে। গুলি করে গদি রক্ষা করা যাবে না।’

শনিবার কুমিল্লার টাউন হল মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সাধারণ মানুষের গুলিবর্ষণকারী পুলিশদের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি বিদেশিদের বলবো আপনারা গুলি দেন অপরাধীদের ধরার জন্য। কিন্তু নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালাচ্ছে। বিদেশিদের কাছে আমাদের আহ্বান, আপনারা গুলি, টিয়ারগ্যাস দেবেন না, যারা মানুষ খুন করছে তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন না।’

নেতাকর্মী উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ডাক দিবো, সুদিনের জন্য কিছুটা কষ্ট করতে হবে।’

এর আগে জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই স্মৃতিচারণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানের প্রথম পোস্টিং কুমিল্লাতে হয়েছিল। তাই কুমিল্লাকে নিজের শহর মনে হয়।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কড়া সমালোচনা করে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বলেন, ‘এটা দুর্নীতি দমন কমিশন নয়, এটা হলো দায় মুক্তি কমিশন। এর মাধ্যমে সরকারি লোকেরা একের পর এক দুর্নীতি করে চলছে। আর এরা তাদের দায় মুক্তি দিচ্ছে।’

৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি নেত্রী  বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন হলো আওয়ামী লীগে পা চাটা, আজ্ঞাবহ।’

গণধোলাইয়ের ভয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনই ভোটকেন্দ্রে যায়নি

গণধোলাইয়ের ভয়ে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজনই ভোটকেন্দ্রে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ২০-দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি। আমরা ওই নির্বাচন বর্জন করতে জনগণের প্রতি আহ্বান করেছিলাম। জনগণ ভোট দিতে যায়নি। আওয়ামী লীগের কয়েকজন দোসর ছাড়া কেউই নির্বাচনে যায়নি। গণধোলাইয়ের ভয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনই ভোটকেন্দ্রে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘ওই নির্বাচনের দুদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পা-চাটা নির্বাচন কমিশন ভোটের হিসেব দিতে পারেনি। তিন দিন পর তারা দাবি করে, নির্বাচনে নাকি ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে। অথচ ভোট পড়েছে ৫ ভাগ।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইমাম নির্বাচনের সব জারিজুরি ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি কিভাবে নির্বাচন ব্যালেট বাক্স ভর্তি করেছেন তা বলে দিয়েছেন। এই ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে বৈধ হবে না। আওয়ামী লীগের উচিত তার ইমামিত্ব ছেড়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া।’

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি। ১৫৪টি আসনে কোনো ভোট ছাড়াই তারা নির্বাচিত হয়েছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ এবং সরকার অবৈধ। ওই সংসদে পাস হওয়া আইনও কখনো বৈধতা পাবে না।

এক ব্যক্তির শাসন-শোষণ চলছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে বর্তমানে একদলীয়ও নয়, বরং এক ব্যক্তির শাসন-শোষণ চলছে।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ২০-দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্রের পক্ষের দল নয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্রের পক্ষে নয়, তাদের পক্ষে দেশ এবং জনগণের কল্যাণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলে- আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র। অথচ তারা উন্নয়নও করছে না। উন্নয়ন করলে দেশের রাস্তাঘাটের এমন অবস্থা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে বর্তমানে একদলীয়ও নয়, বরং এক ব্যক্তির শাসন-শোষণ চলছে। তাদের অর্থমন্ত্রীও এখন সত্য কথা বলতে পারছেন না।

খালেদা জিয়া বলেন, ইমামের বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান সংসদ অবৈধ। এখান থেকে আইন পাস করার অধিকার নেই। তারা ক্ষমতার জোরে যা-ই করুক না কেন তা টিকবে না। পার্লামেন্ট এখন তাদের নিজেদের ঘর হয়ে গেছে।’

সম্প্রচার নীতিমালা, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে দেয়ার আইন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জজ সাহেবদের হাত বেঁধে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এইচটি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যে কথা বলেছেন তার পর এইচটি ইমাম এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা ঠিক না।’

তিনি বলেন, ‘এইচ টি ইমামের মাথায় শয়তানি এবং কুবুদ্ধি রয়েছে। পাকিস্তানের সময় দুর্নীতির কারণে তার চাকরি গিয়েছিল। খন্দকার মোশতাকের সময় কেবিনেট সচিব ছিল।’

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাস করছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের অস্ত্রধারীদের নামে মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘খুনি চোরদের জেল খানা থেকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিচ্ছে। একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এমপিকে জামিন দেয়া হয়েছে। অথচ খন্দকার মোশাররফকে জামিন দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সময় ভালো কাজের জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাব গঠন করা হলেও তারা এখন খুনি। নারায়ণগঞ্জে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তা কর্নেল জিয়া জড়িত ছিল। অবিলম্বে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

অবিলম্বে র‌্যাবের বিলুপ্তি দাবি করেন খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকেল সোয়া ৪টায় বক্তব্য শুরু করেন খালেদা। এরআগে শনিবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে জনসভামঞ্চে ওঠেন তিনি।

শনিবার সকাল ১০টা ২২ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে দুপুর ২টার দিকে তিনি কুমিল্লা সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে জনসভাস্থলে যান তিনি।

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরী সভাপতিত্বে দুপুর ১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *