shahid-noor-hossain

শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগ

১০ নভেম্বর ১৯৮৭ মঙ্গলবার বিশাল বিক্ষোভে রূপ নেয় পল্টন। ‘স্বৈরাচার এরশাদের পতন চাই’, ‘গনতন্ত্রের মুক্তি চাই’-এমন সব শ্লোগানে মুখরিত ছিল পল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো।

এদিন ১৫ দল, ৭ দল ও ৫ দলের সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থনে অবস্থান ধর্মঘট ঘেরাও কর্মসূচিতে রূপ লাভ করে। সকাল থেকেই সচিবালয়ের চারদিকে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার মিছিল সমবেত হয়। তোপখানা রোডের মুখে ২৬ বছর বয়সী নূর হোসেন খালি গায়ে লিখেছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক- স্বৈরাচার নিপাত যাক’।

মুহূর্তেই জঙ্গি রূপ নিল মিছিলটি। স্টেডিয়ামের গেটের সামনে আসতে লাল বিআরটিসির ট্রাক থেকে পুলিশের দল গুলি চালায়। গোলাপ শাহ মাজারের সামনে বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি আটকে রাখে পুলিশ। ততক্ষণে মতিঝিলে আল্লাওয়ালা ভবনের সামনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখে পুলিশ। অন্যদিকে স্টেডিয়ামের সামনে গুলিতে আহতদের পুলিশ নিয়ে যায় কন্ট্রোল রুমে। পল্টনে হাউস বিল্ডিংয়ের নিচে শত শত স্যান্ডেল পড়ে থাকে। পুলিশের এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ তখন অনেক আহত হয়।

আহতদের মাঝে পাওয়া যায় না পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক- স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখা নূর হোসেনকে। এদিন মোট তিনজন আন্দোলনকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন অপর দুজন হলেন নুরুল হূদা বাবুল এবং আমিনুল হূদা টিটু।

ইত্তেফাক গ্রুপের মালিকপক্ষের একজন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তখন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে না জানিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে প্রধান বার্তা সম্পাদক আমানউল্লাহ কবিরের সাহসী ভূমিকায় পরদিন ১১ নভেম্বর বুধবার ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয় আলোকচিত্রী পাভেল রহমানের তোলা অবিস্মরণীয় ছবি নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হতে শুরু করলো। এই একটি ছবিই স্বৈরাচার এরশাদের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেয়।
____________________________
শহীদ নূর হোসেন
(জন্ম ১৯৬১- মৃত্যু ১০ নভেম্বর ১৯৮৭ মঙ্গলবার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *