ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের সময় ২-৩ দিন বাড়ানোসহ ৬টি দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী শত নাগরিক কমিটি।
জাতীয়

সিইসির কাছে শত নাগরিক কমিটির ৬ দাবি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের সময় ২-৩ দিন বাড়ানোসহ ৬টি দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী শত নাগরিক কমিটি।ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের সময় ২-৩ দিন বাড়ানোসহ ৬টি দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী শত নাগরিক কমিটি

বুধবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ।

এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন।

সাংবাদিকদের এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকা (উত্তর-দক্ষিণ) সিটিসহ চট্টগ্রামের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সবাই যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সেই দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কাছে তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের দাবিগুলো পালনে সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। যারা প্রার্থী হবেন প্রশাসন যেন তাদের নির্যাতন না করেন তার নিশ্চয়তা চেয়েছি। কারণ যারা প্রার্থী হতে আগ্রহী তারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতা বিবেচনায় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় দুই-তিন বাড়ানোর জন্য দাবি জানানো হয়েছে।

এমাজউদ্দীন আহমদ আরও বলেন, বিএনপির দুটি অফিস দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কথা বলেছি। এছাড়া সারাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের কার্যালয় উন্মুক্ত করার আহ্বান করেছি। কারণ দেশের রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খোলা রাখা হলো রাজনৈতিক সৌন্দর্য।

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুউল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরাও সিইসিকে একথাটি বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচনই পর্যাপ্ত নয়। নির্বাচিত মেয়রকে বরখাস্ত করা, জেলে পাঠানো ও পরিবর্তন করা—এটা গ্রহণযোগ্য না।

শত নাগরিকের কাউকে সমর্থন দেবেনে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি পেলে অবশ্যই শত নাগরিক কমিটি সমর্থন দেবে।

তিনি বলেন, সিইসির কাছে আমরা বলেছি, একটি নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন নির্বাচন করে ইতিহাস সৃষ্টি করুন।

এক প্রশ্নের জবাবে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন হওয়া উচিত। একটি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় নির্বাচন করা উচিত। হেরে গেলেও নির্বাচন অংশ নেওয়া উচিত। নির্বাচন গণতন্ত্রের ভূষণ ও অলঙ্কার।

বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, না না আমরা শত নাগরিকের পক্ষ থেকে এসেছি। শত নাগরিকের এমন সংগঠন ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সিইসির কাছে শত নাগরিকের ৬ দাবি

১. ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেন নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেমূলক মিথ্যা মামলা ও হয়রারি বন্ধ করা। গ্রেফতার এড়াতে যারা গা ঢাকা দিয়ে আছেন সেসব প্রার্থী যাতে প্রকাশ্যে ও মুক্ত অবস্থায় এবং নিরাপদে নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম চালাতে পারে।

২. প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকলে কিংবা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে প্র্রকাশ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

৩. সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা দিতে অন্যান্য প্রার্থীদের কিংবা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত নেতাকর্মীদের গা ঢাকা দিতে বাধ্য করার প্রশাসনিক অপপ্রয়াস রোধে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।

৪. অস্ত্র কিংবা পেশী শক্তি প্রয়োগ কার্যকরভাবে রোধ করার মাধ্যমে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেবে।

৫. নির্বাচনী প্রচারকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে তাদের দায়িত্ব পালনে কমিশন কী ব্যবস্থা নেবে।

৬. সময়ের স্বল্পতা বিবেচনায় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় দুই-তিন দিন বৃদ্ধি করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *