সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন।
জাতীয়

লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন।সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে জামিনের জন্য কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিন শুনানি হয়নি। এ সময় মামলার বাদীসহ শত শত আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দুপুর ১টা ২২ মিনিটে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় হাজির হয়ে তিনি আত্মমর্পণ করেন। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আজ দুপুর একটা ৩৫ মিনিটে একটি গাড়িতে চড়ে থানায় আসেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি গাড়ি থেকে নামেননি। তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আগাম জামিন চাইতে সোমবার লতিফ সিদ্দিকী হাইকোর্টে যাচ্ছেন বলে খবর চাউর হলেও শেষ পর্যন্ত তার সত্যতা মেলেনি। এ নিয়ে সারা দিন গুঞ্জন চলে।

আত্মসমর্পণের পর তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেয়া হয়।

পরে লতিফ সিদ্দিকীকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

কাঠগড়ায় নিশ্চুপ, মুখে মুচকি হাসি

আদালতে আসামির কাঠগড়ায় নিশ্চুপ ছিলেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। মুখে ছিল শুধু মুচকি হাসি।

তিনি নিজের পক্ষে কোনো আইনজীবীও নিয়োগ করেননি। এমনকি নিজেও তিনি আদালতে জামিন প্রার্থনা করেননি।

তাই জামিন প্রার্থনা না করায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান। তবে লতিফ সিদ্দিকীর বিপক্ষে শুনানি করেন মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রেজা।

আদালত থেকে পুলিশের গাড়িতে তুলার সময়ও লতিফ সিদ্দিকীর মুখে ছিল মুচকি হাসি। শুধু কয়েকবার হাত তুলে নেতাসুলভ আচরণ করেন। প্রায় বাকিটা সময় ছিল বুকের উপর তার দুই হাত। ভাবলেশহীনভাবে তিনি পুলিশের গাড়িতে উঠেন।

জুতা ও থু থু নিক্ষেপ

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা ‘লতিফ সিদ্দিকীর দুই গালে, জুতা মার তালে তালে’ এমন নানা স্লোগানে লতিফ সিদ্দিকীর প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানান। লতিফ সিদ্দিকীকে উদ্দেশ করে এসময় বেশ কিছু আইনজীবীকে জুতা ও থু থু নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়। আইনজীবীরা লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারের নির্জন কক্ষে রাখার পাশাপাশি তার ফাঁসির দাবিও জানান। তারা বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী শুধু ইসলাম ধর্মকেই কটাক্ষ করেননি, তিনি বিশ্বের সব ধর্মকেই কটাক্ষ করেছেন।’

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে।

রবিবার রাতে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা নিয়ে নানা নাটকীয়তা তৈরি হয়। তাকে গ্রেতারের দাবিতে মঙ্গলবার হরতালের ডাক দেয় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এ ছাড়া তাকে গ্রেফতার না করা হলে বুধবার ইসলামী ঐক্যজোট ও বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলাম হরতালের ঘোষণা দেয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের আইনি কোনো জটিলতা নেই এবং যেকোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা যাবে।

এদিকে এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বহাল এবং একই সঙ্গে সংসদ অধিবেশন চলমান থাকায় তাকে গ্রেফতারে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, তাকে গ্রেফতারের জন্য স্পিকারের অনুমতি নিতে হবে।

অপরদিকে সোমবার সংসদ অধিবেশন শুরুর আগ মুহূর্তে নিজ কার্যালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারে তার অনুমতি লাগবে না।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে বহিষ্কৃত মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ঢাকায় ফেরেন।

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক আলোচনা সভায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), হজ এবং তাবলীগ জামায়াত নিয়ে কটুক্তি করেন লতিফ সিদ্দিকী।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। লতিফ সিদ্দিকীর এ মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠে সব মহল থেকে। প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিস্কার করেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিস্কার করা হয়। যদিও সংসদ সদস্য হিসেবে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *