‘রোয়ানু’ বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে
জাতীয়

‘রোয়ানু’ বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে

‘রোয়ানু’ বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছেঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ খুব দ্রুত বেগে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। যে কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য সমুদ্র উপকূলবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র কারণে সব ধরণের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।

বিআইডাব্লিউটিএর পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার বিকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরো উত্তর-উত্তরপূর্বে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিপদসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এর আগে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৪ নম্বর সতর্কতা জারি করা হলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদসংকেত, কক্সবাজারে ৬ নম্বর, খুলনা ও মংলা সমুদ্রবন্দরে ৫ নম্বর বিপদসংকেত জারি করেছে।

চট্টগ্রাম বন্ধর চ্যানেলের লাইটাররেজ জাহাজগুলোকে রাত ৮টার মধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন জানান, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মাত্রা একই। ঝড় কোন দিক দিয়ে যাবে তার ভিত্তিতে নম্বর আলাদা করা হয়।

তিনি বলেন, বিপদ সংকেতের মানে হচ্ছে, বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েছে। ঝড়ে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার থাকবে।

শুক্রবার বেলা ১২টায় ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

সে সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

এই ঝড় আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার বিকাল বা সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম-নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পর্যায়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার পাশাপাশি সকল উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। জেলা কন্ট্রোলরুমের নম্বর হচ্ছে ৬১১৫৪৫।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, বরগুনা, বাগেরহাটসহ বেশকিছু উপকূলীয় অঞ্চলে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *