‘রোয়ানু’র আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
জাতীয়

‘রোয়ানু’র আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫

‘রোয়ানু’র আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে ঘর, পাহাড় ধস, গাছ ভেঙে ও ইটের নিচে চাপা পড়ে নিহতের সংখ্যা ২৫ জন ছাড়িয়েছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাতজন, সীতাকুণ্ডে মা ও মেয়ে, আনোয়ারায় দুজন, ষোলশহরে এক শিশু, কক্সবাজারে তিনজন, ভোলার তজুমদ্দিনে গৃহবধূ ও স্কুলছাত্র, দৌলতখানে এক নারী, মনপুরায় নবজাতক, পটুয়াখালীর দশমিনায় এক বৃদ্ধা, লক্ষ্মীপুরে একজন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় মা মেয়েসহ তিনজন, ফেনীর সোনাগাজীতে একজন প্রাণ হারিয়েছে।

‘রোয়ানু’র প্রভাবে শনিবার ভোর থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রমের সময় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ছিল ৬২ কিলোমিটার।

আবহাওয়া অধিদফতরের একজন পূর্বাভাস কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে ঘূর্ণিঝড় সমুদ্রে থাকার সময় শক্তিশালী থাকে, স্থলভাগে উঠে শক্তি ক্ষয় হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’রও তাই হয়েছে। তবে উপকূলের আবহাওয়া এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আমরা এখনও বিপদসংকেত নামানোর ঘোষণা দেইনি। সন্ধ্যা নাগাদ ঘোষণা দিয়ে বিপদসংকেত নামিয়ে ফেলা হবে।’

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে ঘর চাপা পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- জঙ্গল ছলিমপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী কাজল বেগম (৫০) ও তার ছেলে বেলাল হোসেন (১২)।

পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকায় শনিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে ঝোড়ো বাতাসে ইটের আঘাতে রাকিব নামের ১১ বছর বয়সী এক পথশিশু মারা গেছে।

এ ছাড়া নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ভবনের কাচ উড়ে এসে এনামুল কবির নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার রাতে প্রবল বৃষ্টি হয়। এরপর শনিবার সকালে পাহাড় ধসে পড়লে রফিকুল ইসলামের ঘর মাটি চাপা পড়ে। এতে তার স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে কক্সবাজারে কুতুবদিয়া উপজেলায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান ।

নিহতরা হলেন, উপজেলার উত্তর ধুরুং এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. ইকবাল (২৫), উত্তর কৈয়ার বিল এলাকার ফয়েজুর রহমানের ছেলে ফজলুল হক (৫৫)।

জেলা প্রশাসক জানান, ইকবাল দেয়াল চাপায় এবং ফজলুল নৌকার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। আহতদের দুজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পাঁচ জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বাকি তিন জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ভোলা
ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় গাছ ভেঙে ও ঘর ধসে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন— উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশিগঞ্জ গ্রামের নয়নের স্ত্রী রেখা বেগম (৩৫) ও একই এলাকার মো. মফিজের ছেলে আকরাম (১৪)।

বাংলদেশ রেড ক্রিসেন্টের সাইক্লোন প্রিপার্ডনেস প্রোগ্রামের উপ-পরিচালক মো. শাহাবুদ্দবীন সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার শেষরাতের দিকে ভোলায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। ভোর ৪টার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেলে ঘর চাপা পড়ে আকরাম আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টায় সে মারা যান।

এ ছাড়া ঝড়ে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়লে চাপা পড়ে মারা যান রেখা বেগম।

অপরদিকে দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেনু বিবি ঘরচাপায় মারা যান।

পটুয়াখালী
প্রবল ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে শনিবার সকালে ঘর ভেঙে পড়লে পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

দশমিনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে প্রবল ঝড়ো বাতাসে শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ঘর ভেঙে পড়লে চাপা পড়ে নয়া বিবি (৫২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

লক্ষ্মীপুর
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর তেওয়ারীগঞ্জ এলাকায় গাছ পড়ে আনার উল্যাহ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উত্তর তেওয়ারীগঞ্জ এলাকার মৃত বসির উল্যার ছেলে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, আনার উল্যাহ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তেওয়ারীগঞ্জ বাজারে উদ্দেশ্য রওনা হন। এ সময় বাজারের পাশে আসলে গাছের চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় আনার উল্যাহ।

পরে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী ঘূর্ণিঝড়ে একজন মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালী
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় শনিবার বিকেলে দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- মিনারা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে মরিয়ম নেছা (১০)। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. মইন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘রোয়ানু’ কেন?

‘রোয়ানু’ দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের ভাষার একটি শব্দ। ইংরেজিতে এই শব্দটির অর্থ ‘কয়ার রোপ’। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘নারকেলের ছোবড়ার আঁশের দড়ি’।

আটটি দেশ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামের প্রস্তাব করা হয়। এগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ওমান, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড।

এই দেশগুলো থেকে আসা নামের প্রস্তাব থেকে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করা হয়। তবে নামকরণের ক্ষেত্রে সহজ ও সাধারণ মানুষ উচ্চারণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, এমন নামটি রাখা হয়।

নামের প্রস্তাব আসার পর ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরে বৈঠকের মাধ্যমে প্রস্তাবিত নামের মধ্য থেকে একটি নাম বেছে নেয়। তবে একের পর এক সৃষ্ট ঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশের পাঠানো নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নামকরণ করা হয়।

রোববারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়েছে

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানায় রোববারের পূর্বনির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আটটি শিক্ষা বোর্ড, কারিগরী শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার আগামীকাল ২২ মে রোববারের অনুষ্ঠেয় সব পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী ২২ মে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি/ডিআইবিএস পরীক্ষা হবে ২৭ মে শুক্রবার। সকালের পরীক্ষা ৯টা থেকে এবং বিকেলের পরীক্ষা বেলা ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২ মে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষা হবে ২৪ মে মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *