কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বৌ-ভাতের দাওয়াত খেতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতি।
সারাদেশ

রেলমন্ত্রীর বৌ-ভাতের জন্য বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বৌ-ভাতের দাওয়াত খেতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতি।কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বৌ-ভাতের দাওয়াত খেতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতি।

এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তবে স্বয়ং রেলমন্ত্রীই শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ পছন্দ করেন না বলে জানা গেছে। অতি উৎসাহী কতিপয় মাদরাসা শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে এমন কাণ্ড ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশের ন্যায় চৌদ্দগ্রামেও স্কুল ও মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। এরই মধ্যে মাদরাসায় গত ১ ডিসেম্বর সোমবার আরবি প্রথম পত্র, ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আরবি দ্বিতীয় পত্র, ৩ ডিসেম্বর বুধবার কোরআন, ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আকাইদ ও ফিকহ পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু ৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদরাসাগুলোতে ৬ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিতব্য গণিত বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ১৭ ডিসেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে জানানো হয়।

পরীক্ষা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় শিক্ষকরা রেলমন্ত্রীর বৌ-ভাতের দাওয়াতে যাবেন।

এমন খবর শিক্ষার্থীরা অভিভাবকের কাছে বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অথচ উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে যথারীতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন অভিভাবক শুক্রবার ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, কারো বৌ-ভাতের দাওয়াতে যেতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হতে কখনও শুনি নাই।

ছেলে-মেয়েরা অতি উৎসাহী ওই শিক্ষকদের থেকে কোন আদর্শিক শিক্ষা পাবে না বলেও মন্তব্য করেন অভিভাবকরা।

অপরদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন- ‘রেলমন্ত্রী কি তার বৌ-ভাতের জন্য বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছেন? ছেলে-মেয়েদেরকে আগে রুটিন দিয়ে দাওয়াতের অজুহাতে পরীক্ষা বন্ধ করা এটা কোন ধরনের শিক্ষা?

এটা শুধুমাত্র হীন মানসিকতার বহি:প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও চলতি বছর জামায়াতের হরতাল এবং আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েকটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

এ নিয়ে সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীই আন্দোলনকারীদের ধিক্কার জানান। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ পছন্দ করেন না।

চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা খানম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দেয়া রুটিন অনুযায়ী শনিবার যথারীতি গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে’।

শুক্রবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি ও চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার নজমিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ একেএম সামছুদ্দিন বলেন, ‘বার্ষিক পরীক্ষাতো, এমনিতেই বন্ধ দিয়েছি।

উপজেলার সবগুলো মাদরাসার পরীক্ষা কেন বন্ধ-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কি জন্য বন্ধ দিয়েছে আমি জানি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ আফরোজ জানান, পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে খোঁজ নিচ্ছি।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *