মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যাবে। এর সময়সীমা ১৫ দিন ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে।
জাতীয়

রিভিউয়ের সুযোগ পাবেন দণ্ডপ্রাপ্তরা

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যাবে। এর সময়সীমা ১৫ দিন ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে।মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কাদের মোল্লার পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত রায়ে বলা হয়, রিভিউ আবেদন করা যাবে। এর সময়সীমা ১৫ দিন ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম কুদ্দুস জামান পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়টি জানিয়েছেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি পুনর্বিবেচনার ২টি আবেদন খারিজ করেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ। খারিজ আদেশের অনুলিপি ওই দিন বিকেলেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।

২০১০ সালের ১৩ জুলাই একটি মামলায় কাদের মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তদন্ত শুরু হয় ওই বছরের ২১ জুলাই।

২০১১ সালের ২৮ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ৩ জুলাই থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ মানুষ সেদিন বিকেল থেকে জড়ো হতে থাকে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে। প্রতিবাদী এই মানুষগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে তোলে গণজাগরণ মঞ্চ।

এরপর সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইন সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) সংশোধন বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। সংশোধনের ফলে আসামিপক্ষের মতো রাষ্ট্রপক্ষও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সমান সুযোগ পায়। আগে আইনে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ ছিল না।

আইন সংশোধনের পর গত বছরের ৩ মার্চ কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে পরদিন ৪ মার্চ আপিল করেন কাদের মোল্লা। ১ এপ্রিল থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষ হওয়ার ৫৫ দিনের মাথায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। এরপর রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সরকারের ২ প্রতিমন্ত্রীও রাত ১২টা এক মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

এরপরই ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন নিয়ে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বাসায় হাজির হন কাদের মোল্লার আইনজীবীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পরদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেন। ১০ ডিসেম্বর ও পরে পুনর্বিবেচনা চেয়ে ওই ২টি আবেদন করা হয়।

কাদের মোল্লার ফাঁসি পুনর্বিবেচনার ২টি আবেদন খারিজ হওয়ার পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাতেই তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *