Richard-Thaler-wins-Nobel-Prize-in-economics

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রিচার্ড এইচ থ্যালার

চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পদক পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড এইচ থ্যালার। অর্থনৈতিক আচরণের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি।

সোমবার দ্য রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স নোবেল বিজয়ী হিসেবে থ্যালারের নাম ঘোষণা করে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় আচরণ বিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন থ্যালার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ১৯৯৫ সালে যোগ দেন। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে ১৯৭৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়তে যোগ দেওয়ার আগে থেলার ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার, কর্নেল, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন।

‘নাজ’ (Nudge) নামে ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় একটি বই, যার লেখক ছিলেন থ্যালার ও আর সানস্টেইন। ‘বেস্ট সেলার’ ওই বইতে দেখানো হয় সমাজের অনেক সমস্যা সমাধানে আচরণগত অর্থনীতির ধারণা ব্যবহার করা যায়।

২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় থ্যালার আরেকটি আলোচিত বই, ‘মিসবিহেভিং : দ্য মেকিং অব বিহ্যাভিওরাল ইকোনমিকস।’ এ ছাড়া তিনি আরো বই লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন।

অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মনস্তত্ত্বের প্রভাব নিয়ে কাজ করে আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন রিচার্ড থ্যালার। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অর্থনীতিবিদের লেখা ‘নাজ’ নামের বইটি বোদ্ধা ও সাধারণ পাঠক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক সমাদৃত হয়। বইটিতেই তিনি অর্থনীতির একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রক উপাদান হিসেবে ‘নাজিং’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন, যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘আলতো ছোঁয়া’। তিনি মূলত দেখাতে চেয়েছেন, সাধারণ মানুষ তাদের আচরণের মাধ্যমে কীভাবে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারলে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

নোবেল কমিটির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে থ্যালার মানসিক ও আচরণের বিভিন্ন বাস্তবানুগ অনুমানকে ব্যবহার করার প্রস্তাব করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে হাজির করেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তিবোধের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক অভিরুচি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ঘাটতি। তাঁর মতে, এসব বিষয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও বাজারের কার্যকারিতার ওপর সমন্বিতভাবে প্রভাব ফেলে।

সামাজিক অভিরুচির ক্ষেত্রে থ্যালার হাজির করেন ‘ন্যায্যতা’র প্রসঙ্গ। পরীক্ষা ও তত্ত্বের মাধ্যমে তিনি দেখান, উচ্চ চাহিদার সময়ে ভোক্তাদের ন্যায্যতা বিষয়ে সচেতনতা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময় আবার এ সচেতনতা ও এর প্রভাবটি কাজ করে না। তাঁর তৃতীয় নিয়ামক ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের ঘাটতি’ অনেক পুরোনো একটি বিষয় হলেও বাজারব্যবস্থায় এর প্রভাব বিচারের জন্য তিনি এ ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত ‘প্ল্যানার-ডুয়ার’ পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও চটজলদি রূপায়ণের মধ্যে বিদ্যমান অন্তর্গত বিরোধের ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি দেখান যে এ বিরোধের কারণেই বৃদ্ধ বয়সের জন্য বহু আঁটসাঁট পরিকল্পনা করা হলেও অনেকেরই তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন। তিনি এ ক্ষেত্রে ‘নাজিং’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং একেই আত্মনিয়ন্ত্রণ স্বল্পতা কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থাপত্র হিসেবে হাজির করেন। তাঁর মতে, উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের এ আত্মনিয়ন্ত্রণকে উন্নত করা গেলে তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

১৯৬৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এক বছর পর ১৯৬৯ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭৯ জন অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। আজকের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবারের নোবেল পুরস্কার প্রদানের মৌসুম শেষ হলো।

নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে ৯০ লাখ ক্রোনা বা ১১ লাখ ডলার পাবেন রিচার্ড থ্যালার। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

গত বছর ‘চুক্তিতত্ত্ব’ এর উপর গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী হয়েছেন দুই অধ্যাপক। তারা হলেন- ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অলিভার হার্ট ও ফিনল্যান্ডের বেঙ্কট হলস্ট্রম।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *