রাসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আ.লীগের নিজাম

প্যানেল মেয়র না হয়েও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজাম উল আজীম।

প্যানেল মেয়র না হয়েও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজাম উল আজীম।প্যানেল মেয়র না হয়েও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজাম উল আজীম।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি ফ্যাক্স বার্তা রাসিকে এসে পৌঁছেছে। প্যানেল মেয়র না হয়েও মেয়রের দায়িত্বভার পেলেন মহানগর আওয়ামী লীগের এই নেতা। এর আগে মেয়রের দায়িত্বভার নিতে মরিয়া হয়ে ছুটেছেন আওয়ামী লীগপন্থি আরো দুই কাউন্সিলর। এনিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পন্থি কাউন্সিলরদের মধ্যে শুরু হয় টানাপোড়েন।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী রাত আটটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১০৫-এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজাম উল আযীমকে সিটি করপোরেশনের আর্থিক ও অন্যান্য ক্ষমতা প্রদান করা হল।

এদিকে নিজাম উল আজীম জানান, তাকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। যার স্মারক নম্বর ৪৬.০০.০০০০.০৭১.১৮.০৩২.১৫ (অংশ-১).৩২৯। মঙ্গলবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আমিরুল করিম বুলু জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কাউন্সিলর নিজাম উল আযীম ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এদিকে, কাউন্সিলর নিজাম উল আজীম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন, ক’দিন ধরেই এমনটি শোনা যাচ্ছিলো। এর আগে রাসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার নেয়া নিয়ে নাটকীয়তা তৈরী হয়। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৫ দিন মেয়র শূণ্য থাকার পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র পেলো রাজশাহী নগরী।

অন্যদিকে, প্যানেল মেয়রদের পাশ কাটিয়ে আওয়ামী লীগপন্থি কাউন্সিলরকে দায়িত্বভার দেয়ায় নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিষয়টিকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের পরিপন্থি বলেও দাবি করেছেন অনেকেই।

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন আযব দায়িত্বভার পেতেন। কিন্তু নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা এ কাউন্সিলর দীর্ঘ দিন ধরে কারাবন্দি। এরপরে আসে প্যানেল মেয়র-২ প্যানেল ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটোর নাম। কিন্তু গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন নগর যুবদলের সদস্য এ কাউন্সিলর। এদের অবর্তমানে দায়িত্বভার পাবার কথা প্যানেল মেয়র-৩ নুরুন্নাহার বেগমেরই। দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে গত ২৪ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে নিজ প্যাডে ফ্যাক্স ও ডাকযোগে এ চিঠি পাঠান নগর মহিলাদলের যুগ্ম আহবায়িকা হিসেবেও দায়িত্বপালনকারী এ নারী কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেয়। তবে এখনো ওই চিঠির জবাব দেয়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রনালয় এখনো কোন নির্দেশনা দেয়নি। প্যানেল মেয়রকে পাশ কাটিয়ে সাধারণ কাউন্সিলরকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার দেয়া আইনসিদ্ধ কি না জানতে চাইলে, বিষয়টি মন্ত্রনালয়ের এখতিয়ের ভুক্ত বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তবে রাসিকের একটি সূত্র জানায়, নুরুন্নাহার বেগম ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেলে মেয়র মোসদ্দেক হোসেন বুলবুলের অবর্তমানে ফের মেয়রের চেয়ার চলে যেতো বিএনপি পন্থিদের দখলে। আর তা ঠেকাতেই শুরু থেকে বেশ তৎপর ছিলো আওয়ামী লীগপন্থি কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিএনপিপন্থি কোনো কাউন্সিলরই যেন মেয়রের দাত্বিভার না পান সে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে তদ্বিরও করেন নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ রায় হত্যা, নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের ৪টি মামলা আদালত চার্জশীট গ্রহণ করায় রাসিকের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। গত ৭ মে ফ্যাক্সবার্তায় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ আদেশ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশের দায়ের করা অন্তত ১৬ মামলার আসামি মেয়র বুলবুলের বরখাস্তের আদেশ চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছিলো আরএমপি। এসব মামলা থেকে গ্রেফতার এড়াতে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন রাসিক মেয়র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *