রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ‘আনসার আল ইসলাম-২’ নামের একটি সংগঠন।
শিক্ষাঙ্গন

রাবি শিক্ষককে হত্যার দায় স্বীকার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ‘আনসার আল ইসলাম-২’ নামের একটি সংগঠন।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ‘আনসার আল ইসলাম-২’ নামের একটি সংগঠন। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এ হত্যার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পেজ খুলেছে সংগঠনটি। তবে এর আগে এ সংগঠনের নাম শোনা যায়নি এবং তাদের কোনো কর্মকাণ্ডও দেখা যায়নি।

বিষয়টি নজরে আসার পর থেকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।

আনসার আল ইসলাম-২ নামের ওই পেজে ড. শফিউল ইসলামকে ‘মুরতাদ’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, ‘দাড়ি কাটা ও পাঞ্জাবি-পাজামা না পরার শর্তে শিক্ষক নিয়োগের পর ছাত্রীদের বোরকা না পরে ক্লাসে আসতে নির্দেশ দিয়েছে বিভাগীয় সভাপতি ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম। শনিবার ৩ এপ্রিল ২০১০, দৈনিক সংগ্রাম।’

‘আজ এই মুরতাদ তার যথাযথ প্রতিদান পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ’। এতে ড. শফিউল ইসলামের ছবিতে লাল ক্রস চিহ্ন দেওয়া একটি ছবিতে অপরাধ এপ্রিল ২০১০, শাস্তি প্রদান-নভেম্বর ২০১৪। We don’t forget. Insha’Allah we will not forget others.উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, “আল্লাহু আকবার !!! আল্লাহু আকবার !!! আল্লাহু আকবার !!! আমাদের মুজাহিদীনরা আজকে রাজশাহীতে এক মুরতাদকে কতল করেছেন যে তার ডিপার্টমেন্টে ও ক্লাসে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করেছিল। আল্লাহর ইচ্ছায়, আল্লাহর শক্তিতে ও আল্লাহর অনুমতিতে মুজাহিদীনরা আজকে এই মুরতাদকে কতল করেছেন। ইসলাম বিরোধী সকল নাস্তিক-মুরতাদ সাবধান !!!”

এ ছাড়াও ব্লগার রাজীব হায়দার, আশরাফুল আলম, আসিফ মহিউদ্দিন, রাকিব মামুন ও ড. শফিউল ইসলামের ছবি সম্বলিত ওই পেজের কভার ফটোতে লাল ক্রস চিহ্ন ব্যাবহার করে রাজীব হায়দার খতম, আশরাফুল আলম খতম, ড. শফিউল ইসলাম খতম উল্লেখ করা হয়েছে। আর আসিফ মহিউীদ্দন ও রাকিব মামুনের ছবিতে প্রথম প্রচেষ্টা সমাপ্ত, দ্বিতীয় প্রচেষ্ট আসছে লেখা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর কেউ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তা ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক জনপ্রিয় মানবতাবাদী অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসকে ২০০৪-এ একই ভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই খুনের দায়িত্ব স্বীকার করেছিল জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

এদিন অধ্যাপক সফিউল দুপুর আড়াইটের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে কিছু দূরে বিহাস পল্লিতে তার বাড়ির দিকে রওনা হন। হঠাৎই এক দল লোক তাকে ঘিরে ধরে কোপাতে থাকে। তার পরে অস্ত্রটি ছুঁড়ে ফেলে তারা উধাও হয়ে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় একটি রিক্সায় উঠে হাসপাতালে যেতে বলেন অধ্যাপক। কিন্তু কিছু দূরে গিয়েই রিক্সা থেকে পড়ে যান। স্থানীয় লোকেরাই তুলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় সেখানে তিনি মারা যান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধ্যাপক সফিউলের ঘাড় ও মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর জানাজানি হতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। আততায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করেন। রবিবারও ছাত্র ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। রবিবার সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান মজুমদার।

সমাজ বিজ্ঞানের আর এক অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা জানান, অধ্যাপক সফিউলের উপর এই হামলার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *