‘রানা প্লাজা’র প্রদর্শনী-সম্প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

‘রানা প্লাজা’র প্রদর্শনী-সম্প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

‘রানা প্লাজা’র প্রদর্শনী-সম্প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাসাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রানা প্লাজা’র প্রদর্শনী ও সম্প্রচারে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। এমনকি ওই সময়ের জন্য সেন্সর বোর্ডের দেয়া সনদের কার্যকারিতার স্থগিতেরও আদেশ দেয়া হয়েছে।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এই আদেশ দেয়।

শামীম আক্তার প্রযোজিত ও নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত চলচ্চিত্রটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বিবিসিকে জানান, সাভারের রানা প্লাজা ধ্বস এবং ১৭ দিন ধরে ধ্বংসস্তুপের নীচে আটকে পড়া পোশাক শ্রমিক রেশমাকে উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বাণিজ্যিক ধারার প্রেমের সিনেমা ছিল এটি।

নজরুল ইসলাম খানের কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং মুজতবা সউদের লেখা সংলাপ নিয়ে নির্মিত রানা প্লাজা ছবির কাহিনী এগোয় দুই তরুণ-তরুণীর প্রেম, ভালবাসা ও বিয়েকে ঘিরে।

সাইমন ও পরীমনি প্রেম করে বিয়ে করে চলে আসে ঢাকায়। এসে একটি বস্তিতে ওঠে। সাইমন সিএনজি চালায়। এক সময় স্থানীয় মাস্তানদের সঙ্গে মারামারিতে সাইমনের পা ভেঙে গেলে পরীমনি সংসার চালানোর জন্য একটি গার্মেন্টে কাজ নেয়। একদিন ঘটে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার ১৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পরীমনিকে। ছবিতে পরীমনি রেশমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

উল্লেখ্য, নতুন প্রযোজনা সংস্থা এমএ মাল্টি মিডিয়া হাউজ প্রযোজিত ও পরিবেশিত ‘রানা প্লাজা’ ছবির মহরত ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়। মহরতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি, বর্তমানে লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সরওয়ার্দি।

২০১৪ সালের ১৪ জুন ছবিটি ছাড়পত্রের জন্য চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হলে সেন্সর বোর্ড ছবিটির ছাড়পত্র প্রদানে আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে ছবির প্রযোজক শামীম আকতার সেন্সর বোর্ডের আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগও সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর প্রযোজক উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। উচ্চ আদালত ‘ভয়ঙ্কর ও হিংসাত্মক’ দৃশ্য নিরীক্ষা করে সিনেমাটিকে ছাড়পত্র দিতে নির্দেশ দেন বলে জানান সেন্সর বোর্ডের সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন।

পরে সেন্সর বোর্ড ১৬ জুলাই সনদপত্র প্রদান করে। তবে রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরীর দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দৃশ্য বাদ দেয়া হয়নি।

সনদপত্র পাওয়ার পর প্রযোজনা সংস্থা এমএ মাল্টি মিডিয়া আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ছবিটি মুক্তি দেয়ার জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি থেকে অনুমোদন নিয়ে মুক্তির জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু পুনরায় আদালতের নির্দেশে ছবির মুক্তি স্থগিত হয়ে যায়।

‘রানা প্লাজা ছবিটির প্রদর্শনীতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ফিল্ম সেন্সরশিপ অনুযায়ী চলচ্চিত্রে কোন ভীতিকর দৃশ্য প্রদর্শন বা দেখানো যাবে না। কিন্তু এই সিনেমায় বিভিন্ন ভীতিকর দৃশ্য রয়েছে।

কিন্তু আজ অন্য একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিনেমাটি মুক্তিতে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিল।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় যাদের অধিকাংশই ছিল পোশাক শ্রমিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *