রাজনের জন্য শোকগাঁথা

ঘটনার পর পুলিশ যেখানে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে তখন বুঝবেন আপনাদের ও আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্র নেয়নি, নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব আজ নিজেদের ।

ঘটনার পর পুলিশ যেখানে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে তখন বুঝবেন আপনাদের ও আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্র নেয়নি, নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব আজ নিজেদের ।ফজলে এলাহী পাপ্পু

গত ৪ দিন ধরে কিশোর সামিউল আলম রাজনের ছবি ফেসবুক কভার বা প্রোপিক দিয়ে প্রতিবাদ করছেন তাঁদের বলছি শুনুন – যে দেশে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য ভোটারবিহীন সরকার নির্লজ্জভাবে নিজের বৈধ বলে দাবী করতে পারে আর সেই নির্লজ্জ সরকারের পক্ষে মিডিয়া দালালি করতে পারে সেই দেশের সর্বক্ষেত্রে মানবিক অবক্ষয় মহামারি আকারে ধারন করবে এটাই স্বাভাবিক ।

ঘটনার পর পুলিশ যেখানে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে তখন বুঝবেন আপনাদের ও আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্র নেয়নি, নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব আজ নিজেদের । রক্ষক আজ ভক্ষক,খুনি সন্ত্রাসীদের বন্ধু সেখানে এই প্রোপিক বদলানোর সংস্কৃতি দিয়ে কিচ্ছু হবে না ।

যখন দেশের সরকার দলীয় একজন নেতা রাজন হত্যাটির জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেয় তখন প্রমাণিত হয় দেশের রাজনীতিবিদদের নৈতিক অবক্ষয় কত মহামারি আকার ধারন করেছে।

আমাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পচে গেছে । পুরো রাষ্ট্রকে নৈতিক অবক্ষয় গ্রাস করে ফেলেছে সেটা বুঝতে আর জ্যোতিষী হওয়া লাগে না। ঘটনার পর পুলিশ যেখানে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে তখন বুঝবেন আপনাদের ও আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্র নেয়নি, নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব আজ নিজেদের । রক্ষক আজ ভক্ষক,খুনি সন্ত্রাসীদের বন্ধু সেখানে এই প্রোপিক বদলানোর সংস্কৃতি দিয়ে কিচ্ছু হবে না । কতদিন কতবার আপনার ফেসবুক প্রোপিক বদল করে এভাবে বিভিন্ন ইসুতে প্রতিবাদ জানাবেন বলতে পারেন ?

রাজনের কান্না, আকুতি ও নির্মম মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলো যে এই দেশে কোন সাহসী মানুষ নেই , যারা ইস্যুর পর ইস্যু পেয়েও নিজেদের জাগ্রত করতে পারেনি, যারা ইস্যুর পর ইস্যু পেয়েও অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে শিখেনি তাঁদের কাছে জীবনের ভিক্ষা চেয়েও কোন লাভ হবে না।

ভুমিকম্প ছাড়াই এইদেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাহিরে থেকে চকচকে সোনা মনে হলেও এইদেশ বহু আগেই শেষ যার প্রমান রাজন। রাজন এইদেশের মানুষেরা শুধু তোমার ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার বানিয়ে ফেসবুকে রাখতে পারবে কিন্তু দেশটাকে রক্ষা করতে পারবে না। কাল কিংবা পরশু তোমার মতো আরও কোন রাজন মারা গেলে তুমি আমাদের ক্ষমা করে দিও ,আর নয়তো তোমার সবটুকু ঘৃণা দিয়ে এইদেশের মানুষ নামের টিকটিকিদের তুমি অভিশাপ দিও যেন ওরা ধ্বংস হয়ে যায় , ধ্বংস হয়ে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। আমি দুঃখিত রাজন অন্য সবার মতো তোমার ছবিকে ফেসবুক প্রোপিকে দিয়ে মেকি প্রতিবাদ না করায়।

রাজনের জন্য শোকগাঁথা

এই দেশেরই একটি কিশোর
রাজন ছিল নাম
গরীব দেশের গরীব ঘরে জন্ম নেয়ায়
করলো বরণ নির্মম পরিনাম ।
মানুষ নামের হায়েনাগুলো শিকার পেয়ে
উল্লাসেতে মাতে
আশাপাশে টিকটিকগুলো দেখলো চেয়ে
কার কি আসে যায় তাতে?
দুদিন পরে টিকটিকি সব
প্রতিবাদে ফাটে
চারিদিকে হৈ হৈ উঠে
এভাবে কি দিন কাটে?
হায়েনাগুলো মুচকি হাসে
টিকটিকিদের দেখে
দিনে দিনে টিকটিকি সব
যাচ্ছেরে ভাই পেকে।
হায়েনারা বলে এ আর নতুন কিছু নয়
দুদিন পরপর টিকটিকিদের
এমন কিছুই হয় ।
ইস্যুর পরে ইস্যু আসবে
টিকটিকিরা নতুন কিছু
পেয়ে ভুলে যাবে।
আমরা আমাদের শিকার ধরে
উল্লাস করেই যাবো
লাল সবুজের এই দেশটাকে
জঙ্গল করেই রাখবো ।

রাজন তোমার করুন আকুতি
আমার কানে বাজে ,
আমিও যে টিকিটিকি এক
প্রতিবাদ করা কি মোর সাজে?
হায়েনার সাথে লড়াই করার
সাহস মোদের নেই তো
আমরা শুধু প্রোপিক বদলাই
সব প্রতিবাদ এই তো ।
দিনে দিনে এদেশটা কখন
হায়েনার রাজ্য হলো!
সেই খবরটা রাখেনি কেউ
কি করবো আজ বলো?
রাজন তুমি এই আমাদের
দাওনা অনেক অভিশাপ
আমরা যেন ধ্বংস হয়ে যাই
হয়না যেন আর কোনদিন এমন পাপ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *