রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশেরও কম

রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশেরও কম

231
0
SHARE

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশেরও কম। ২০০৯-১০ অর্থবছরের পর কোনো প্রান্তিকেই রপ্তানি আয়ে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। যদিও মাসভিত্তিক হিসাবে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোনো কোনো সময়।চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশেরও কম।

২০০৯-১০ অর্থবছরের পর কোনো প্রান্তিকেই রপ্তানি আয়ে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। যদিও মাসভিত্তিক হিসাবে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোনো কোনো সময়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি স্থগিতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের রপ্তানি খাতে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার রপ্তানি আয়ের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০.৮৮ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরেও একই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ২১.২৪ শতাংশ।

ইপিবির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি  খাত থেকে আয় হয়েছে ৭৬৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭৬২ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি কারণে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি খাত কিছুটা হলেও হোঁচট খেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কারণটিই হলো তৈরি পোশাকের মূল গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয় কমে যাওয়া।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে ১.৫১ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের গন্তব্য জার্মানির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা মজবুত নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় আমদানিকারকদের আমদানি খরচ বেড়েছে; যার প্রভাবে রপ্তানি আয়ে ভাটা পড়েছে। এছাড়া রয়েছে পোশাক শিল্প মূল্যায়ন পরিস্থিতি। মূল্যায়ন শুরুর পর এ শিল্পের কারখানা সংশোধন শুরু হলেও তা এখনো প্রক্রিয়াধীন। ফলে ক্রেতারা এখনো পূর্ণ গতিতে ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেননি। তবে পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের শুধু সেপ্টেম্বরে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে ঋণাত্মক হয়েছে; যার হার ১.৪৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আয় হয়েছে ২৫৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আয় হয়েছিল ২৫৯ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু খাতে রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। এসব খাতের মধ্যে আছে পোশাক শিল্পের নিট ও ওভেন পণ্য, পাট এবং পাটজাত পণ্য, ফার্নিচার, চামড়া ও হিমায়িত খাদ্য। এর মধ্যে পোশাক শিল্পের আয় মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। কারণ রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এ খাত থেকে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক শিল্পের ওভেন খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২.৬৬ শতাংশ। আয় হয়েছে ২৯৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৩০৪ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

এদিকে নিট খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছে ৩২৭ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ৩.৪৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি ২ লাখ ডলার। আর সে সময় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৪.৪৩ শতাংশ।

তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রম পরিবেশ নিয়ে ক্রেতাদের নেতিবাচক মনোভাবই পোশাক শিল্পের ওভেন খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আলোচ্য সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য, ফার্নিচার, চামড়া এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

এরমধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক ৩.৯৪, ফার্নিচারে ৪.২২, চামড়ায়  ৮.৭৯ ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যে ০.২৫ শতাংশ।

পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার, ফার্নিচার থেকে ৬৫ লাখ ৮০ হাজার, চামড়া থেকে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যে ১৯ কোটি ৮ লাখ ডলার।

পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সচিব এ বারিক খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে।

পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় পাটের অন্যতম মূল গন্তব্য ভারতের আমদানিকারকদের আমদানি খরচ বেড়েছে। ফলে ভারতে কাঁচা পাট রপ্তানি কমেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে সরকারি নীতি কার্যকর হয়নি। সবকিছুর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি আয়ে।

রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় কমলেও প্রবৃদ্ধির ধারা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ যেসব পণ্য অবদান রাখছে, তার মধ্যে অন্যতম খাতগুলো হলো কৃষিপণ্য, চামড়াজাত ফুটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, অন্যান্য ফুটওয়্যার ও বাইসাইকেল। এ পণ্যগুলোর প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৭.১০, ২৯.৯১, ৩.১৪, ১৪.৪৯ ও ৩৬.৭৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ পণ্যগুলো রপ্তানি করে আয় হয়েছে যথাক্রমে ১৮ কোটি ৬৮ লাখ ২০ হাজার, ১৪ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার, ১৮ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার, ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ও ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

Comments

comments