রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ১

রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ১

রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ১ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম হাবিবুর রহমান (২৬)। এই ঘটনায় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়া শাহ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবাট বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ওই এলাকার ঠাকুরপাড়ার কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে।

যে ব্যক্তি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর বাড়িসহ পাঁচটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করে তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে হাবিবুর রহমানকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুর মেডিকেলের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন বলেন, এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল রয়েছেন। তাঁর অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে ওই এলাকার টিটু চন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তি মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করেন। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লিরা এক জোট হয়ে পাগলাপীর বাজারে মানববন্ধন শুরু করেন। এ সময় ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আশপাশের কয়েক হাজার মুসল্লি সমবেত হন।একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ঠাকুরপাড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রংপুর পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, তারা এ ঘটনা নিয়ে কয়েকদিন ধরে এলাকার লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা এ নিয়ে দায়েরকৃত মামলার আসামিকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি আসামিকে গ্রেফতারের জন্য নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় পুলিশ অভিযান চালিয়েও অভিযুক্ত টিটু চন্দ্র রায়কে পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *