যেভাবে সন্ধান মিলল সালাহ উদ্দিন আহমেদের

ভারতের পুলিশ বলছে, সালাহ উদ্দিনকে শিলং শহরের বাসিন্দারা উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখার পর তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

ভারতের পুলিশ বলছে, সালাহ উদ্দিনকে শিলং শহরের বাসিন্দারা উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখার পর তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।ভারতের পুলিশ বলছে, সালাহ উদ্দিনকে শিলং শহরের বাসিন্দারা উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখার পর তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথমে তাকে সেখানকার পোলো গ্রাউন্ড গল্ফ লিঙ্ক এলাকায় দেখা যায়।

পরে তার মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে একটি সরকারি মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিলং শহরের পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট বিবেক সিয়াম বিবিসিকে বলেন, একজন ব্যক্তি উদভ্রান্তের মতো ঘুরছেন – এই খবর পেয়েই তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।

অপরদিকে মেঘালয়ের সংবাদ মাধ্যম ‘শিলং টাইমস’ জানিয়েছেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে সোমবার সকালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আজ মঙ্গলবার ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের দ্য নর্থ-ইস্ট টুডে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে দাঁড়ানো অবস্থায় সালাহ উদ্দিন আহমেদের একটি ছবিও দেখানো হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরিহিত সালাহ উদ্দিনের গায়ে জড়ানো রয়েছে একটি খয়েরি-সাদা চেক চাদর। তাঁর হাত ধরে রেখেছেন একজন পুলিশ সদস্য। পেছনে দেখা যায় হাসপাতালের একজন নার্সকে।

‘বাংলাদেশি ম্যান হেল্ড ’ শিরোনামে একটি সংবাদ মঙ্গলবার পত্রিকাটির তৃতীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিক সালাহ উদ্দিন আহমেদকে (৫৪) শিলংয়ের গলফ লিংক থেকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে বিএনপির ‘নিখোঁজ’ যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের হাসিনা আহমেদ বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ শিলংয়ের মিমহ্যানজ মেন্টাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই প্রথমে আমাকে ফোন করে বলে আপনার স্বামী আপনার সাথে কথা বলবেন। এরপর আমি তার সাথে কথা বলি।

মেঘালয় পুলিশকে সালাহ উদ্দিন জানান, তিনি বাংলাদেশের বৃহত্তর দল বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদও একজন নেত্রী। তখন পুলিশ তার কাছে বৈধ কাগজ দেখতে চাইলে সালাহ উদ্দিন তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এর পর মেঘালয় পুলিশের জেরায় সালাহ উদ্দিন বার বার নিজের একই রাজনৈতিক পরিচয় দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ সালাহ উদ্দিন আহমেদকে মানসিক ভারসাম্যহীন ভেবে গ্রেফতার করে মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ এ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে ডাক্তারদের সালাহ উদ্দিন জানান, তিনি পাগল বা মানসিক রোগী নন। বাংলাদেশের বিএনপি নামের রাজনৈতিক দলের বড় একজন নেতা তিনি। এর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বাসায় ফোন করে মেঘালয়ে অবস্থানের কথা জানান সালাহ উদ্দিন।

মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মানসিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন। এর পর তাকে মেঘালয় সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে সে দেশের পুলিশ আটক করেছে বলে স্থানীয় দ্য শিলং টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে।

বাংলাদেশী ম্যান হেল্ড’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে পত্রিকাটি বলছে, সোমবার সকালে একজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে পুলিশ। সালাহ উদ্দিন আহমেদ (৫৪) নামে ওই বাংলাদেশীকে শিলংয়ের গলফ লিংক নামক এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ তার ব্যাপারে তদন্ত করছে।

এদিকে বাংলদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ জানান, সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ জানান, মেঘালয়ের শিলংয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

গত ১০ মার্চ রাতে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উত্তরার একটি বাসা থেকে সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *