আজ ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় সঙ্গীত যুক্তরাষ্ট্রবাসীর অন্যতম প্রিয় গান। কিন্তু সে জাতীয় সঙ্গীতের রয়েছে অনবদ্য এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাস।
সাময়িকী

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস

আজ ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় সঙ্গীত যুক্তরাষ্ট্রবাসীর অন্যতম প্রিয় গান। কিন্তু সে জাতীয় সঙ্গীতের রয়েছে অনবদ্য এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাস।আবু তাহির মুস্তাকিম

আজ ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় সঙ্গীত যুক্তরাষ্ট্রবাসীর অন্যতম প্রিয় গান। কিন্তু সে জাতীয় সঙ্গীতের রয়েছে অনবদ্য এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাস।

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর পোতাশ্রয়। ১৮১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের এক বৃষ্টিস্নাত রাত। ম্যাকহেনরি দুর্গকে লক্ষ্য করে অঝোর ধারায় গোলা বৃষ্টি পড়ার দৃশ্য দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ বছর বয়সী আইনীজীবী ফ্রান্সেস স্কট কি। ১৮১২ সালের যুদ্ধ ১৮ মাস ধরে চলছে, আর স্কট কি এক মার্কিন বন্দির মুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশি জেনে ফেলার আশঙ্কায় বৃটিশরা তাকে উপকূল থেকে আট কিলোমিটার দূরের এক জাহাজে থাকার ব্যবস্থা করেছে। রাত নেমে এলো। সে অবস্থায় আকাশ লাল বর্ণ ধারণ করায় তিনি আক্রমণের ভয়াবহতা অনুমান করতে পারলেন। কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ধোঁয়া স্তিমিত হয়ে এলে তিনি বিস্ময়ের সাথে দেখেন, দুর্গে বৃটিশ পতাকার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়ছে।

স্টার স্প্যাঙ্গেল্ড ব্যানার বা যুক্তরাষ্ট্রের মূল পতাকাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী নিয়ে গর্বিত স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের তথ্য অনুযায়ী- এ দৃশ্য দেখে স্কট কি এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েন যে, তিনি উৎসাহের সাথে একটি কবিতা লিখে ফেলেন। পরে তিনি তার এ কবিতা দেখান তার বোন জামাই জোসেফ নিকলসনকে। তার এ বোন জামাই ছিলেন ম্যাকহেনরি দুর্গে মিলিশিয়াদের কমান্ডার।

স্কট কি’র কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে নিকলসন এ কবিতাটি বাল্টিমোরের এক ছাপাখানায় নিয়ে যান। ম্যাকহেনরি দুর্গের প্রতিরক্ষা নামে কবিতাটি ছেপে বিতরণ করেন তিনি। এর সাথে কবিতাটি কোনো সুরে গান আকারে গাইতে হবে তার সুর নির্দেশিকাও ছিল। এর পরপরই বাল্টিমোর প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় তা পুনর্মুদ্রিত হয়। স্টার স্প্যাঙ্গেল্ড ব্যানার নামে পরিচিতি পাওয়া এ কবিতা কয়েক সপ্তার মধ্যে ছাপা আকারে যুক্তরাষ্ট্ররজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। স্কট কি’র কবিতা এবং শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে যাওয়া জাতীয় পতাকা নিয়ে শুরু হয় উদযাপন-উল্লাস।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ১৮৮৯ সালে প্রথমে গানটি গ্রহণ করে। বাজতে থাকে বিভিন্ন অপেরায়। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এ গানের আবেদন ছিল অদম্য। ১৯১৬ সালের দিকে এসে এ গান এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে, এর বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি হতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর একটি সরকারি সংস্করণ তৈরি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পাঁচজন সুরকার পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সরকারি সংস্করণ তৈরির কাজ করেন। ১৯১৭ সালের ডিসেম্বরে মানসম্মত এ সংস্করণ প্রথম পরিবেশন করা হয় কার্নেগি হলে। কংগ্রেসের অনুমোদন আর প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের স্বাক্ষরের পর স্টার স্প্যাঙ্গেল্ড ব্যানার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি পায় ১৯৩১ সালের ৩ মার্চ।

স্টার স্প্যাঙ্গেল্ড ব্যানার দিয়ে একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতকে বুঝে থাকে মার্কিনীরা। তবে স্কট কি’র জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিরোধ-বিবাদও কম হয়নি। নানা মহল থেকে এ জাতীয় সঙ্গীত বন্ধের দাবিও উঠেছে। কিন্তু সবকিছু সত্বেও টিকে আছে স্কট কি’র স্টার স্প্যাঙ্গেল্ড ব্যানার। আর তা গেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নানা সময়ে তারকা খ্যাতি পেয়েছেন জিমি হেনড্রিক্স, মারভিন গায়ে, হুইটনি হিউস্টন, বিয়ন্সে থেকে হালের লেডি এন্টেবেলাম পর্যন্ত।

Comments

comments

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *