জেনে নিন মেছতা দূর করার প্রাকৃতিক পদ্ধতি

জেনে নিন মেছতা দূর করার প্রাকৃতিক পদ্ধতি

438
0
SHARE

জেনে নিন মেছতা দূর করার প্রাকৃতিক পদ্ধতিমেছতা দূর করার কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি জেনে নিন যা আপনার মেছতা ধীরে ধীরে কমাতে সাহায্য করবে। জেনে নিন মেছতা দূর করার প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে।

১. ঘৃতকুমারী পাতার রস
ঘৃতকুমারী পাতার রস বিষাক্ত উপাদানের প্রতি বিশেষ ভুমিকা পালন করতে পারে । এ জন্য মেছতার ওপর ঘৃতকুমারী পাতার রস রেখে দিলে আক্রান্ত ত্বক নরম হবে এবং চিহ্ন ধীরে ধীরে চলে যাবে। যদি মেছতা খুব বেশি হয় তাহলে ঘৃতকুমারী পাতার রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রত্যেকবার ১০ মিলিলিটার করে প্রতিদিন দু’বার পান করতে পারেন। এতে মেছতা তাড়াতাড়িই চলে যাবে।

২. অ্যালোভেরা জেল
একটা সজীব অ্যালোভেরার পাতা কেটে এর ভেতরের জেল সারা মুখে লাগিয়ে এক দুই মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন দুইবার করে কয়েক সপ্তাহ করলে মেছতা চলে যাবে।

৩. লেবুর রস
লেবুর রস একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী। এটি স্বাভাবিকভাবে ত্বকের মরা কোষ দূর করতে সাহায্য করে। একটি লেবু কেটে রস বের করে মুখের মেছতা আক্রান্ত স্থানে সরাসরি মেখে ২০মিনিট রেখে, হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন দুই দিন করে টানা তিন সপ্তাহ লাগিয়ে দেখুন মেছতা গায়েব হয়ে যাবে।

৪. ওটমিল
ওটমিল একটা দারুণ এক্সফলিয়েটিং উপাদান যা ত্বকের ব্রাউন স্পট ও মৃতকোষ সরিয়ে স্কিনকে করে উজ্জ্বল গ্লোয়িং। দুই চা চামচ ওটমিল, দুই চা চামচ দুধ এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে স্কিনের মেছতা আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর পানি দিয়ে হালকা ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করে এক মাস ব্যবহার করলে মেছতা চলে যাবে।

৫. হলুদ
হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনকারী হিসেবে পরিচিত। কাঁচা হলুদের মধ্যে থাকা নানা গুণাগুণ ত্বকের মেলানিন কমিয়ে মেছতা হালকা করতে খুবই কার্যকর। এজন্য এক চা চামচ হলুদের সাথে ৫ চা চামচ তরল দুধ, দুই চামচ বেসন দিয়ে ব্লেন্ড করে ঘন ক্রিমের মত পেস্ট তৈরি করুন। এবার মেছতা আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে মুছে নিন। প্রতিদিন একবার করে করুন। দুই সপ্তাহের মধ্যেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

৬. অ্যাপল সিডার ভিনেগার
এর মধ্যে থাকা এসিটিক এসিডের কারণে এটি খুব কার্যকরি একটি স্কিন ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে স্বীকৃত। সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগার নিয়ে মিশিয়ে মেছতা আক্রান্তস্থানে লাগান এবং বাতাসে শুকাতে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলে হালকাভাবে মুখ মুছে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে করুন।

৭. কাঠ বাদাম
কাঠবাদামের মধ্যে থাকা হাই প্রোটিন ও ভিটামিন সি ত্বককে মসৃণ করার পাশাপাশি রঙ হালকা পুষ্টি যুগিয়ে সজীবতা আনে। এটি মেছতা দূর করতেও সমানভাবে কার্যকর। দুই চামচ বাদাম বাটা অথবা গুড়ার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে মুখে মেছতার উপর লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে মুছে নিন। পরিবর্তন না দেখা পর্যন্ত সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এ কাজ করুন। অথবা ৬/৭ টি বাদাম সারাদিন কয়েক চা চামচ দুধের ভিতর ভিজিয়ে রাখুন। এরপর বেটে ক্রিমের মত বানান। এবার এই ক্রিমটি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন সারা রাত। প্রতিদিন একবার করে টানা দুই সপ্তাহ লাগান।

৮. পেঁপে
পেঁপের ভিতর থাকা পেপেইন নামক এনজাইমের কারণে এটি ন্যাচারাল এক্সফলিয়েটিং এজেন্ট হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। এটি স্কিনের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সারিয়ে তোলে ও মৃতকোষ দূর করে। আধা কাপ পাকা পেঁপে, দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এবার আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে কয়েক মাস লাগাতে হবে।

৯. চন্দন গুড়া
ত্বকের রঙ বৃদ্ধিকারী উপাদানগুলো মধ্যে খুব ভালো হল চন্দন। এটি ত্বকের যে কোন দাগ সারাতে খুব ভালো কাজে দেয়। মেছতার মত জেদি দাগ সরাতেও এটি কার্যকর। সমপরিমাণ চন্দন গুড়া, দুধ, লেবুর রস আর হলুদ মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মেছতা আক্রান্ত স্থানে মাখুন। এবার এটাকে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে পানির ঝাপটা দিয়ে মাস্কটা নরম করে বৃত্তাকার পথে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।

Comments

comments