মুর্খের চেয়ে অর্ধশিক্ষিতরা বেশি ভয়ঙ্কর’ প্রথম আলোর যুগ্ম -সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ।
জাতীয়

‘মূর্খের চেয়ে অর্ধশিক্ষিতরা বেশী ভয়ঙ্কর’

মুর্খের চেয়ে অর্ধশিক্ষিতরা বেশি ভয়ঙ্কর’ প্রথম আলোর যুগ্ম -সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ।মুর্খের চেয়ে অর্ধশিক্ষিতরা বেশি ভয়ঙ্কর’ প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ।

‘প্রধান বিচারপতি বেছে নেওয়া’ সংক্রান্ত কলাম লেখার কারণে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে করা আবেদনের শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কলামে উল্লেখিত, ‘প্রধান বিচারপতি বাছাইয়ে জ্যেষ্ঠতা যেমনি, তেমনি নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মতামতকে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি হতে গিয়ে তিনি কারো করুণা এবং অনুগ্রহের পাত্র হবেন না।’ এর বিপরীতে বিচারপতি এএইচ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এ মন্তব্য করেন।

বিচারপতি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে বুঝার মতো যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। অর্ধ শিক্ষিত লোকের ক্ষেত্রে এটা বুঝা সম্ভব নয়।

তখন আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ তার কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, অনেক মনীষী বলেছেন, তোমরা মূর্খের নিকট যাও, কিন্তু অর্ধশিক্ষিতের নিকট যেওনা।

কলামে উল্লেখিত ‘আমাদের নিম্ন আদালত বা বাইরে থেকে উপযুক্ত কাউকে প্রধান বিচারপতি করলে সংবিধান বাধা দেবে না। যোগ্যতর হলেও কখনো জ্যেষ্ঠতমের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সৎ হলেও কেউ মধ্যম মানের হতে পারেন। এই দুটোই পরিত্যাজ্য। আমরা যোগ্যতমকে বেছে নেওয়ার পক্ষে। আমাদের একজন সৃজনশীল জুডিশিয়াল স্টেটসম্যান দরকার।’

এ বিষয়ে আবেদনকারী আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ বিচারপতিদের উদ্দেশ করে বলেন, এখানে আন্ডার লাইন করুন।

তখন আইনজীবী বলেন, মিজানুর রহমান খান কি নিম্ন আদালতের কোনো বিচারক, কেবিনেট সেক্রেটারি বা উত্তর পাড়া থেকে কাউকে প্রধান বিচারপতি করার পক্ষে।

এ বিষয়ে বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞা বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারক যদি প্রধান বিচারপতি হতে পারেন তাহলে তো সহকারী জজ প্রধান বিচারপতি হয়ে যাবে।

মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে কিনা, সে ব্যাপারে সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম, আজমালুল হোসেন কিউসি ও এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মতামত জানতে চান আপিল বিভাগ।

মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আদালতের ওপর হস্তক্ষেপের বিষয়ে তারা যদি কোনো ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের শোকজ করে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।

আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, তিনি (মিজানুর রহমান খান) একজন অভ্যাসগত আদালত অবমাননাকারী। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আদেশ দেওয়া উচিত।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালত অবমাননার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, ‘প্রধান বিচারপতি বাছাইয়ে জ্যেষ্ঠতা যেমনি, তেমনি নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মতামতকে বিবেচনায় নিতে হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যখন নতুন একজন প্রধান বিচারপতি বেছে নিতে হবে, তখন মিজানুর রহমান খানের এমন কলাম আদালতের ওপর মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে দেওয়ার কাজ করবে।

মাহবুবে আলম বলেন, ১৯৪৭ সালের পর আজ পর্যন্ত বিচার বিভাগকে নিয়ে এমন বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য কেউ করেনি।

‘প্রধান বিচারপতি সংবিধানকে ন্যায়বিচারের একটি প্রকৃত হাতিয়ারে পরিণত করবেন। তার হৃদয়ে এমন একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন থাকবে, যাতে জাতীয় সংস্কৃতির বিস্ময়গুলো সামনে এগিয়ে যাবে। তিনি লন্ডন বা ওয়াশিংটনের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করবেন না। টেমস কিংবা পোটোমেক নয়, গঙ্গা ও যমুনার মতো হয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম প্রবহমান থাকবে। সংবিধান একটি সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের জন্য দাঁড়িয়ে আছে, রয়েছে এমন একটি গণতন্ত্রের জন্য, যেখানে প্রত্যেক ক্ষুদ্র ব্যক্তিকেও গণনায় নেওয়া হবে। সুতরাং আমাদের এমনই একজন প্রধান বিচারপতি বাছাই করা দরকার, যিনি তার পারিবারিক জীবনে, তার নিজের অতীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় বর্ণিত ধ্যান-ধারণার সঙ্গে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। আর এটাই হল সেই সর্বোচ্চ বিচারালয়, যা কিনা সংবিধানকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে। এর অন্যথা ঘটানো হলে প্রধান বিচারপতি একটি ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবেন।

প্রধান বিচারপতি বাছাইয়ে জ্যেষ্ঠতা যেমনি, তেমনি নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মতামতকে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি হতে গিয়ে তিনি কারও করুণা এবং অনুগ্রহের পাত্র হবেন না।

সর্বশেষ নাগরিক তিনি নারী বা পুরুষ যাই হোন, তিনি ভাববেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়ের আসনে যিনি আসীন হবেন, তাকে বেছে নিতে অবশ্যই তার কণ্ঠ রয়েছে। প্রধান বিচারপতির ধ্যানজ্ঞান হবে সমগ্র বিচার ব্যবস্থাকে একটি অর্থপূর্ণ বাস্তবতায় রূপ দেওয়া, যাতে করে সর্বহারা তার নিজের বাড়িতে ঘুমাতে যেতে পারেন।’ কলামে উল্লেখিত এই অংশগুলো আদালত অবমাননার বিষয়ে আমলে নিয়েছে আপিল বিভাগ।

আবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা আপনাদের অভিযোগগুলো আমলে নিলাম। এরপর প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং যুগ্ম-সম্পাদক ও কলামের লেখক মিজানুর রহমান খানকে তলব করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করেন আদালত।

এর আগে সোমবার সকালে প্রথম আলোয় প্রকাশিত এ কলামটি আদালতের নজরে এনে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশের আবেদন করেন সিনিয়র আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। পরে আপিল বিভাগ তাকে পিটিশন নিয়ে আবেদন করতে বলেন। এরপর দুপুর ১২টায় তিনি পিটিশন নিয়ে গেলে আপিল বিভাগের আট সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে আদেশ দেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *