Muslim-Town-Philadelphia’s-thriving-Muslim-culture

‘মুসলিম টাউন’ ফিলাডেলফিয়ার সমৃদ্ধ মুসলিম সংস্কৃতি

১৯৬০-এর দশকে ‘আমেরিকান মুসলিম’ শব্দটির দ্বারা কোনো ইসলামিক দেশের সদস্য কিংবা একটি কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীকে বুঝাত। ওই সময়ে অস্থিতিশীল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বছরগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিস্তার ঘটেছিল।

বর্তমানে আমেরিকার মুসলমানদের প্রায় ৯ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ এবং জন্মগতভাবে আমেরিকান।

ফিলাডেলফিয়ার স্থানীয় মুসলিম নেতারা জানান, সেখানে এখনো মুসলমানদের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ।

ফিলাডেলফিয়াতে একসময় ইসলামের সুদৃঢ় ভিত্তি ছিল। ১৯৭৫ সালে এখানকার মুসলিম নেতা ইলিয়াস মুহাম্মদ মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র ওয়ারিথ দীন (ডাব্লিউ.ডি) মোহাম্মদ তার পিতার জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধর্মতত্ত্ব ভেঙে দিয়েছিলেন এবং গোঁড়া ইসলামের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

ফিলাডেলফিয়াতে সালওয়ান জর্জ এবং আমি ডাব্লিউ.ডি মোহাম্মদের অনুসারীদের প্রতিষ্ঠিত মাসজিদুল্লাহ মসজিদ। এটি শহরের অন্যতম একটি বড় মসজিদ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা এবং রাজনৈতিক প্রবৃত্তির এক অব্যাহত উৎস।

২০০৮ সালে ডাব্লিউ. ডি মোহাম্মদ মারা যান। কিন্তু তিনি আমেরিকান ইসলাম ও কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিমদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছেন। মাসজিদুল্লা এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ মসজিদগুলো কালো আমেরিকানদের মধ্যে বৈষম্য ও দারিদ্র্যের সমস্যা মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

মাসজিদুল্লাহর মাসিক ‘সাদিকা’ প্রোগ্রাম রয়েছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় দরিদ্র সদস্যেরা তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। অন্যান্য বড় আমেরিকান মসজিদের মতো এটির একটি ‘বয়েজ’ এবং ‘গার্ল’ স্কাউট প্রোগ্রাম রয়েছে এবং এটি অন্যান্য মসজিদ, চার্চ এবং সিনাগগসহ আন্তঃধর্মীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করে থাকে।

পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার একজন রাসায়নিক প্রকৌশলী এবং মাসজিদুল্লার ইমামদের একজন মালিক শাহবাজ বলেন, ‘এখানে এই সুবিধার মধ্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম রয়েছে। আমরা এখানে প্রায়ই ‘জ্যাম শো’, ভাষার শব্দ প্রতিযোগিতা, নাটক, ডিনারের আয়োজন করে থাকি এবং ইসলামিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য সব ধরনের শিক্ষামূলক সিম্পোজিয়াম, ফোরাম ইত্যাদি অনুষ্ঠান করে থাকি।’

বর্তমানে ফিলাডেলফিয়ার ৩৭টি মসজিদের মধ্যে মাত্র তিনটি মসজিদ ডাব্লিউ.ডি মোহাম্মদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। মাসজিদুল্লাহ মসজিদ ওই তিনটির একটি।

বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠী বিভিন্নভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং কেউ কেউ বলে থাকেন যে ডাব্লিউ. ডি মুহাম্মদের শিক্ষা এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। কিন্তু তার ঐতিহ্য এখনো শহরের সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে মিশে আছে এবং আধুনিক ফিলাডেলফিয়াকে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করেছে। যেটিকে মুসলিম নেতারা বলছেন যে মুসলিম অভিবাসী ও নতুন ধর্মান্তরিতদের জন্য ‘চুম্বকস্বরূপ’।

ফিলাডেলফিয়া ইনকুইটারের সম্পাদকীয়তে একবার এটিকে ‘মুসলিম টাউন’ নামে অবহিত করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, ফিলাডেলফিয়া একটি শহর যা সত্যিই অনন্য। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ ও হয়রানি সত্ত্বেও শহরটিতে তার দীর্ঘকালীন মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের পরিচয় সহজেই পাওয়া যায়।

ফিলডেলফিয়ায় জন্ম নেয়া আহমদ নুরউদ্দিন নামে স্থানীয় একজন কৃষ্ণাঙ্গ বলেন, ‘এখানকার খ্রিস্টানরাও তাদের বাচ্চাদের আয়েশা, খাদিজা, খলিলের মত আরবি নাম দিচ্ছেন।’

আহমদ নুরউদ্দিন ২০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি শহরের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।

নূরুদ্দীন তার নিজের ধর্মান্তরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘ফিলাডেলফিয়াতে অনেক মুসলমান ছিল। তাই আমি ভাবলাম: হয়তো আমি দেখতে পাব এখানে এমন কিছু আছে যা আমি ব্যবহার করতে পারি। হয়তো আমার জন্য জন্য এমন কিছু রয়েছে যা আমি পেতে চাচ্ছি।’ আর এভাবেই একদিন তিনি তার হাতে তুলে নেন পবিত্র কোরআন শরীফ।

ফিলাডেলফিয়াতে মুসলমান মালিকানাধীন প্রচুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে রয়েছে ইসলামিক ইতিহাসের একটি যাদুঘর এবং অসংখ্য মুসলিম সম্প্রদায়ের সংগঠন এবং দাতব্য উদ্যোগ।

এখানে আরো রয়েছে একজন মুসলিম সিটি কাউন্সিল সদস্য এবং একজন মুসলিম সিনেটর। শহরের বোর্ড অফ চেয়ারম্যানের কমিশনার হচ্ছেন একজন মুসলিম এবং সেখানে একজন মুসলিম পুলিশ প্রধানও রয়েছেন।

ফিলাডেলফিয়ার স্কুলগুলোতে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনকে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে এবং ২০১৭ সালে পঞ্চম বছরের মতো শহরের সিটি হলে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে বার্ষিক ইফতারের আয়োজন করা হয়।

শাহবাহ বলেন, ‘আপনি যেখানেই যান না কেন সবখানেই মুসলিমদের উপস্থিতি দেখতে পাবেন। ব্যাংক, হাসপাতাল, পুলিশ বিভাগ সব জায়গাতেই মুসলিমরা রয়েছে।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *