মুমিনুলের টানা ১১ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি

টানা ১১ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি কিংবা তারও বেশি রান করার গর্বিত মালিক হয়ে গেলেন মুমিনুল হক।

টানা ১১ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি কিংবা তারও বেশি রান করার গর্বিত মালিক হয়ে গেলেন মুমিনুল হক। টানা ১১ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি কিংবা তারও বেশি রান করার গর্বিত মালিক হয়ে গেলেন মুমিনুল হক। গম্ভীর, শেবাগ এবং কিংবদন্তী স্যার ভিভ রিচার্ডসের পাশে নাম লিখিয়ে ফেললেন বাংলাদেশের ‘ছোট ব্র্যাডম্যান’। পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টের প্রথম ইনিংসে গড়েছিলেণ ৮৩ রানের স্কোর। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিকই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তিনি।

ব্যাটসম্যানরা যখন একের পর এক আত্মাহুতি দিচ্ছিল, তখন ব্যাতিক্রম শুধু মুমিনুল হকই। কেন তাকে টেস্টের জেনুইন ব্যাটসম্যান মনে করা হয়, তার প্রমান রেখে চলছেন বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান। ৮৩ বল খেলে ৬টি বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারে ৯ম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে টানা ১১ টেস্টের কোন না কোন ইনিংসে ৫০ কিংবা তার বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।

মুমিনুলের সামনে রয়েছেন শুধু মাত্র এবি ডি ভিলিয়ার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে অধিনায়ক টানা ১২ টেস্টের কোন না কোন ইনিংসে ৫০ কিংবা তার বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তবে হাফ সেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুমিনুল হক। ইয়াসির শাহের বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে দুর্ভাগ্যের শিকার হন তিনি। খুব নীচ হওয়া ক্যাচটিও ঝাঁপিয়ে পড়ে লুফে নিলেন আসাদ শফিক। থেমে গেলেন বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান।

তবে, এ নিয়ে ১৪তম টেস্ট খেলছেন বাংলাদেশের এই বাম হাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ২৩ এবং ২৯ রানে আউট হয়েছিলেন মুমিনুল। এছাড়া বাকি ১৩টি ম্যাচেই কোন না কোন ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান রয়েছে তার। এর মধ্যে চারটিকে তিন অংকের ঘরও স্পর্শ করিয়েছেন তিনি।

২০টি কিংবা তারও বেশি টেস্ট ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্যার ডোনাল্ড (ডন) ব্র্যাডম্যানের পরই রেকর্ড বুকে আগেই নাম লিখেছিলেন বাংলাদেশের লিটল মাস্টার মুমিনুল হক। এ নিয়ে ১৪ টেস্টের ২৪ ইনিংসে মুমিনুলের টেস্ট গড় ৬০.০০ করে। স্যার ব্র্যাডম্যানের তো সেই কিংবদন্তী ৯৯.৯৪ গড়।

তবে যে রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মুমিনুল, সেটি ব্র্যাডম্যানেরও নেই। এমনকি ব্রায়ান লারা-রিকি পন্টিং-রাহুল দ্রাবিড়ের মত ব্যাটসম্যানরাও নেই এই রেকর্ডের তালিকায়।

আর মাত্র একটি টেস্ট। পরের টেস্টেও যদি মুমিনুল কোন না কোন ইনিংসে ৫০ কিংবা তার বেশি রান করতে পারেন তাহলে এ তালিকায় শীর্ষে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। আর দুই টেস্টে যদি এই কীর্তি গড়তে পারেন, তাহলে রেকর্ডের পাতায় একক স্থান পাবেন মুমিনুল হক। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স ২০১২ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ২০১৪’র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ১২টি টেস্টের কোন না কোন ইনিংসে ৫০ কিংবা তারও বেশি রান করেছেন। এর মধ্যে আবার সেঞ্চুরি রয়েছে ৬টি।

ডি ভিলিয়াসের্রর পর সর্বোচ্চ ১১ টেস্টের কোন না কোন ইনিংসে ৫০-এর বেশি রান করেছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তী স্যার ভিভ রিচার্ডস। ১৯৭৬ সালের শুরু থেকে ১৯৭৭ সালের শেষ পর্যন্ত এ ইনিংসগুলো খেলেন তিনি। রিচার্ডস ছাড়াও টানা ১১ টেস্টের কোন না কোনটিতে ৫০ এর অধিক রান রয়েছে ভারতের গৌতম গম্ভীর এবং বিরেন্দর শেবাগের। এ তিনজনের সঙ্গে নাম লেখালেন এবার মুমিনুল হকও। এছাড়া টানা ১০ টেস্টে এই কীর্তি রয়েছে ইংল্যান্ডের জন এডরিখ এবং ভারতের শচীন টেন্ডুলকারের।

মুমিনুলের পর হুমকি হিসেবে ছিলেন শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা। যদিও গত আগস্টে টানা ৯ টেস্টে এই কীর্তি গড়ার পর থমকে দাঁড়াতে হয়েছিল তাকেও। সুতারং, মুমিনুলের পেছনে আর কোন ব্যাটসম্যান আপাতত হুমকি হিসেবে নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার এভারটন উইকস, ইংল্যান্ডের আলেক স্টুয়ার্ট, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস, অস্ট্রেলিয়ার সাইমন ক্যাটিচরা টানা ৯টি টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি কিংবা তার বেশি রান করেছিলেন।

এছাড়া টানা ৮ টেস্টে এই কীর্তি গড়ার রেকর্ড রয়েছে ১০জন ব্যাটসম্যানের। যাদের মধ্যে স্যার গ্যারি সোবার্স, ভারতের ভিভিএস লক্ষ্মণ, ইংল্যান্ডের ওয়ালি হ্যামন্ড, গ্রাহাম গুচ, এন্ড্রু ফ্লিন্টফদের মত ব্যাটসম্যানরা রয়েছেন। টানা ৭ টেস্টে এই কীর্তি গড়েছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *