মীর কাসেম আলী ট্রাইব্যুনালে

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে।জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে।

রবিবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে এই জামায়াত নেতাকে পুলিশের একটি প্রিজনভ্যানে করে পুরাতন হাইকোর্ট এলাকায় ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। এরপর কাসেমকে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। এর আগে সকাল ৯টার ১১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এই জামায়াত নেতাকে নিয়ে পুলিশের প্রিজনভ্যান ট্রাইব্যুনালের দিকে রওনা হয়।

রায়ের জন্য মীর কাসেম আলীকে শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন প্রবেশ পথে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের অবস্থান।

এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তার যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে  গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষে জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি উপস্থাপন করেন

উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি যেকোনো রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে আদেশ  দেন।

যুক্তি উপস্থাপন শেষে প্রসিকিউশন দাবি করেছেন তারা মীর কাসেম আলীর অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ  দাবি করেছেন, মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আশা করছেন তিনি খালাস পাবেন।

গত বছরের ১৬ মে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমসহ প্রসিকিউশন টিম ১৪টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করেন। এবং ২৬ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্তানান্তর করা হয়।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১১ ও ১২ নাম্বার অভিযোগ ছাড়া বাকি সব অভিযোগই আটক করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

১১ নাম্বার অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তর সালের ২৮ নভেম্বর শহীদ জসিমসহ ছয়জনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

১২ নাম্বার অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। এরপর সেখান থেকে দুইজনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়। এ ছাড়া বাকি সবগুলো অভিযোগই আটক করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের  ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ তাদের জেরাও করেছেন।

গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীকে ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১১ ও ১২ নাম্বার অভিযোগ ছাড়া বাকি সব অভিযোগই অপহরণ করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

গত বছরের ৬ মে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুন্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগে তদন্ত চূড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের জমা দেয়।

২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলে মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ের (দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন) থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীকে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এরপর ১৯ জুন মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মীর কাসেমের জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ৫ জুলাই তার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ৮ জুলাই প্রসিকিউশনের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মীর কাসেম আলীকে সেভ হোমে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর পর্যায়ক্রমে তাকে সেভ হোমে নিয়ে দুইবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *