একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
জাতীয়

মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মুজিবুর রহমান ও বিচারপতি শাহীনুল ইসলাম।

বেলা ১১টার দিকে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মোট ৩৫১ পৃষ্ঠা রায়ের মধ্যে ১১ পৃষ্ঠা সারসংক্ষেপ ট্রাইব্যুনালে পড়ে শোনানো হয়।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে বেলা পৌনে ১১টার দিকে মীর কাসেম আলীকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এর পরপরই বিচারপতিরা এজলাসের আসন গ্রহণ করেন।

রায় ঘিরে সকাল সোয়া নয়টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মীর কাসেম আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। সেখানে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অপহরণ, গুম, খুন ও নির্যাতনসহ ১৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্য ৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হচ্ছে

১. মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী ১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর ওমরুল ইসলাম চৌধুরীকে চাকতাইঘাট থেকে অপহরণ করা হয়। এর পর তাকে কয়েক দফায় চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেল, পাঁচলাইশ থানার সালমা মঞ্জিল এবং একটি চামড়ার গুদামে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

২. আসামির নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর চাকতাই থেকে লুৎফর রহমান ফারুককে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।

৩. ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর আসামির নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে তার কদমতলার বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

৪. ডাবলমুরিং থানার সালাহউদ্দিন খানকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে আলবদর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন।

৫. ২৫ নভেম্বর আনোয়ারা থানার আবদুল জব্বারকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে মীর কাসেম আলীর সামনে হাজির করা হয়। এর পর তাকে নির্যাতন করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

৬. চট্টগ্রাম শহরের একটি চায়ের দোকান থেকে হারুনুর রশিদ নামে একজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেল এবং সালমা মঞ্জিলে নির্যাতন করা হয়।

৭. মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবক ডাবলমুরিং থানা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ দুজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

৮. ২৯ নভেম্বর রাতে নুরুল কুদ্দুসসহ চারজনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন।

৯. ২৯ নভেম্বর সৈয়দ মো. এমরানসহ ৬ জনকে অপহরণ ও নির্যাতন।

১০. আসামির নির্দেশে মো. যাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরণ ও নির্যাতন।

১১. শহীদ জসিম উদ্দিনসহ ৬ জনকে অপহণের পর নির্যাতন করা হয়। এতে জসিমসহ পাঁচজন নিহত হন এবং পরে লাশ গুম করা হয়। ঈদের পরদিন জসিমকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

১২. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। এতে দুজন নিহত হন এবং তাদের লাশ গুম করা হয়।

১৩. সুনীল কান্তিকে অপহরণ ও নির্যাতন এবং

১৪. নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ ও নির্যাতন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *