ডুবো ভাস্কর্যের জাদুঘর ‘মিউজিও আটলান্টিকো’
আন্তর্জাতিক

ডুবো ভাস্কর্যের জাদুঘর ‘মিউজিও আটলান্টিকো’

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বেশ খানিকটা দূরে সাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি স্প্যানিশ দ্বীপের নাম ল্যাঞ্জারাটো (Lanzarote)। দ্বীপের গঠনে আগ্নেয়গিরির রেখে যাওয়া ছাপ অনেক বেশি স্পষ্ট। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় ঝকমক করে জ্বলে দ্বীপটি, আটলান্টিক মহাসাগরের সবুজ কাঁচের মত পানির ফোমের মত সাদা ঢেউ ভাঙে অবিরত দ্বীপের চারপাশ দিয়ে। দ্বীপটি এমনিতেই চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চিহ্ন বহন করছে কিন্তু দ্বীপের খ্যাতি এখন আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়বে এমন একটা কারণে যেটা কেউ কল্পনাও করেনি। কারণ খুব সম্প্রতি জীবন্ত এবং অলৌকিক দেখতে কিছু ভাস্কর্য ফেলা হয়েছে দ্বীপের চারপাশের সাগরের তলানিতে।

মিউজিও আটলান্টিকো (Museo Atlantico Lanzarote) হচ্ছে ইউরোপ এবং আটলান্টিক মহাসাগরের প্রথম ডুবো ভাস্কর্যের জাদুঘর। এই জাদুঘরে থাকবে ৪শ’ ভাস্কর্য। এগুলোর প্রত্যেকটি ভাস্কর্য সৃষ্টি করেছেন ব্রিটিশ শিল্পী জেসন ডিকায়রেস টায়লর (Jason deCaires Taylor)। এই শিল্পী এর আগেও মেক্সিকো, বাহামাস এবং থেমসে একই ধরনের জাদুঘরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। আগের কাজগুলোর মতো টায়লরের এবারের কীর্তিও জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। কারণ তার সৃষ্ট ভাস্কর্যের পটভূমি নেয়া হয়েছে ইতিহাস, প্রকৃতি এবং মানুষের জীবন থেকে।

যেমন ‘দ্য রাফট অব ল্যামপেডুসা’ ভাস্কর্যের কথা ধরা যাক। এটা তৈরি করা হয়েছে ফরাসি রোমান্টিক পেইন্টার থিওডর গেরিকোল্টসের আঁকা বিখ্যাত তৈলচিত্র ‘দ্য রাফট অব মেডুসা’ থেকে। এই তৈলচিত্রের নাবিকরা জাহাজ ডুবির পর যে পরিত্যাগ এবং অসহায়ত্বের স্বীকার হয়, সেই দৃশ্যের সাথে বর্তমান শরণার্থী সঙ্কটে পরিত্যাক্ত মানুষের অসহায়ত্বের একটা সাদৃশ্য টেনে এটি সৃষ্টি করেছেন টায়লর।

তারপর ‘দ্য রুবিকন’ নামের আরেকটি ভাস্কর্যে দেখা যায় ৩৫টি মনুষ্য মূর্তি হাঁটার মাঝখানে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। এখানে রূপক অর্থে বোঝানো হচ্ছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং এমন একটা পরিস্থিতিতে মানুষগুলো আটকে পড়েছে যেখান থেকে তারা চাইলেও ফিরতে পারছে না। মানুষগুলো তাদের যাত্রার মাঝপথে হঠাৎ থেমে গেছে।

প্রকৃতিকে সংরক্ষণের জন্য শিল্পের বিষয়বস্তু নির্ধারণ টায়লরের কাছে নতুন কিছু নয়। যে কারণে তিনি তার এই ভাস্কর্যগুলো তৈরি করেছেন সামুদ্রিক পরিবেশে উপযুক্ত পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট দিয়ে। তার এই শিল্প মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ককে উপস্থাপন করছে। সেই সাথে জীবনের সাথে শিল্পের একটি প্রশান্ত সঙ্গতিও রয়েছে। তাছাড়া সামুদ্রিক প্রাণীরা যাতে সহজেই এই শিল্প কর্মে আকৃষ্ট হয় সেইভাবেই তিনি নকশা করেছেন। তাহলে ভাস্কর্যের গায়ে দ্রুত তৈরি হবে শেওলা। ভাস্কর্যেরা হয়ে উঠবে আরও জীবন্ত, অলৌকিক এবং পরাবাস্তব।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *