আগামী ডিসেম্বর থেকে শেয়ার কেনাবেচায় ‘মার্কেট লট’ প্রথা থাকছে না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নতুন অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘ডিএসই-ফ্লেক্সটিপি’ চালু করতে যাচ্ছে।
পুঁজিবাজার

ডিসেম্বর থেকে শেয়ার কেনাবেচায় ‘মার্কেট লট’ থাকছে না

আগামী ডিসেম্বর থেকে শেয়ার কেনাবেচায় ‘মার্কেট লট’ প্রথা থাকছে না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নতুন অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘ডিএসই-ফ্লেক্সটিপি’ চালু করতে যাচ্ছে।আগামী ডিসেম্বর থেকে শেয়ার কেনাবেচায় ‘মার্কেট লট’ প্রথা থাকছে না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নতুন অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘ডিএসই-ফ্লেক্সটিপি’ চালু করতে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় শেয়ারের মার্কেট লট হিসাব না রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) এ ব্যাপারে প্রস্তুতি রয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে বিষয়টি কার্যকর করতে চায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

মার্কেট লট প্রথা উঠে গেলে বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত যে কোনো কোম্পানির একটি শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে পারবেন। মার্কেট লট প্রথা থাকার কারণে বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি) ৫০টি শেয়ারে এক লট কিনতে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ টাকার প্রয়োজন। এতে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য অনেক সময়ই তাত্ক্ষণিক বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকে না। লট প্রথা উঠে গেলে সহজেই বিনিয়োগকারীরা যে কোনো কোম্পানির একটি শেয়ার কেনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকানা নিতে পারবেন। এছাড়া বর্তমানে অডলট শেয়ার নিয়ে যে ভোগান্তি রয়েছে, সেটিরও নিরসন হবে। অবশ্য সেকেন্ডারি বাজারে লটপ্রথা উঠে গেলেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে তা বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘ডিসেম্বরে আমরা নতুন অটোমেটেড ট্রেডিং প্লাটফর্ম চালু করতে যাচ্ছি। অত্যাধুনিক এ সফটওয়্যার চালুর সময়ই আমরা মার্কেট লটপ্রথা তুলে দেয়ার পরিকল্পনা করছি। এর আগে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে অটোমেটেড ট্রেডিং রেগুলেশন, ১৯৯৯ সংশোধন করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ অটোমেটেড ট্রেডিং রেগুলেশন, ১৯৯৯-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী, ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল নিয়মিতভাবে মার্কেটে প্যারামিটারগুলো পর্যবেক্ষণ করবে। ওই কাউন্সিল টিক সাইজ, মার্কেট লট, সর্বনিম্ন ব্লক সাইজ, সর্বনিম্ন ক্রয়াদেশ, সর্বশেষ দরের সময়, সর্বশেষ দরের লেনদেন, সার্কিট ব্রেকার, সার্কিট ফিল্টার, বাজার নিরাপত্তার হার, সূচক গণনার সময় নির্ণয় করবে। পাশাপাশি তা বিএসইসিকে অবহিত করবে। আইন অনুযায়ী, কমিশনকে অবহিত করে বা সম্মতি নিয়ে মার্কেট লটপ্রথা তুলে দেয়া যাবে।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজিদ হোসেন বলেন, ‘কমিশনের অনুমোদন পেলে আমরাও মার্কেট লটপ্রথা তুলে দিতে চাই। এ বিষয়ে আমাদের যথাযথ প্রস্তুতিও রয়েছে। এ প্রথা তুলে দিলে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীরা সহজেই যে কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন, তেমনি অডলট নিয়ে যে ভোগান্তি হচ্ছে, তারও নিরসন হবে।’

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য কত শেয়ারে মার্কেট লট হবে, তা নির্ধারণ করা নেই। সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৫০০ শেয়ার নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির মার্কেট লট রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রতি পাঁচটি শেয়ারে একটি মার্কেট লট রয়েছে। এছাড়া অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার আগে স্কয়ার ফার্মার এক শেয়ারে একটি মার্কেট লট ছিল। তবে অভিহিত মূল্য বিভাজনের পর প্রতি ১০টি শেয়ারে এর মার্কেট লট নির্ধারণ হয়েছে। এর বাইরে অধিকাংশ কোম্পানির মার্কেট লট ৫০ থেকে ৫০০ শেয়ারে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এদিকে নতুন আইপিওর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারসংখ্যা নয় বরং টাকার হিসেবে মার্কেট লট নির্ধারণ করে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কমিশন আইপিওর মার্কেট লট ৫ হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। এক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে কোনো কোম্পানি শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করতে চাইলে প্রতি ৫০০ শেয়ারে একটি মার্কেট লট নির্ধারণ করে দেয় কমিশন। বিশেষ ক্ষমতা আইন টুসিসি প্রয়োগ করে এ মার্কেট লট নির্ধারণ করে দেয় বিএসইসি। আর যদি আইপিওতে প্রিমিয়াম নেয় সেক্ষেত্রে কমসংখ্যক শেয়ার নিয়ে মার্কেট লট নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি ইফাদ অটোর আইপিওতে প্রতি ২০০ শেয়ারে একটি মার্কেট লট নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন। তবে আইপিওতে মার্কেট লটপ্রথা চালু থাকলেও সেকেন্ডারি বাজারে তা উঠে যাবে। অর্থাত্ ডিসেম্বরে যদি লটপ্রথা উঠে যায়, সেক্ষেত্রে আইপিওতে পাওয়া শেয়ারের লট ভেঙে সর্বনিম্ন একটি শেয়ার অথবা একসঙ্গে সব শেয়ার বিক্রি করা যাবে।

তবে মার্কেট লট উঠে গেলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মাত্র একটি শেয়ার নিয়েই উত্সাহী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির এজিএমে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে লাখ লাখ শেয়ারহোল্ডারের উপস্থিতিতে এজিএম সভা ব্যাহত হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এজিএমে যোগদানের জন্য ন্যূনতম শেয়ার থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ হতে পারে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ট্রেডিং প্লাটফর্ম চালুর জন্য গত মার্চে নাসডাক ওএমএক্স ও ফ্লেক্সট্রেড সিস্টেমস পিটিই লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে ডিএসই। ওই মাস থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি নতুন অটোমেটেড ট্রেডিং প্লাটফর্ম সরবরাহের কাজ শুরু করে। অটোমেটেড ট্রেডিং সিস্টেমের মেচিং ইঞ্জিন নাসডাক ওএমএক্স ও ব্রোকিং হাউসের জন্য অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ফ্লেক্সট্রেড সিস্টেমস পিটিই লিমিটেড কোম্পানি সরবরাহ করছে। নাসডাক ওএমএক্সের মেচিং ইঞ্জিন এক্স-স্ট্রিম বিশ্বের খ্যাতনামা ২৫টি স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবহূত হয়। ডিএসই এটির সর্বশেষ সংস্করণ এক্স-স্ট্রিম আইনেট ব্যবহার করতে যাচ্ছে, যা কিনা বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত গতির মেচিং ইঞ্জিন। এ সফটওয়্যারে সিঙ্গেল ইউনিট শেয়ার কেনাবেচার সুবিধা থাকবে। অন্যদিকে ফ্লেক্সট্রেডের মোত্তাই পৃথিবীর সেরা অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলোর মধ্যে একটি।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *