বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয়, ৩৬৫ দিনই এ দেশের মানুষের মানবাধিকার হরণের দিবস।
জাতীয়

‘৩৬৫ দিনই মানুষের মানবাধিকার হরণের দিবস’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন,  বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয়, ৩৬৫ দিনই এ দেশের মানুষের মানবাধিকার হরণের দিবস।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এ বছরের মানবাধিকার দিবসের স্লোগান হচ্ছে- বছরের ৩৬৫ দিনই মানবাধিকার দিবস। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয়, ৩৬৫ দিনই এ দেশের মানুষের মানবাধিকার হরণের দিবস।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে।’

জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১টা ৫ মিনিটে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ সব কথা বলেন। দলটির দফতর ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এতে স্বাক্ষর করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ আজও একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছে। অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। অসংখ্য মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের সব জাতির সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকেরা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাকে তাচ্ছিল্য করে জনগণের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বরোচিত আক্রমণ। শুধুমাত্র ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য জনমতকে অগ্রাহ্য করতে এই সকল গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না। তাই দুঃশাসন কায়েম করতে তারা প্রতিবাদী জনগণের ওপর চালায় পৈশাচিক উৎপীড়ন।’

খালেদা বলেন, ‘যারা সত্য উচ্চারণ করতে চায় তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ নাগরিক সমাজের যেই হোক; তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। কারাবাস, শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ জখম এবং হত্যারও শিকার হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশে শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাই নয়; সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোরই কোনো নিরাপত্তা নেই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্তহত্যা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দলনিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশোর আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে এবং অনেককে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই মুহূর্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কণ্ঠের আওয়াজ তুলে বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

খালেদা জিয়া বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক মানবাধিকারহারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানান। যারা নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে ক্ষমতাসীন স্বেচ্ছাচারী গোষ্ঠীর নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *