রাষ্ট্র কী মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে নজর দেবে?
মতামত

রাষ্ট্র কী মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে নজর দেবে?

রাষ্ট্র কী মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে নজর দেবে? ফজলে এলাহী

‘জঙ্গি’ শব্দটা গত প্রায় ২ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরাট এক হটকেক হয়ে আছে। আমাদের অসুস্থ রাজনীতির নোংরা খেলার কারণে আজ সত্যি সত্যি ‘জঙ্গি’ বা ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী নিজেদের এই দেশের রাজনীতির অংশে জড়ানোর সুযোগ পেয়ে গেছে।

অসাম্প্রদায়িক ও ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনার নামে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী এই জঙ্গি বা ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থানের পেছনে শুরু থেকেই কলকাঠি নেড়েছিল যা সকলের জানা। সেই গোষ্ঠীটি মুখে যতই জঙ্গি দমনে আন্তরিক বলে না কেন আড়ালে আবডালে আজ আবার দেশকে ‘জঙ্গিরাষ্ট্র’ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে যার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলো । একটি উগ্রবাদী সংগঠন সবসময় চায় প্রতিপক্ষ হিসেবে আরেকটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান যাতে করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য শান্তিপ্রিয় মানুষদের কাছে সেই সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠার সুযোগ পায় । এই দেশে একসময় ধর্মীয় উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী ছিল না ঠিক কিন্তু আজ কিছুটা হলেও সেই জঙ্গি গোষ্ঠী এই দেশে আমাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি আপনাদের আমাদের সমাজের অন্য একটি বিষয়ে কিছু কথা বলবো যাদের নিয়ে ভাবার সময় আজ আমাদের এসেছে।

‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ শান্তি অথচ সেই ইসলামকেই অশান্তি রুপে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী। ইসলাম কখনও কোন উগ্রবাদীতার সমর্থন করেনা। রাষ্ট্র বেড়ে উঠা জঙ্গিদের দমন নীতিতে ব্যস্ত কিন্তু পাইপলাইনে থাকা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর নীরব শিকারে পরিণত হচ্ছে যারা তাঁদের নিয়ে ভাবে না। তাঁদেরকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কাউন্সিলিং বা সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিলে ও বেঁচে থাকার জন্য তাঁদের অভাব অনটন দূর করার বিকল্প পথ তৈরি করে দিলে,সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে ঐ শিশু কিশোররা ভবিষ্যতে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের ইসলামের শত্রু বলে প্রতিহিত করার সাহস পেতো।

সেই শুরু থেকেই ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী তাঁদের অনুসারি হিসেবে প্রথমত বেছে নিচ্ছে আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোর কিশোর তরুনদের। কারণ ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মীয় গুরুরা খুব সহজেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করতে পারেন আর মাদ্রাসার অবুঝ কিশোররা তাঁদের গুরুদের কথা বিশ্বাস করতে ও মানতে বাধ্য থাকে। তাঁদের কাছে ধর্মীয় গুরু বা মাদ্রাসার শিক্ষকেরা সম্মান ও বিশ্বাসের দিক দিয়ে অনেক উঁচু স্থানে থাকে সবসময়। যে কারণে তাঁরা মনে করে গুরু যা বলেছেন, যা চাচ্ছেন সেগুলো সঠিক। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা হাফিজিয়া মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসাগুলো আজ ধর্মের দোহাই দিয়ে ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেয়ার জন্য নিরীহ অবুঝ শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে যার ভয়াবহ খেসারৎ দিতে হচ্ছে ও হবে রাষ্ট্রকে। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে নীরবে বেড়ে উঠা এই ভবিষ্যৎ জঙ্গিদের দমনে কি রাষ্ট্র মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করে দিবে? উত্তরে বলবো অবশ্যই না , না এবং না। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করার পক্ষে আমি নই এবং এটা সমাধানের কোন পথ নয় বরং আত্মঘাতী ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা হলো মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করা যার ফলে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হওয়ার সহজ পথ খুঁজে পাবে।

উপায় অবশ্যই আছে যার সমাধান এই করতে গেলে আপনাকে অনেক গভীরে যেতে হবে যেখানে গেলে দেখবেন এই রাষ্ট্র ও সমাজ একদিকে যেমন শক্তি দিয়ে জঙ্গি দমন করছে ঠিক তেমনি অন্যদিকে চিরাচরিত উদাসীনতায়, অবজ্ঞা ও অবহেলায় জঙ্গি তৈরিতে পরোক্ষভাবে অবদান রাখছে।

গ্রামগঞ্জে, শহরে নগরে যত মাদ্রাসা আছে তার সবগুলোই চলে কারো না কারো অনুদানে এবং সেখানে যারা ভর্তি হয় তাঁরা সকলেই আসেন খুব সাধারন নিম্নবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা যাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা গোষ্ঠী ‘লিল্লাহখোর’ বলে ঠাট্টা তামাশা করে। মজার ব্যাপার হলো সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুসলিমের মৃত্যু হলে দোয়া দুরুদ পাঠ করার জন্যই সেই ‘লিল্লাহখোর’ মাদ্রাসা ছাত্রদের ডাক পড়ে সবার আগে। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের যাদের সামর্থ্য নেই সন্তানকে সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিত করার সেই সকল ধর্মপ্রাণ পরিবারগুলো ধর্ম ও সমাজের খেদমতে করার আশায় সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠায় ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে । সেইসব সাধারন পরিবারের শিশু, কিশোরদের ধর্মীয় গুরুরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কানে কানে অনবরত কানপড়া দেয় যে ‘তুমি হলে এই সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যসব সাধারন মানুষগুলোর চেয়ে আলাদা যাদের মূল্য এই রাষ্ট্র ও সমাজ কখনও দিবে না’।

ফলে শিশুকাল থেকেই মাদ্রাসার ছাত্ররা অন্য ৮/১০ টি শিশুর চেয়ে মন মানুসিকতায় ও চিন্তা চেতনায় নিজেকে আলাদা ভাবতে শিখে । সমাজের ৮/১০ টা শিশুদের সাথে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয় যা একসময় সামাজিকভাবেও দূরত্ব সৃষ্টি করে । মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মনে করে এই রাষ্ট্র এই সমাজ তাঁদেরকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে জানে না বা কোনদিন দিবে না । ফলে নির্দিষ্ট একটি গণ্ডির মধ্যেই তাঁর বিচরণ । একটা শিশু ৬/৭ বছর থেকে কোঠর শৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে উঠে যেভাবে ৩০ পারা কোরআন শরিফ ১১/১২ বছর বয়সেই মুখস্থ করে ফেলে তা এক কথায় অবিশ্বাস্য । কারণ সে যে ভাষাটি মুখস্থ করে তা তাঁর মাতৃভাষা নয় , সাধারন স্কুল কলেজে মাতৃভাষা বাংলায় রচিত কোন একটি বই সম্পূর্ণ মুখস্থ কোন মেধাবি ছাত্রছাত্রীও করতে পারেনা সেখানে আরবি ভাষায় রচিত বিশাল একটি ধর্মীয় পুস্তক ১১/১২ বছর বয়সেই সম্পূর্ণ মুখস্থ করা চাট্টিখানা কথা নয় ।

তাহলে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই মানতে হবে ঐ শিশু কিশোররা মেধাবী যারা নির্ভুল ভাবে ৩০ পারা কোরআন শরীফ তাঁদের মস্তিস্কে সংরক্ষন করে রেখেছে যাদের ছাড়া রমজানের মাসের তারাবী পড়ার কথা আপনি চিন্তাও করতে পারেন না। অথচ সেইসব মেধাবী শিশু কিশোররা যখন তাঁদের শিক্ষা শেষ করে বেরোয় তখন তাঁরা দেখে এই রাষ্ট্র, এই সমাজে বছরে রমজানের একমাস ছাড়া বাকী সময়ে তাঁদের কোন কদর নেই, নেই ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ।

তাঁদেরকে জীবনধারনের জন্য কোন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও পরবর্তীতে ইমাম হয়ে খুব অল্প পয়সায় জীবনধারন করার চেয়ে আর কোন পথ খোলা থাকে না ফলে সারাজীবন দারিদ্র্যর কষাঘাতে ,অভাব অনটনের মধ্যেই বিরল ও প্রখর মেধাবী কোরআনে হাফেজে সাহেবের মৃত্যু হয় যার হাজার হাজার উদাহরন এই দেশে আছে ।

৯০% জনগোষ্ঠীর ধর্ম ‘ইসলাম’ এই দেশকে করেছে বিশ্বের ৩য় বৃহৎ মুসলিমদের দেশ অথচ এই মুসলিম রাষ্ট্রের সমাজে অন্যতম অবহেলিত, দারিদ্র্যপীড়িত অন্যতম গোষ্ঠী হলো মাদ্রাসায় পড়া ধর্মীয় শিক্ষিত গোষ্ঠীটি । এই রাষ্ট্র ,এই সমাজ কোনদিন তাঁদের অভাব অভিযোগ শুনে না বরং তাঁদের আড় চোখে দেখাটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারন শিক্ষিত সমাজের রীতিনীতি যার সুযোগটার অপব্যবহার করছে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী । অথচ ঐ মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যদি রাষ্ট্র কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করে মাদ্রাসার ছাত্রদের মুয়াজ্জিন, ইমাম হয়ে জীবনধারনের পাশাপাশি বাড়তি আয় রোজগার অথবা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করার সুযোগ দিতো তাহলে কিছুটা হলেও আলাদাভাবে বেড়ে উঠা ঐ মাদ্রাসার ছাত্রদের অভাব দূর হতো । তাঁরাও সুযোগ পেতো সাধারন সমাজের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ করে দেশ গঠনের সুযোগ ।

স্বার্থান্বেষী ধর্মীয় গুরুরা যে কানপড়া দিয়ে ওদের দীক্ষিত করেছে সেটা কিছুটা হলেও ভুল প্রমাণ করার সুযোগ এই সমাজ ,এই রাষ্ট্র পেতো। হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা থেকে পাশ করা ছাত্রদের যদি পরবর্তীতে সাধারন শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া যেতো, যদি সরকারি স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের পড়ার সুযোগ দেয়া যেতো তাহলে তাঁরা ধর্মীয় বিধিবিধানে কট্টরপন্থি না হয়ে সমাজের ৮/১০ জন মানুষের সংস্পর্শে এসে আরও আলোকিত হতে পারতো।

সেই সুযোগ এই সমাজ তাঁদের দেয়নি বরং দিন দিন তাঁদের সাথে বিরাট দূরত্ব তৈরি করা হচ্ছে এবং তাঁদেরকে সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে যার ফলশ্রুতিতে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আরও সহজে তাঁদের মগজ ধোলাই করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে একদিকে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত জঙ্গিদের শক্তি দিয়ে দমন করলেও পাইপলাইনে আরও অসংখ্য জঙ্গি নতুন ভাবে বেড়ে উঠার রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছে । ধর্মীয় উগ্রবাদীরা দরিদ্র পরিবারের সেইসব অবুঝ শিশু কিশোরদের পেছনে কাড়ি কাড়ি অর্থ ঢেলে ও মগজধোলাই করে তাঁদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে, জেহাদের নামে ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করছে ।

অবুঝ শিশু কিশোররা তাঁদের পূর্বসূরিদের জীবন থেকে বুঝতে পারে যে এই দেশে ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষগুলোর কোন দাম নেই যতক্ষণ না পর্যন্ত এই দেশকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা না যাবে ।

মাদ্রাসার শিশু কিশোররা যে তাঁদের ধর্মীয় গুরুদের কথায় কতখানি বিপজ্জনক পথে পা বাড়াতে পারে তার সর্বশেষ উদাহরন হচ্ছে ২০১৩ সালের শাহবাগ গণজাগরণ বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনের আন্দোলন যেখানে তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাষ্ট্রশক্তি এবং যার খেসারৎ হিসেবে অনেকগুলো প্রান ঝরে গেছে যার সঠিক হিসাব আজো আমরা জানিনা। অথচ ঐ একই রাষ্ট্রশক্তির প্রত্যক্ষ মদদে অসাম্প্রদায়িকতার আড়ালে কট্টরপন্থি আরেকটা গোষ্ঠী যখন ‘ধর্ম’কে রাষ্ট্রের বিপক্ষে দাড় করানোর সুযোগ নিয়েছিল তখনই তাঁদের রুখতে হেফাজতে ইসলাম নামের সেই ধর্মীয় উগ্রবাদীর উত্থান ঘটে যার নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারির ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা শফি।

শফি সাহেব ও তার অনুসারীরা বলেছিলেন তাঁরা উগ্রবাদী নন কিন্তু তাঁদের দাবী না মানায় তাঁরা ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়ে দমাতে রাষ্ট্রশক্তিকে রাতের আঁধারে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেদিন হেফাজত ইসলাম সংগঠনটির সমর্থন আদায়ের জন্য অসাম্প্রদায়িক চেতনার গোষ্ঠীটিও অনেক চেষ্টা ,তদবির করেছিলেন যা ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্র সেদিন সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেছিল। অর্থাৎ সময়কালে অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীটিও ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর ছায়াতলে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ধর্মীয় উগ্রবাদীরা তাঁদের অনুসারি বাড়ানোর জন্য মাদ্রাসা ছাত্রদের লালন পালনের ও জীবনধারনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ দেয় অর্থাৎ সবচেয়ে দুর্বল জায়গাটিতে উগ্রবাদী গোষ্ঠী আঘাত করে যার ফলে ওদের জঙ্গি হওয়া ছাড়া আর বিকল্প কোন পথ নেই। ওরা মনে করে জঙ্গি হওয়া মানে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করা অথচ একবারও নিজেদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখে না যে ধর্মের কোথাও এই ধরনের জিহাদ বা সংগ্রামের অস্তিত্ব নেই ।

এই দেশ ইহুদীদের নয় যেখানে মুসলিমরা দিনের পর দিন মার খাচ্ছে যা প্রতিরোধের জন্য জিহাদ করতে হবে। এইদেশ পরিচালনা থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে মুসলিমরাই প্রতিনিধিত্ব করছে। এই দেশের রাজধানী ‘মসজিদের নগরী’ বলে পৃথিবী বিখ্যাত নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত , এই দেশে প্রকাশ্য আযান দেয়া থেকে শুরু করে ইসলামের সব বিধিবিধান সাধারন মুসলিমরা নির্বিঘ্নে পালন করে আসছে ও করবে আগামিতেও যা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই ।

এইদেশে প্রতিবছর হজ্বের পর ২য় সর্ববৃহৎ জামাত বিশ্বইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ধ্বংসাত্মক জিহাদের কোন প্রয়োজন আজো নেই ও আগামীতেও হবে না এই কথাগুলো বুঝার বা অনুধাবন করার সুযোগ ঐ মাদ্রাসার ছাত্ররা পায় না যার ফলে এরা ভুল পথে পা বাড়াতে বাধ্য।

‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ শান্তি অথচ সেই ইসলামকেই অশান্তি রুপে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী। ইসলাম কখনও কোন উগ্রবাদীতার সমর্থন করেনা। রাষ্ট্র বেড়ে উঠা জঙ্গিদের দমন নীতিতে ব্যস্ত কিন্তু পাইপলাইনে থাকা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর নীরব শিকারে পরিণত হচ্ছে যারা তাঁদের নিয়ে ভাবে না। তাঁদেরকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কাউন্সিলিং বা সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিলে ও বেঁচে থাকার জন্য তাঁদের অভাব অনটন দূর করার বিকল্প পথ তৈরি করে দিলে , সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে ঐ শিশু কিশোররা ভবিষ্যতে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের ইসলামের শত্রু বলে প্রতিহিত করার সাহস পেতো। কারণ এই দেশের সাধারন মুসলিমরা কোনদিন উগ্রবাদীর পক্ষে ছিলো না এবং আজো নেই । দরকার শুধু একটু সুনজর, রাষ্ট্র কী মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে নজর দেবে?

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *